BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

ফেড কাপের ফাইনালে সামনে আইজল, খরা কাটবে বাগানের?

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: May 21, 2016 11:21 am|    Updated: May 21, 2016 11:21 am

An Images

সোম রায়: সত্তর দিনের ব্যবধান৷ সেই মোহনবাগান৷ সেই আইজল৷ শুধু স্থান, কাল পাত্রটাই আলাদা৷ পাত্র এক৷ ২৬ মার্চ আইজলের কাছেই হেরে আই লিগ খুইয়ে ছিল মোহনবাগান৷ শনিবার আইজলকে হারিয়ে ফেডারেশন কাপ জিততে পারলে সুদে-আসলে নিয়ে নেওয়া যাবে বদলা৷

কবীর ‘শাহরুখ’ খানের ‘চক দে ইন্ডিয়ার’ সেই বিখ্যাত উক্তি, ‘সত্তর মিনিট..’ যেন মোহনবাগান কোচ সঞ্জয় সেনের গলাতেও শোনা যাচ্ছিল! সেই দলে প্রীতি-বিন্দিয়াদের যে আত্মবিশ্বাস ছবিতে দেখা গিয়েছিল, সেই আত্মবিশ্বাসই যেন ৭০ দিন পর দেখা যাচ্ছে সবুজ-মেরুন শিবিরে৷

‘তেরোর গেরো’ কাটিয়ে গত মরশুমে আই লিগ পাওয়ার পর এবার এখনও পর্যন্ত মোহনবাগানে ট্রফির ভাঁড়ার শূন্য৷ সেই ব্যর্থতা মুছে ফেলতে তাই সোনিরাও একেকজন ‘চক দে’-র কোমল, গুঞ্জন, আলিয়া!

বৃহস্পতিবার রাতে এখানে ভাল বৃষ্টি হয়েছে৷ ফলে মাঠ বেশ নরম৷ গা ঘামানোর সময় জেজে শট নিতেই এক খাবলা মাটি উঠে এল৷ মাঠকর্মীরা অবশ্য খুব একটা গুরুত্ব দিলেন না৷ জানালেন, ম্যাচের আগে ভারী বৃষ্টি না হলে চিন্তার কিছু নেই৷ কিন্তু আইজলের কোচ জহর দাস মাঠ নিয়ে অভিযোগ করে বললেন, “মাঠের কয়েকটা জায়গায় গর্ত রয়েছে৷ একদিকের পেনাল্টি বক্সের ঠিক উপরে একটি গর্ত আছে৷ সম্ভবত এখানে শট পাট বা ডিসকাস থ্রো হয়েছিল৷ যার জেরে এই সমস্যা৷ এখানে লেগে কোনও গোলমুখি বল দিক পরিবর্তন করতে পারে৷ ফলে যে কোনও দলকেই পড়তে হতে পারে সমস্যায়৷ এত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যা চিন্তার৷” মোহনবাগানের অবশ্য মাঠ নিয়ে সমস্যা নেই৷ আইজলকে দুরমুশ করার জেদ সবুজ মেরুন ড্রেসিংরুমে স্পষ্ট৷ ভারতসেরা আক্রমণ দিয়ে বিপক্ষের ডিফেন্সে রোলার চালিয়ে সব কিছু গুঁড়িয়ে দিতে চান সোনি, জেজেরা৷

প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও মোহনবাগানের বিরু‌দ্ধে নামার আগে মানসিকভাবে দোটানায় জহর দাস৷ ফুটবলার, কোচ, ইউথ ডেভলপমেণ্টের প্রধান হিসাবে তিনি জড়িত ছিলেন শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের সঙ্গে৷ শুধু তাই নয়, তিনি মোহনবাগানের সদস্যও৷ বলছেন, “আমি প্রফেশন ও প্যাশনকে গুলিয়ে ফেলি না৷” কিন্তু পরক্ষণেই বলে বসলেন, “মোহনবাগান হারলে কষ্ট পাব৷” এই দোটানার মধ্যেই বাগান-বধের ছক কষে ফেলেছেন৷ সোনি, জেজে, গ্লেন, কাটসুমির চতুর্ভুজ আক্রমণের পাল্টা দিতে আইজলও আক্রমণ শানাবে৷ বললেন, “আমার দলের গড় বয়স একুশ৷ ছেলেদের স্পিড নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ নেই৷ আমরা স্বাভাবিক খেলাই খেলব৷ একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে মোহনবাগান নয়, আই লিগ চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু৷ তাদের দু’বার হারিয়েছি৷ তাহলে এখানে কেন অন্য কিছু ভাবব?”

অতীতের কথা ভেবে কিছুটা সতর্ক সঞ্জয়৷ মোহনবাগান সহ-সচিব সৃঞ্জয় বোস সতর্ক করে দিয়ে অনুশীলনের পর টিম মিটিংয়ে বললেন, আই লিগের ম্যাচের মতো ভুল যেন এই ম্যাচে না হয়৷ বাস্তবে সেদিনের সঙ্গে এই ম্যাচে দুই দলের পার্থক্য অনেক৷ মোহনবাগান সেদিন নেমেছিল প্রথম দলের চার ফুটবলার ছাড়া৷ তাঁরা এখানে কিন্তু খেলবেন৷ উল্টোদিকে একঝাঁক অনামী ফুটবলারের মাঝে যে ফুটবলার নজর কেড়েছেন কনস্টানটাইনের, সেই ডেভিড নেই কার্ড সমস্যায়৷ সঞ্জয় বললেন, “ওদের কাছে হেরেছি৷ বেঙ্গালুরু, স্পোর্টিংয়ের সঙ্গে লড়ে ফাইনালে এসেছে৷ কাজেই ওরা যথেষ্ট বেগ দিতে পারে৷ তাছাড়া গ্যালারিতেও ওদের সমর্থক বেশি থাকবে বলে মনে হচ্ছে৷ সতর্ক থাকতেই হবে৷ তার মানে এই নয় গুটিয়ে থাকব৷ দীর্ঘ আট বছর ক্লাবে আসেনি ফেড কাপ৷ সমর্থকদের জন্য এটা জিততেই হবে৷” ‘সতর্ক’ থাকতে ডিফেন্স শক্ত রেখে আক্রমণে যাবে বাগান৷ তাই প্রণয়ের সঙ্গে মাঝমাঠে বিক্রমজিতের খেলার সম্ভাবনা বেশি৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement