সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: প্রায় ৬৩ হাজার ফুটবলপ্রেমীর গর্জন। কিছুই কানে শোনা যাচ্ছে না বলা যায়। তার মধ্যে দিয়েই গত বুধবার অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচে নামার আগে যুবভারতীর টানেলে এসে দাঁড়িয়েছিল ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা। পাশে দাঁড়ানো প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাসি-ঠাট্টা, ব্যঙ্গ দেখে একটু অবাকই হয়েছিল রিয়ান ব্রিউস্টার। ভাবখানা এমন যেন, ফাইনালেই চলে গিয়েছে সেলেকাওরা। কিন্তু শেষ হাসি হাসে ইংরেজরাই। ব্রিউস্টারের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক কাঁদিয়ে ছেড়েছিল পাওলিনহোদের। চোখের জল মুছতে মুছতে সেই টানেল দিয়েই ড্রেসিংরুমে ফিরেছিল সাম্বার দেশের খুদেরা।
পরে জানা যায়, মাঠে নামার আগে টানেলে ব্রাজিলের ফুটবলারদের ঠাট্টা তাতিয়ে দিয়েছিল ব্রিউস্টারকে। তখনই সতীর্থদের সেকথা বলেছিল সে। ব্রাজিলের ফুটবলারদের হাসি কান্নায় পালটে দেওয়ার প্রতিজ্ঞা নেয় ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা। ব্যস, বাকিটা ইতিহাস। ব্রিউস্টারের চোখধাঁধানো হ্যাটট্রিকে ভর করে প্রথমবার অনুর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছয় ব্রিটিশরা। সেদিনের তার পারফরম্যান্স ব্রাজিলিয়ানদের মতো সুদূর ৮ হাজার মাইল দূরে আরও একজনের চোখে জল এনে দিয়েছিল। তবে তা আনন্দাশ্রু। মার্কিন মুলুকের আটলান্টায় বসে ছেলের স্বপ্নের দৌড় দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বাবা ইয়ান ব্রিউস্টার। ছেলেকে কথা দিয়েছিলেন, বেড়াতে গিয়েও টিভির সামনে বলে খেলা দেখবেন। করেছেনও। আর বাবাকেও অসাধারণ একটা উপহার দেয় রিয়ান।
কোয়ার্টার ফাইনালে ইউএসএ-র বিরুদ্ধে নামার আগে বাবার কাছ থেকে ফোনে একটি মেসেজ পায় রিয়ান। ‘জয়েনড দ্য পার্টি’, তার মানে খেলা দেখতে বসে পড়েছেন ইয়ান। আর সেই ম্যাচেই হ্যাটট্রিক করে রিয়ান। সেমিফাইনাল ম্যাচেও তাই হয়। সেদিনও আবার হ্যাটট্রিক। ‘ও এইরকমই। সাইডলাইনের সাদা দাগ পেরলেই গোটা মাঠ যেন ওর একার হয়ে যায়। মাঠ এবং মাঠের বাইরে সম্পূর্ণ দুটো ভিন্ন মানুষ রিয়ান। যখন মাঠে থাকে তখন লক্ষ্যে অবিচল, আবার মাঠ ছাড়লেই খেলা কোনও ভ্রুক্ষেপই নেই।’ বলতে লাগলেন ইয়ান। লিভারপুলে এখন খেলে রিয়ান। বাবা যখনই দেখা করতে আসে তখন রিয়ানের একটাই কথা, ‘তুমি কি আমায় একটু বাড়ি নিয়ে যাবে?’ তখন ফুটবল নিয়ে বিন্দুমাত্র উৎসাহ দেখায় না রিয়ান, জানালেন বাবা। ইয়ান আরও বলেন, প্রচারের আলো ওর চোখকে বিরক্ত করুক পছন্দ নয় ছেলের। কিন্তু এখন তো গোটা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে রিয়ান ব্রিউস্টার। সেইবেলা? বাবার মতে, এসবে অভ্যস্ত রিয়ান। শুধু নিজের উদ্দেশ্যটাই ওর কাছে সবকিছু। বাকি সব বেকার।
আজ শনিবারের যুবভারতীতে আরও উপচে পড়বে ভিড়। যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে হাজির থাকবে হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। আর সবার নজর থাকবে ১৭ বছরের রিয়ান ব্রিউস্টারের উপর। ফাইনালেও তার পা ঝলসে উঠবে কি না তা এবার সময়ই বলবে।
সর্বশেষ খবর
-
দুই বিদেশি মহিলাকে অপহরণ করে গণধর্ষণ, পাকিস্তানের নাক কাটল খোদ উপপ্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়
-
এক বছরে ক্যান্টিনের বিল ১ কোটি! জ্যোতিপ্রিয়র মেয়ে প্রিয়দর্শিনীর ‘কীর্তি’তে জোর শোরগোল
-
নির্বাচনে সুপ্রিম হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি ইন্ডিয়া জোটের! বিজেপি বলছে, ‘গণতন্ত্রকে অস্বীকারের চেষ্টা’
-
কলম্বিয়ার কাছে হার ঘানার, নিজের দেশকে ‘বাঁচাতে’ পারলেন না ওঝা! শেষ ষোলোয় কার বিরুদ্ধে কে?
-
বঙ্গে ধেয়ে আসছে দুর্যোগ! জেলায় জেলায় লাল সতর্কতা, উত্তাল হতে পারে সমুদ্র