মনোজ তিওয়ারি: রনজিতে বাংলা বনাম গুজরাট ম্যাচের শেষ দিনটা ভারতীয় কোচ গৌতম গম্ভীর আর নির্বাচক প্রধান অজিত আগরকর দেখেছে কি না, জানা নেই। দেখলে হয়তো নিজেরাই লজ্জা পাবে। একটা ছেলে আর কী করবে বলুন তো? অস্ট্রেলিয়া সফরের দল নির্বাচনের পর প্রেস কনফারেন্স নির্বাচক প্রধান বলেছিলেন, মহম্মদ শামির ফিটনেস সংক্রান্ত আপডেট ওর কাছে নেই। সোজা কথায়, শামি ফিট কি না, অজিত জানে না।
প্রথমত, কোন ক্রিকেটার ফিট সেই খবর রাখার দায়িত্ব জাতীয় নির্বাচকদের। তাও আবার শামির মতো একজনের। যে শুধু দেশের নয়, বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন পেসার। যাইহোক, আমি সেই প্রসঙ্গে আর যেতে চাইছি না। আশা করি আগরকর উত্তরটা পেয়ে গিয়েছে। শামি কতটা ফিট, সেটা শামি নিজেই প্রমাণ করে দিয়েছে। কলকাতায় এখনও বেশ গরম। সেখানে একজন পেসার ম্যাচে তিরিশ-চল্লিশ ওভার বোলিং করছে। দু’টো ম্যাচে পনেরো উইকেট নিচ্ছে। এমনিতে উত্তরাখণ্ডের থেকে গুজরাট অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের বিরুদ্ধে কী বোলিংটাই না করল। দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট শুধু নিল না, গুজরাট ব্যাটিংকে কাঁপিয়ে দিয়ে গেল।
শামির নতুন করে আর কী প্রমাণ করার থাকতে পারে বলুন তো! সামনেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ। জানি না ওকে টিমে রাখবে কি না। গম্ভীর কোচ হয়ে আসার পর থেকেই ভারতীয় টিমে একটা নতুন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। তুমি যদি কোচের প্রিয়পাত্র হও, তাহলে পারফর্ম না করলেও টিমে সুযোগ পেয়ে যাবে। না হলে কেউ শামিকে রেখে হর্ষিত রানাকে অস্ট্রেলিয়া নিয়ে যায়? আমার কথা ছেড়ে দিন। পুরো দেশের মতামত নেওয়া হোক। ভোট সব শামির দিকেই যাবে। হর্ষিত চারটে উইকেট নিয়েছে বলে অনেক কথা হচ্ছে। কিন্তু ওয়ান ডে এবং টি-টোয়েন্টিতে উইকেট নেওয়া অনেক সহজ। শামির সঙ্গে হর্ষিতের কখনও কোনও তুলনা হতে পারে? একজন বছরের পর বছর ধরে দেশকে
জিতিয়ে এসেছে। আর একজন এখন পর্যন্ত দশটা রনজি ম্যাচও ঠিকঠাকভাবে খেলেনি।
আমাদের এখানে এটাই সমস্যা। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশে কেউ থাকে না। যদি তারুণ্যের কথাই ধরা হয়, তাহলে কেন ময়ঙ্ক যাদব, উমরান মালিকদের মতো পেসারদের স্কিম অব থিঙ্কসে রাখা হল না? ময়ঙ্কও ঘণ্টায় দেড়শো কিলোমিটার গতিতে বোলিং করত। শুধু কোচের ‘প্রিয়’ বলেই হর্ষিতকে নিয়ে যাওয়া হবে? অস্ট্রেলিয়ার হর্ষিতের বোলিং দেখে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছিল, ওর ফিটনেস নিয়ে সমস্যা রয়েছে। ফিট হওয়ার জন্য ওকে আরও খাটাখাটনি করতে হবে। সেখানে শামি এখন যেরকম বোলিং করছে, তাতে আমি বলব হর্ষিতের তুলনায় ও অনেক বেশি ফিট।
কিন্তু দুঃখের ব্যাপার কী জানেন, এরকম বোলিং করার পরও শামি জানে না আদৌ ও আর ভারতীয় দলে খেলতে পারবে কি না। আগরকর-গম্ভীররা হাজারো একটা যুক্তি দিতে শুরু করে দেবে। সব যুক্তি অত্যন্ত হাস্যকর। যার কোনও অর্থ নেই। ওরা কার্যত ঠিক করেই ফেলেছে শামিকে আর টিমে নেবে না। সেটা ইনিংসে দশ উইকেট পেলেও নয়। আরও অদ্ভুত কী জানেন, এরপরও গম্ভীরদের নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলবে না!
সর্বশেষ খবর
-
মাঝমাঠে শক্তি বাড়ানোই লক্ষ্য, পাঞ্জাব এফসির জেলকোভিচকে দলে নিল মোহনবাগান
-
কীর্তি আজাদের পর ‘বহিরাগত’ শত্রুঘ্নও মমতার পাশে, বললেন, ‘দিদির সঙ্গ ছাড়ব না’
-
সই জাল কাণ্ডে হাজিরা দিতে কলকাতা ফিরলেন অভিষেক, বিমানবন্দরেই উঠল ‘চোর’ স্লোগান
-
স্কুলে গোমাংস, হিন্দু বন্ধুকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা মুসলিম ছাত্রের! তারপর…
-
হরিদ্বারে ‘বার’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে বিতর্কে ইমরান! ধর্মীয় ভাবাবেগ আঘাতের অভিযোগে শুটিংয়ে ধুন্ধুমার