গলে স্পিন-সহায়ক পিচ বানিয়েও লাভ হয়নি। বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম টেস্টে ভারতের কাছে ১৬৫ রানে হারতে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। তার উপর কলম্বোয় নিয়মিত তিন অভিজ্ঞ ব্যাটার দীনেশ চান্ডিমল, কুশল মেন্ডিস এবং পাথুম নিশঙ্কাকে পাবে না তারা। সেই কারণেই দ্বিতীয় টেস্টে (IND vs SL 2nd Test) কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না আয়োজকেরা। স্পিন-সহায়ক পিচের বদলে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট তৈরির পরিকল্পনা করছে শ্রীলঙ্কা।
কলম্বোয় দ্বিতীয় টেস্ট ড্র হলেও সিরিজ হারবে শ্রীলঙ্কা। ফলে জিততেই হবে ধনঞ্জয় ডি সিলভাদের। প্রথম টেস্টের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁদের উপলব্ধি, ভারতের বিরুদ্ধে স্পিন পিচ তৈরি করে বাড়তি সুবিধা পাওয়া কঠিন। ভারতীয় দলে রয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, মানব সুথার এবং সারাংশ জৈনের মতো স্পিনার। কুলদীপ ছাড়া বাকিরা ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে পারেন।
আরও পড়ুন:
গলে স্পিন-সহায়ক পিচ তৈরির অন্যতম কারণ ছিল ভারতীয় ব্যাটারদের দুর্বলতা। সাম্প্রতিক অতীতে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সমস্যায় পড়েছিলেন টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটাররা। সেই কথা মাথায় রেখেই প্রথম টেস্টের উইকেট তৈরি করেছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু টস হেরে শুরুতেই বিপাকে পড়ে যায় তারা। তাই দ্বিতীয় টেস্টে ‘ব্যালান্স উইকেট’ চাইছে তারা। যেখানে ব্যাটারদের পাশাপাশি বোলাররাও সাহায্য পাবেন। পেসারদের জন্যও কিছুটা সুবিধা থাকবে। একই সঙ্গে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং যাতে অতটা কঠিন না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে চাইছে শ্রীলঙ্কা।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তা সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, “এই মুহূর্তে আমাদের লক্ষ্য ভারসাম্যপূর্ণ পিচ তৈরি করা। যেখানে ব্যাটার এবং বোলার সকলে সুবিধা পাবে। গলের মতোই ভালো টেস্ট ম্যাচের উপযুক্ত পিচ তৈরি করতে চাইছি।” তবে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের না পাওয়াটাও যে বড় ধাক্কা, তা মেনে নিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, “দ্বিতীয় টেস্টে আমরা দীনেশ চান্ডিমল, কুশল মেন্ডিস এবং পাথুম নিশঙ্ককে পাব না। তরুণ ব্যাটারদের নিয়ে খেলতে হবে আমাদের। এটা ওদের কাছেও বড় সুযোগ।” পিচের চরিত্র নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের প্রয়োজনের উপর নির্ভর করবে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্তা। তাঁর বক্তব্য, “পিচ ঠিক কেমন হবে, সেটা অনেকটা নির্ভর করবে দল কী চাইছে তার উপর। দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজ ড্র করার জন্য সেরা সুযোগ করে দিতে চাই দলকে।”
কলম্বোর মাঠে অবশ্য একসময় দুর্দান্ত রেকর্ড ছিল শ্রীলঙ্কার। ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত এই মাঠে ১২টি টেস্টে অপরাজিত ছিল তারা। এর মধ্যে জিতেছিল ছ’টি, ড্র হয়েছিল বাকি ছ’টি। কিন্তু গত এক দশকে সাতটি টেস্টের মধ্যে তিনটিতে জয়, চারটিতে হার। ভারতের বিরুদ্ধে এই মাঠে শেষ দু’টি টেস্টেই হেরেছে শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ড এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও দু’টি করে টেস্টে পরাজিত হয়েছে তারা। এই মাঠে শ্রীলঙ্কার শেষ জয় ২০২৫ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। তার আগে ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে জয় পেয়েছিল দ্বীপরাষ্ট্র। ভারতের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রথম ইনিংসে এই মাঠেই একাধিকবার ৪০০-র বেশি রান তুলেছে টিম ইন্ডিয়া। সেই কারণেই সিরিজ বাঁচানোর লক্ষ্যে কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটতে চাইছে না শ্রীলঙ্কা। শুভমনদের সামনে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং-বান্ধব, ব্যালান্স উইকেটই হতে চলেছে তাদের ভরসা। তবে সেখানেও চিন্তা দূর হচ্ছে না। শ্রীলঙ্কান তরুণ ব্যাটাররা কতটা চাপ সামলাতে পারেন, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদে শপথ মির্জা ফখরুল, লাল গোলাপ তুলে দিলেন তারেক
-
বিয়ের আগেই দুই সন্তান, ৮ বছর সহবাসের পর চুপিসারে বিয়ে করলেন অর্জুন রামপাল-গ্যাব্রিয়েলা
-
মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার ফল, দুধ লাগত দিনে ৪০ লিটার! টুলুর খাদ্যাভাস নিয়ে জোর চর্চা
-
হাতে লেগে শিখদের রক্ত! এখনও সাজ্জান কুমারের পাশে কংগ্রেস, নিন্দা আপ-বিজেপির
-
পঠন-পাঠনে ক্ষতি! জনগণনার কাজে শিক্ষক নিয়োগে নতুন নির্দেশ হাই কোর্টের