শুভায়ন চক্রবর্তী, অ্যাডিলেড: সিটি অফ চার্চেস। অস্ট্রেলিয়ার শহর অ্যাডিলেডের একটা ডাকনাম আছে। উপরে যা লিখলাম তা। সিটি অফ চার্চেস। অর্থাৎ, গির্জার শহর। কেন, খুব সহজেই অনুমেয়। অ্যাডিলেড জুড়ে গির্জায় আধিক্য। কিন্তু সে তো সাধারণ সময়। ভারত না এলে। ভারতীয় টিম ও দীপাবলির যুগলবন্দি সৃষ্টি না হলে। সোমবার ভারতীয় টিমের আগমনে কী ঘটছে না ঘটছে জানার জন্য আডিলেড বিমানবন্দরে গিয়ে বুঝলাম, এক রতের জন্য হলেও শহরটার নাম বদল হয়ে গিয়েছে। সিটি অফ চার্চেস নয়। অ্যাডিলেড এখন সিটি অফ লাইটস।
পারথে শুভমান গিলের ভারতের ওয়ান ডে সিরিজের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। সাত উইকেটে প্রথম ওয়ানডে হেরে গিয়েছে ভারত। সবচেয়ে বড় কথা, সাত মাস পর যাঁদের অন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে। যাঁদের এক পলক দেখার জন্য অকাতর খরচ করে পারথের অপ্টাস স্টেডিয়াম ভরিয়েছিলেন ক্রিকেট দর্শকরা, সেই বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা দু’জনেই চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছেন প্রথম ওয়ান ডে-তে। রোহিত মাত্র ৮ রান করে আউট হয়ে যান। বিরাট তো কোনও রানই করতে পারেননি। কিন্তু তার পরেও তাঁদের প্রতি টান বা দর্শকদের ভালোবাসায় যে কোনও ভাটা পড়েনি, এদিন অ্যাডিলেড বিমানবন্দর গিয়ে হাতেগরম দেখা গেল।
কিছু না হলেও অন্তত শ’খানেক সমর্থক দিন উপস্থিত ছিলেন বিমানবন্দরে, ভারতীয় টিমকে স্বগত জানানোর জন্য। কেউ কেউ আবার তারকা ক্রিকেটারদের অটোগ্রাফ থেকে সেলফি নেওয়ার সুযোগ পেয়ে গেলেন। অস্ট্রেলিয়া নিবাসীদের নিয়ে তৈরি ভারতীয় টিমের একটা সমর্থকদের গ্রুপ রয়েছে। যার নাম-ফ্যানস ইন্ডিয়া। এ দিন তাঁদের পুরোদস্তুর দেশীয় পোশাকআশাকে হাজির হয়েছিলেন বিমানবন্দরে। হাতে কারও বানার। কারও মিনিয়েচার ব্যাট। কেউ বা আবার সোচ্চারে ভারতীয় ক্রিকেটারদের দেখামাত্র ‘শুভ দীপাবলি’ জানাচ্ছিলেন।
তা সেখানেই তুষাল বলে এক অন্ত রেহিত-ভক্তের সাক্ষাৎ পাওয়া গেল। মোটামুটি এটা এতদিনে সর্বজনবিদিত হয়ে গিয়েছে যে, এটাই রোহিত-বিরাটের শেষ অস্ট্রেলিয়া সফর। সেটা বুঝেই তুষাল শুনলাম, বাড়তি কাজ করে অতিরিক্ত অর্থ জমিয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই। অ্যাডিলেডে যে টিম হোটেলে ভারতীয় টিম উঠবে, রোহিত শর্মা থাকবেন, সেখানে তিনি ঘর নেবেন। আর তা তিনি নিয়েছেনও। আসলে তিনি একটা প্রকান্ড পোস্টার তৈরি করেছেন। যেখানে লেখা ‘দা হিটম্যান হ্যাজ অ্যারাইভড ইন অ্যাডিলেড ওভাল। মাই ফরএভার ক্যাপ্টেন।’ রোহিতের সঙ্গে একই হোটেলে থাকলে, সেই পোস্টারে তাঁর সই নেওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তুষাল জানতেন না, হোটেল পর্যন্ত যেতে হবে না। এয়ারপোর্টেই তাঁর মনস্কামনা পূর্ণ হয়ে যাবে। রোহিত সেই পোস্টার দেখা মাত্র এদিনই সেই পোস্টারে অটোগ্রাফ দিয়ে দেন। তুষালকে জিজ্ঞাসা করলাম, “কী করবেন এবার? সই তো হয়ে গেল।” স্মিত হেসে উত্তর দিলেন, “খুব আবেগপ্রবণ লাগছে জানেন। ভাবিনি রোহিত দেখামাত্র পোস্টারে সই করে দেবেন। আমার এতদিনের অপেক্ষা, এতদিনের কষ্ট সার্থক হল। অসম্ভব বড় মনের মানুষ রোহিত। চেষ্টা করব, ওর সঙ্গে একটা ছবি তোলার। আর প্রার্থনা করব, যাতে অ্যাডিলেডে রোহিত রান পান।”
বিরাট কোহলি-তাঁকে ঘিরেও কম আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হল না। এদিন তিনি যখন এয়ারপোর্ট দিয়ে বেরোচ্ছিলেন, বেশ কয়েকজন ভক্ত তাঁকে ছেঁকে ধরলেন। কারও সঙ্গে ছবি তুললেন কোহলি। কাউকে অটোগ্রাফ দিলেন। কেউ কেউ সে সব পেলেন। কেউ পেলেন না। এবং সব মিটিয়ে যখন বেরিয়ে যাচ্ছেন কোহলি, এক খুদেকে দেখা গেল কাতর ভাবে ডাকছে তাঁকে। কিছুই না, প্রিয় ক্রিকেটারের সঙ্গে সে একটা ছবি নিতে চায়। কোহলিকে দেখলাম, সেই খুদেকে দেখা মাত্র এগিয়ে এসে ছবি তুললেন। পিঠ চাপড়ে দিলেন। আশপাশ থেকে কয়েকটা দীর্ঘশ্বাসমিশ্রিত কণ্ঠস্বরও কানে এল “ইস, আমরাও বাচ্চা হলে ভালো হত। বাচ্চারা সব সময় আডভান্টেজ পায়।” বিদেশে খেলা থাকায়, এবার আর পরিবারের সঙ্গে থাকা হয়নি ভারতীয় ক্রিকেটারদের। কিন্তু মনে হয় না, এদিনের পর উৎসবের দিনে পাশে পরিবার না থাকা তাঁদের আর দুঃখ দেবে বলে। সমগ্র আডিলেড রেহিত-কোহলি-গিলদের পরিবার হয়ে উঠল যে!
সর্বশেষ খবর
-
এবার মাদ্রাসাতেও জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকা, নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্যদপ্তরের
-
বিশ্বকাপের ‘দ্বিতীয়’ উদ্বোধনী মঞ্চে আগুন ধরালেন নোরা, কানাডা কাঁপালেন ‘বাংলাদেশি’ ডিজে
-
জুটত না থালাভর্তি ভাতও! অভাবকে পরাস্ত করে আকাদেমি পুরস্কার পাচ্ছেন ২ ছৌ শিল্পী
-
‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যেতেই পদ খোয়ালেন মালা রায়, মহিলা তৃণমূলের নতুন সভানেত্রী কে?
-
সড়কপথে ৩৫০ কিমি পাড়ি, বাংলাদেশ পৌঁছলেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী