একসময় মোহনবাগানের ডাগআউটে ছিলেন। এবার ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) নতুন কোচ হচ্ছেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। গতবার ইস্টবেঙ্গলকে আইএসএল জেতানোর পর বিদায় নেন কোচ অস্কার ব্রুজো। এক বছরের চুক্তিতে সেই জায়গায় এলেন হাবাস। ভারতীয় ফুটবলে প্রচুর ট্রফি পেয়েছেন তিনি। এবার ইস্টবেঙ্গল ট্রফি ক্যাবিনেট আরও ভরিয়ে তোলার অঙ্গীকার স্প্যানিশ কোচের। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এবার কোচের নাম ঘোষণা করা হল ক্লাবের তরফ থেকে। বিনিয়োগকারী সংস্থা ইমামির তরফ থেকে নয়। তাহলে কি কোচ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ইমামির সঙ্গে বিচ্ছেদে শিলমোহরও পড়ে গেল? প্রশ্ন থাকছেই।
ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে যোগ দিয়ে আন্তোনিও লোপেজ হাবাস বলেন, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে যোগ দিতে পেরে আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করছি। অত্যন্ত উৎসাহ এবং গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে আমি এই নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি। আজ থেকে আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা থাকবে এই ক্লাবের প্রতীককে গর্বের সঙ্গে বহন করা। একসঙ্গে লড়াই করে ক্লাবের লক্ষ্য ও স্বপ্ন পূরণ করা। খুব শীঘ্রই কলকাতায় সকলের সঙ্গে দেখা হবে।” এর সঙ্গে গোলকিপার প্রভসুখন গিলের চুক্তিবৃদ্ধির খবর জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এত দিন ফুটবল সংক্রান্ত যে কোনও খবর জানানো হত ইমামির পক্ষ থেকে। কোচ বা ফুটবলারদের সই করানোর খবর সোশাল মিডিয়ায় ‘ইস্টবেঙ্গল এফসি’র তরফ থেকে জানানো হত। কিন্তু এবার নতুন কোচ ইমামি কর্তারা নন। জানালেন ক্লাবের সভাপতি মুরারীলাল লোহিয়া। ‘ইস্টবেঙ্গল এফসি’ পেজ থেকে পোস্ট করা হয়নি। বরং ‘ইস্টবেঙ্গল ক্লাব’-এর পুরনো পেজ থেকেই হাবাসের আগমন ঘোষণা করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ঘোষণা না হলেও সম্ভবত ইমামির সঙ্গে পথচলা শেষ ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের। এই বিষয়ে ক্লাবের শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “”ইমামি তো আগেই বলেছে, ওরা কন্টিনিউ করতে চায় না। ভারতীয় ফুটবল যেভাবে চলছে, তাতে ওরা কোনও ভবিষ্যৎ দেখতে পারছে না। যদি আবার কখনও পারে, তাহলে দেখবে।”
নতুন কোচকে স্বাগত জানিয়ে মুরারীলাল লোহিয়া বলেন, “ভারতীয় ফুটবলে হাবাসের অসামান্য সাফল্য, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও লড়াকু মানসিকতা আমাদের ক্লাবের জন্য আদর্শ। ইস্টবেঙ্গল শুধু ফুটবল ক্লাব নয়- কোটি কোটি মানুষের আবেগ, গর্ব এবং ঐতিহ্যের প্রতীক। কোচ হাবাসের নেতৃত্ব ক্লাবের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে।” এছাড়া কার্লোস আগুস্তিন ফনসেকা তেইজেইরো সহকারী কোচ হিসেবে যোগদান করেছেন।
ভারতীয় ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে কোচিং করাচ্ছেন হাবাস। একাধিক ক্লাবের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৩-এ তাঁকে মোহনবাগানের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর করা হয়। ওই মরশুমের মাঝে জুয়ান ফেরান্দোকে সরিয়ে হাবাসকে কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেবার শিল্ডও জেতে সবুজ-মেরুন বাহিনী। পরে ইন্টার কাশীর দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবকে আইএসএলে তোলেন। এবার তিনি ফিরতে চলেছেন ‘চিরশত্রু’ ক্লাবে। গত মরশুমে অস্কারের হাত ধরে ২২ বছরের খরা কাটিয়ে ভারতসেরা হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। লাল-হলুদ সমর্থকদের হতাশার মরশুম কাটিয়ে এশিয়ার মঞ্চেও দল। নতুন প্লেয়ারও সই করিয়েছে। এবার দেখার হাবাস ইস্টবেঙ্গলকে সাফল্য এনে দিতে পারেন কি না?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘শীঘ্রই খুন হবেন’, এবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠি ‘জঙ্গি’দের, প্রাণ বাঁচাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
-
ক্ষত না শুকনো পর্যন্ত নেপালে ত্রাণ বিলোবেন সোনু সুদ, কাঠমাণ্ডু পৌঁছে কী বার্তা ‘মসিহা’র?
-
যাদবপুরে আর যত্রতত্র দেওয়াল লিখনে ‘না’! ‘জাতীয় সংহতি’ বজায় রাখতে খোলা চিঠি উপাচার্যের
-
পাঁচ দশকে ভুটান পাহাড়ে পাঁচশোর বেশি হিমবাহ বিলুপ্ত! নেপালের মতো ভয়ঙ্কর হড়পাবানের অশনিসংকেত সিকিমেও!
-
ধুলিয়ান পুরসভায় অনাস্থা প্রস্তাব, ১৫-০ ভোটে অপসারিত পুরপ্রধান