Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬
T20 World Cup

‘নিজেদের দলকেই ছোট করছেন’, কীর্তি আজাদকে পালটা গম্ভীরের, ‘মন্দির’ বিতর্কে বিরক্ত ঈশানও

টি-২০ বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মন্দিরে গিয়েছিলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং হেডকোচ গৌতম গম্ভীর। সঙ্গে ছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহও। তাতে ১৯৮৩-র বিশ্বজয়ী কীর্তি আজাদের প্রশ্ন, ট্রফি কেন নির্দিষ্ট একটি ধর্মের উপাসনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হবে?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৬, ১৫:৫২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১১, ২০২৬, ১৫:৫২

options
link
‘নিজেদের দলকেই ছোট করছেন’, কীর্তি আজাদকে পালটা গম্ভীরের, ‘মন্দির’ বিতর্কে বিরক্ত ঈশানও zoom
ঈশান কিষান, কীর্তি আজাদ ও গৌতম গম্ভীর। ফাইল ছবি

বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে শুধু মন্দিরে কেন? প্রশ্ন তুলেছিলেন ১৯৮৩ সালের বিশ্বজয়ী ক্রিকেট দলের সদস্য কীর্তি আজাদ। তাতে এবার পালটা দিলেন ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর। সঙ্গে পেলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংকেও। তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদকে প্রাক্তন স্পিনারের তোপ, ‘ভারতের বিশ্বজয় নিয়ে রাজনীতি করছেন কেন?’ আর এই ‘মন্দির’ বিতর্কে যথেষ্ট বিরক্ত ঈশান কিষান। 

ঘটনার সূত্রপাত সূর্যদের বিশ্বজয়ের রাতেই। টি-২০ বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে মন্দিরে গিয়েছিলেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং হেডকোচ গৌতম গম্ভীর। সঙ্গে ছিলেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহও। বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে এহেন ধর্মীয় আচরণ ঘিরে প্রশ্ন তোলেন ১৯৮৩-র বিশ্বজয়ী কীর্তি আজাদ। তাঁর প্রশ্ন, এই ট্রফি ভারতের সমস্ত ধর্মাবলম্বী মানুষের। সেই ট্রফি কেন নির্দিষ্ট একটি ধর্মের উপাসনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হবে? বিশ্বকাপ জেতার নেপথ্যে সঞ্জু স্যামসন এবং মহম্মদ সিরাজের মতো সংখ্যালঘু ক্রিকেটারদের অবদানের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন অধুনা তৃণমূল সাংসদ কীর্তি।

Advertisement

বিশ্বজয়ের পর ঈশান পাটনা বিমানবন্দরে পৌঁছতেই কীর্তির মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তাতে কিছুটা বিরক্তই হন বিশ্বকাপ জয়ী উইকেটকিপার। তারপর বলেন, “আমরা এত কষ্ট করে বিশ্বকাপ জিতলাম। একটু ভালো প্রশ্ন করুন। কীর্তি আজাদ কী বললেন, তাতে আমি কী বলব? ভালো প্রশ্ন করুন, জিজ্ঞেস করুন কেমন মজা হল?” তখন এক সাংবাদিক সেই প্রশ্ন করেন। ঈশান তারপর বলেন, “এই তো ভালো প্রশ্ন করছেন। এর আগে কেন বাজে প্রশ্ন করছিলেন?”

অন্যদিকে কীর্তি আজাদকে তোপ দেগেছেন ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর। তিনি বলেন, “এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কোনও মানে নেই। ভারত বিশ্বকাপ জিতেছে, সেটা বিরাট ব্যাপার। সেটাকেই সেলিব্রেট করুন। এই ধরনের কথাবার্তা নিয়ে আলোচনার দরকারই নেই। কারণ এই ধরনের মন্তব্য ১৫জন ক্রিকেটারের পরিশ্রমকে ছোট করে দেখে। আমরা অনেক লড়াই করে বিশ্বকাপ জিতেছি। আর আজ আপনি এই ধরনের মন্তব্য করে নিজেদের প্লেয়ার, নিজেদের টিমকে ছোট করছেন। যা একেবারেই উচিত নয়।”

এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কোনও মানে নেই। ভারত বিশ্বকাপ জিতেছে, সেটা বিরাট ব্যাপার। সেটাকেই সেলিব্রেট করুন। এই ধরনের কথাবার্তা নিয়ে আলোচনার দরকারই নেই। কারণ এই ধরনের মন্তব্য ১৫জন ক্রিকেটারের পরিশ্রমকে ছোট করে দেখে। 

ক্ষুব্ধ প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংও। তিনি বলেন, “উনি এটা নিয়ে রাজনীতি করছেন দেখে খারাপ লাগছে। একটা দল ট্রফি মন্দিরে, মসজিদে, গির্জায়- যেখানে খুশি নিয়ে যেতে পারে। যদি কেউ তাঁর ঈশ্বরের কাছে কিছু চেয়ে প্রার্থনা পূরণ হয়, তাহলে সমস্যা কোথায়? মনে হয়, উনি খেলার থেকে রাজনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। দেশ বিশ্বকাপ জিতেছে। সেলিব্রেট করুন, কিন্তু আপনি রাজনীতিতে ব্যস্ত। ঈশ্বর আলাদা হতে পারে, কিন্তু পথ তো একই। কারও বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়।”

উল্লেখ্য, এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কীর্তি লিখেছিলেন, ‘ভারতীয় দলের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। ১৯৮৩ সালে আমরা কপিল দেবের নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। সেই দলে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সব ধর্মের ক্রিকেটার ছিলেন। আমরা ট্রফি এনেছিলাম আমাদের সকলের জন্মভূমি ভারতে। কিন্তু আজ বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে একটা নির্দিষ্ট ধর্মের ভিকট্রি ল্যাপ হচ্ছে! কেন ক্রিকেটের ট্রফি নিয়ে এহেন কাণ্ডকারখানা চলছে? এটা ভারতের ট্রফি। সূর্যকুমার যাদব বা জয় শাহর পরিবারের সম্পত্তি নয়। এই ট্রফি গোটা ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের, সকল ধর্মাবলম্বী মানুষের। কোনও একটা ধর্মের ভিকট্রি ল্যাপের জন্য নয়। ভারতীয় দলের লজ্জা হওয়া উচিত।’

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.