তিনি শুধু স্পেনের নয়, বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি। বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে জিতিয়েছেন গোল করে। ১৬ বছর পর ফের ফাইনাল খেলবে তাঁর দেশ। প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনায় আছেন লিওনেল মেসি, যাঁর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা আড়াই দশকের পুরনো। এবার ফাইনালে কী চাইছেন আন্দ্রে ইনিয়েস্তা? মেসিকে কেমন দেখছেন? লামিন ইয়ামালকে নিয়েই বা কী বলছেন? স্প্যানিশ সংবাদপত্রে দেওয়া ইনিয়েস্তার সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হল নিচে…
প্রশ্ন : ২০১০ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানির বিরুদ্ধে কার্লোস পুয়োল হেডে গোল করেছিল। তারপর আপনাদের মধ্যে একটা কথোপকথন হয়। কার্লোস বলেছিলেন যে, ‘‘আশা করছি রবিবার (ফাইনালের দিন) পর্যন্তই এটা স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল হয়ে থাকবে।’’ যার জবাবে আপনি বলেছিলেন, ‘‘কার্লোস, চিন্তা করো না, আমি সেটা দেখে নেব!’’ আর ফাইনালে আপনার সেই অবিস্মরণীয় ভলি। ১৬ বছর পর স্পেন ফের ফাইনালে। এবার কী হবে মনে হচ্ছে?
আরও পড়ুন:
ইনিয়েস্তা : এভাবে হয় না। আমি এখন আর খেলি না, মাঠে নামি না। দলে নেই। ফলে ড্রেসিংরুমের অবস্থাও জানা নেই। এই পরিস্থিতিতে কোনও ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। আশা করছি, একটা ভালো ম্যাচ হবে। আর সেই ম্যাচ শেষে আমরা চ্যাম্পিয়ন হব। ষোলো বছর আগের আমার গোলটা স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলের তালিকায় প্রথমে তো থাকবে, কিন্তু একা থাকবে না। আমি চাই, এই প্রজন্মের দলটা, এই প্লেয়াররা চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমাদের জার্সিতে আরও একটা তারা যোগ করুক।
প্রশ্ন : কী ফল আশা করছেন এবার?
ইনিয়েস্তা : এবারের ফাইনালেও লড়াইটা বেশ কঠিন হবে। কারণ এমন ম্যাচ সহজ হয় না। এবং প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। ফলে সেই লড়াইয়ের তীব্রতা বাড়বে। দেখা যাক, কী হয়। আশা করছি সব ঠিকঠাক হবে। এই ম্যাচে পরিকল্পনায় কোনও ফাঁক রাখা যায় না। তবে যে ধরনের ফুটবল স্পেন এতদিন খেলে এসেছে, তা ধরে রাখতে পারলে পরিস্থিতি অনুকূলেই থাকবে।
ষোলো বছর আগের আমার গোলটা স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলের তালিকায় প্রথমে তো থাকবে, কিন্তু একা থাকবে না। আমি চাই, এই প্রজন্মের দলটা, এই প্লেয়াররা চ্যাম্পিয়ন হয়ে আমাদের জার্সিতে আরও একটা তারা যোগ করুক।
প্রশ্ন : আর্জেন্টিনা-স্পেন, দুই দেশ দীর্ঘদিন বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়নি। ফলে বার্সেলোনার সতীর্থ লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে খেলা হয়নি আপনার।
ইনিয়েস্তা : সত্যিই, ওর মুখোমুখি হতে পারলে ভালোই লাগত। কারণ আমাদের জন্য লিও আর ওর দেশ–দু’টোই খুব কাছের। কিন্তু সেটা হয়নি।

প্রশ্ন : ৩৯ বছরের মেসির পারফরম্যান্স কেমন লাগছে?
ইনিয়েস্তা : কী বলি বলুন তো! নতুন তো কিছু বলার নেই। লিও সবসময়ই মাঠে তফাত গড়ে দেয়। ও-ই কেন্দ্রীয় চরিত্র। গোল করবে, করাবে। সারা জীবন এভাবেই খেলে এসেছে। ও যে এখনও দাপট নিয়ে খেলে চলেছে, তার কিছু কারণ আছে। ও নিজের খেয়াল রাখে, ফুটবলে বাঁচে। ওর আশপাশের মানুষজন ওকে সেভাবেই থাকতে সাহায্য করে। ফুটবলের প্রতি আগ্রহ আর মনোভাব লিওকে আরও উন্নত করে। সঙ্গে ওর সতীর্থদেরও। এই আর্জেন্টিনা এমন একটা স্কোয়াড, যার সদস্যরা লিওর জন্য প্রাণও দিতে পারে। সেই সম্মান আদায় করাটা ওর কৃতিত্ব। যাঁরা ফুটবল ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে লিওকে এভাবে দেখাটা আনন্দের।
প্রশ্ন : একদিকে মেসি। অন্যদিকে ১৯ বছরের লামিনে ইয়ামাল। বার্সার এই কিশোর উইঙ্গারকে কী পরামর্শ দেবেন?
ইনিয়েস্তা : আমার মনে হয় না কিছু পরামর্শ দেওয়ার আছে। ও নিজের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলবে। ফাইনাল শুরু হওয়ার আগে বহু বিষয় আলোচনা হয় ঠিকই। কিন্তু একবার খেলা শুরু হয়ে গেলে আর সেসবের অস্তিত্ব থাকে না। তখন শুধু ম্যাচটাই থাকে। যে ম্যাচ খেলার জন্য প্লেয়াররা সারা জীবন অপেক্ষা করে। লামিনে আশা করছি দারুণ খেলে তফাত গড়ে দেবে। যদি ও গোল করে কিংবা অন্য কেউ গোল করে, গোলদাতা স্পেনের হওয়াটাই একমাত্র প্রার্থনা আমার। কারণ ট্রফির থেকে কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
স্টেডিয়ামে ট্রাম্পের আগমনে ঢুকতে বাধা দর্শকদের! বিতর্কের মুখে সমাপ্তি অনুষ্ঠানে কাটছাঁট?
-
জলে রোহিতের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি, লর্ডসে সিরিজ হার ভারতের
-
স্টেডিয়ামে ট্রাম্প, মেসিদের দলে ৩ বদল, স্পেনের প্রথম একাদশে নেই তারকা মিডফিল্ডার
-
বিশ্বের সবচেয়ে দামি পা! মেসির বাঁ পায়ের বিমার অঙ্ক অবাক করবে
-
প্রথম ভারতীয় হিসাবে লর্ডসে সেঞ্চুরি, ইতিহাস গড়ে নিন্দুকদের জবাব রোহিতের
