Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
চিমা ওকোরি

‘এমন শ্মশান ওল্ড ট্র‌্যাফোর্ড দেখব ভাবিনি’, কোচিং কোর্স করতে গিয়ে লকডাউনে আটকে চিমা

ম্যাঞ্চেস্টারে 'খাঁচাবন্দি' কালো চিতা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০২০, ১৯:১০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ১১, ২০২০, ১৯:১০

options
link
‘এমন শ্মশান ওল্ড ট্র‌্যাফোর্ড দেখব ভাবিনি’, কোচিং কোর্স করতে গিয়ে লকডাউনে আটকে চিমা zoom

দুলাল দে: একটা সময় বাঘা বাঘা ডিফেন্ডাররা পর্যন্ত এভাবে তাঁকে খাঁচাবন্দি করে ফেলতে পারেননি। চারিদিক থেকে ঘিরে ফেললেও ছিটকে বেরিয়ে গিয়েছেন বারবার। তিনি কালো চিতা, চিমা ওকোরি। সেই কালো চিতাকেও এক করোনা ভাইরাস ঘরবন্দি করে রেখেছে সুদূর ম্যাঞ্চেস্টারে। কিছুদিন আগেও ছিলেন লন্ডনে। উয়েফার একটি ফুটবল কোচিং কোর্স করতে ম্যাঞ্চেস্টারে যেতেই বিপত্তি। ঠিক ছিল সাইকোলজির উপর একটা পেপার জমা দেবেন। কোচিং কোর্স শেষ করা দূর অস্ত। লকডাউনের জেরে ম্যাঞ্চেস্টারেই আটকে পড়েছেন তিনি। লন্ডনে পরিবারের কাছেও যেতে পারছেন না কালো চিতা।

ম্যাঞ্চেস্টারে ট্যাফোর্ডের কাছাকাছি অঞ্চলে থাকেন চিমা। সেখন থেকে সুপার মার্কেট হাঁটাপথ। বাড়ির বাইরে বের হওয়া বলতে শুধুই সুপার মার্কেটে যাওয়া। ব্যস, এর বাইরে আর কোথাও যাওয়া নেই। তবে ইচ্ছে হলেই সবাই মিলে সুপার মার্কেটে ভিড় করবেন, এরকমটা নয়। সরকার থেকে নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে, প্রতি পরিবার থেকে মাত্র একজনই যেতে পারবেন সুপার মার্কেটে। পরিবারের যা কিছু দরকারি, তাঁকেই কিনে নিয়ে আসতে হবে। কিন্তু ম্যাঞ্চেস্টারে কী ভাবে দিন কাটছে কালো চিতার?

Advertisement

[আরও পড়ুন: সৌরভের পথেই বাইচুং! ফেডারেশনের সভাপতি পদে লড়ার ইঙ্গিত প্রাক্তন অধিনায়কের]

ফোনে চিমা বললেন, “এরকম অবস্থায় কোনওদিন পড়তে হবে, সত্যিই ভাবিনি। আর কপাল দেখুন, গত মাসে এখানে কোচিং কোর্সে সাইকোলজি বিভাগে পেপার জমা দিতে যাব, আর সঙ্গে সঙ্গে করোনা ভাইরাসের জেরে লক ডাউন। উয়েফা কোচিং কোর্সটাও শেষ হল না।” তাহলে করছেনটা কী? ‘‘কী আর করব।” ম্যাঞ্চেস্টার থেকে হতাশার সুরে বলছিলেন চিমা। আমার সবচেয়ে চিন্তা নিজের ফিটনেস নিয়ে। ট্র‌্যাফোর্ডের কাছে যেখানে থাকছি, তার পিছন দিকেই একটা জিম রয়েছে। কিন্তু ঘর থেকে বার হওয়া যাচ্ছে না।’’ ম্যাঞ্চেস্টারে জিম খোলা রয়েছে? চিমা বললেন, “এখানে জিম খোলা। কিন্তু নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে, কিছুতেই জিমে ভিড় করা যাবে না। ম্যাঞ্চেস্টারের রাস্তাতেও একই নিয়ম। হয়তো কম। কিন্তু ট্রেন চলছে। তবে কিছুতেই কামরায় বেশি লোক একসঙ্গে উঠতে পারবেন না। নিজেদের মধ্যে দূরত্ব রেখে বসতে হবে।”

চিমা জানালেন, দরকারি কিছু পাওয়ার জন্য সুপার মার্কেট যেরকম খোলা। সেরকম কম হলেও মানুষের দরকারে গাড়িঘোড়াও চলছে। তবে রাস্তায় লোক দেখা যাচ্ছে না। কালো চিতা বললেন, “মানুষ দেখা যাবে কী করে? সবাই তো আতঙ্কে ভুগছে। এরপরেও যদি কেউ রাস্তায় বের হয়, সেখানেও পুলিশের ভয়। রাস্তায় আপনাকে দেখলেই ধরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে দেবে পুলিশ। কোনও ভিড় না করে দরকারে যে কেউ রাস্তায় বের হতেই পারে। কিন্তু রাস্তায় বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ দেখাতে না পারলেই সমস্যা। সঙ্গে সঙ্গে ২০০ পাউন্ড জরিমানা। লকডাউনের বাজারে জরিমানা দেওয়ার ভয়েই কেউ আর ঘরের বাইরে পা রাখছেন না।”
চিমা বললেন, করোনা ভাইরাস ঘিরে ইংল্যান্ডে যা কিছু আতঙ্ক তার বেশিটাই লন্ডনে। এর একটাই কারণ, জনসংখ্যা। চিমা বলছিলেন, “আমার পরিবারও এই মুহূর্তে লন্ডনে। কিন্তু কেউই ঘরের বাইরে পা রাখছে ন। যতদিন না লকডাউন উঠছে, আমিও ম্যাঞ্চেস্টার থেকে নড়ছি না।” তাহলে সারাটা দিন করছেনটা কী? কালো চিতা বললেন, “দরকারে সুপার মার্কেট যাওয়া ছাড়া প্রতিদিন নিয়ম করে ঘরের মধ্যেই ফিটনেস ট্রেনিং করছি। রোজ এক হাজারটা ‘সিট আপ’ দেওয়া আমার অভ্যাস। ঘরের মধ্যেই জাম্প করছি। সঙ্গে আরও কিছু এক্সারসাইজ। নিজেকে যতটা ফিট রাখা যায়।”

[আরও পড়ুন: বার্সায় মেসি-নেইমার যুগলবন্দি দেখা সময়ের অপেক্ষা, মত প্রাক্তন বিশ্বকাপারের]

শুধু নিজের ফিটনেস কেন। দুই ম্যাঞ্চেস্টার ক্লাবের অবস্থা দেখেও তো শিহরিত হয়ে উঠছেন কালো চিতা। বলছিলেন, “এমন শ্মশান ওল্ড ট্র‌্যাফোর্ড দেখব, কখনও ভাবিনি। কবে যে এই দুটো ক্লাব ফের প্র‌্যাকটিসে নামবে, কেউ জানে না। সব কিছু অনিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। বছরের অন্য সময় ট্র্যাফোর্ডের এদিকটায় মানুষ গম গম করে। এখন পুরো শ্মশান। গির্জাতেও কেউ যাচ্ছে না। ঘরে বসেই সবাই প্রার্থনা করছে।’’

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.