আফগানিস্তান: ১৯৪/১০ (গুরবাজ ১০২, শাহিদি ২৭, গুরনূর ২৭/৩, হর্ষ ৪৭/৩)
ভারত: ১৯৫/৩ (শুভমান ৮৪*, রাহুল ৩৯*, রশিদ ৩৭/১, জিয়াউর ৩৯/১)
৭ উইকেটে জয়ী ভারত।
ধৌলাধর পর্বতমালার সৌন্দর্যের মতোই সুন্দর রহমানুল্লাহ গুরবাজের সেঞ্চুরি। ধরমশালার পাহাড়ে তাঁর ব্যাটের ঝলকানিতেই যেন সূর্যাস্ত হল। কিন্তু সূর্যোদয় শুভমান গিলের ব্যাটে। তিনি সেঞ্চুরি পেলেন না। কিন্তু যে ইনিংস খেললেন, তা সেঞ্চুরির থেকে কম কিছু নয়।
আরও পড়ুন:
শনিবার দুপুরটা শুরুই হল বৃষ্টি দিয়ে। ভারী থেকে মাঝারি বারিধারা ভারত-আফগানিস্তান ম্যাচের ছন্দ কেটেছিল। কিন্তু কথায় আছে, বৃষ্টি ধোয়া পাহাড় রোদ দেখলে হাসে। এদিন যেন তেমনই হল। বৃষ্টির মেঘ সরে রোদ উঠল ঘণ্টা চার পর। ৫০ ওভারের ম্যাচ কমে দাঁড়াল ২৫ ওভারে। টস জিতে ভারত অধিনায়ক শুভমান গিল প্রথমে আফগানিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠালেন। এই ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হল গুরনূর ব্রার ও হর্ষ দুবের। দুই নবাগতই নিজের জাত চেনালেন। কিন্তু আলো কেড়ে নিলেন গুরবাজ। তাঁর দুরন্ত সেঞ্চুরিতে আফগানিস্তান ১৯৪ রানে পৌঁছল। সেই রান শুভমান গিলের অধিনায়কোচিত ইনিংসে ভর করে ১৩ বল বাকি থাকতে অনায়াসেই টপকে গেল টিম ইন্ডিয়া।
এদিন শুরু থেকেই তুরীয় মেজাজে ছিলেন আফগান উইকেটকিপার-ব্যাটার রহমনউল্লাহ গুরবাজ। মাত্র ৪৮ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ১০২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ছিল আটটি চার ও আটটি ছক্কা। গুরবাজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তানের ইনিংসের ভিত মজবুত হয়। গুরবাজের দাপুটে ব্যাটিং আফগানিস্তানের ইনিংস শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করালেও, তাঁকে সঙ্গ দেওয়ার মতো বড় অবদান রাখতে পারেননি অন্য ব্যাটাররা। অধিনায়ক হসমতউল্লাহ শাহিদি ৩০ বলে ২৭ রান করেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাই ১৬ বলে ২৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। মাঝের সারির ব্যাটাররা ব্যর্থ হওয়ায় দু’শোর গণ্ডি পেরয়নি আফগানিস্তান।
ভারতের হয়ে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেই নিজেদের উপস্থিতির জানান দিলেন গুরনূর ব্রার ও হর্ষ দুবে। দুই নবাগতই তিনটি করে উইকেট নেন। তাঁদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আফগানিস্তানের রানের গতি থমকে যায়। অন্যদিকে গুরবাজ দুর্দান্ত শতরান করলেও, আফগানিস্তান নির্ধারিত ২৫ ওভারে ১৯৪ রানেই থামে। নতুন দুই ভারতীয় বোলারের সাফল্য এবং গুরবাজের ঝকঝকে ইনিংস মিলিয়ে বৃষ্টিবিঘ্নিত ধরমশালার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বেশ জমে ওঠে।

১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের শুরুটা ভালোই করেন রোহিত শর্মা। ৩৯ বছর ৭৫ দিন বয়সে তিনি ভারতের হয়ে সবচেয়ে বয়স্ক ক্রিকেটার হিসাবে ওয়ানডে খেলতে নামার নজির গড়েন। এতদিন এই রেকর্ড ছিল মহিন্দর অমরনাথের দখলে। তিনি ১৯৮৯ সালে ৩৯ বছর ৩৬ দিন বয়সে নিজের শেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন। তবে ভারতীয় ক্রিকেটে পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে ওয়ানডে খেলার রেকর্ড এখনও ঝুলন গোস্বামীর। ৩৯ বছর ৩০৩ দিন বয়সে শেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন ‘চাকদহ এক্সপ্রেস’। রোহিত ভালোই ছন্দে ছিলেন। কিন্তু অযথা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ১৬ রান করে রান আউট হন। যদিও তাতে ভারতের জয় আটকায়নি। ঈশান কিষানের সঙ্গে ৭০ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক শুভমন গিল। ঈশান ৩৪ রান করেন। গিল ৬৬ বলে ৮৪ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন। ১৯ বলে ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেন কেএল রাহুলও। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘খিদে পেয়ে গিয়েছিল’, ফুটপাতের দোকানেই মুড়ি-ঘুগনি, ডিমে প্রাতঃরাশ মন্ত্রী শংকরের
-
‘চাড্ডা নই…’, সায়নীকে তাঁর মন্তব্যই মনে করালেন সাংবাদিক, কী জবাব ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল সাংসদের?
-
‘প্রেমিকের নির্দেশে’ আগুন ধরায় নাবালিকা! দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে ৩ জনের মৃত্যুতে ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য
-
ভিখারির দশা! টাকা নেই পাকিস্তানের, এশিয়াডে যেতে গ্যাঁটের কড়ি খসাতে হবে প্লেয়ারদের
-
‘সমকামী’ চর্চায় ছাই দিয়ে ‘বান্ধবী’র সঙ্গে হুল্লোড়, দিশার জন্মদিনে পার্টি মুডে মৌনী