নির্দয় শাসকের দেশ। ইংল্যান্ড বলতেই ভারতবাসীর মনে ভেসে ওঠে ২০০ বছরের পরাধীনতা। ব্রিটিশ শাসনের যন্ত্রণা স্রেফ ভারত নয়, বিশ্বের একাধিক দেশের মজ্জায় ঢুকে রয়েছে। একটা সময়ে গোটা বিশ্বই কার্যত ইংরেজদের উপনিবেশ ছিল। কিন্তু তারপর সময় বদলেছে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শেষ হয়েছে। অতীতের ‘নির্দয়’ তকমা মুছে এখন যেন দয়ালু হয়ে উঠেছে ইংল্যান্ড। দীর্ঘ দুই দশক ধরে আড়াল থেকে সমাজসেবায় ব্রতী হয়েছেন ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা।
থ্রি লায়ন্সের বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখনও বেঁচে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বুধবার রাতে সেমিফাইনাল খেলতে নামবেন হ্যারি কেনরা। সেই ম্যাচের আগে আলোচনা চলছে, কীভাবে আর্জেন্টিনার থেকে ফকল্যান্ড দ্বীপ ‘ছিনিয়ে’ নিয়েছিল মার্গারেট থ্যাচারের ইংল্যান্ড। সাড়ে সাতশো আর্জেন্টাইন সৈনিকের প্রাণ কেড়েছিল ব্রিটিশের যুদ্ধ। সেসব রক্ত গরম করা জাতীয়তাবাদের আড়ালেই কিন্তু ঘোরাফেরা করছে ইংরেজ মানবিকতার ছোট্ট কাহিনি। যা শুরু হয়েছিল ডেভিড বেকহ্যাম-গ্যারি নেভিলদের হাত ধরে। তারপর থেকে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন বহু ফুটবলার। কিন্তু সেই মানবিকতা থেকে একচুল সরেনি থ্রি লায়ন্স।
আরও পড়ুন:
কী এমন করেছেন ইংল্যান্ডের (England Football Team) ফুটবলাররা? শুরুটা করেছিলেন জন টেরিরা, ২০০৭ সালে। ইংল্যান্ড এবং ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলে তাঁদের বিপুল উপার্জন। কিন্তু তাঁরা বুঝতে পারেন, গোটা বিশ্বে বহু মানুষ নিজেদের খাবারটুকুও জোগাড় করতে হিমশিম খান। সেখান থেকেই আত্মপ্রকাশ করে ইংল্যান্ড ফুটবলার্স ফাউন্ডেশন। সেসময়ে ইংল্যান্ড স্কোয়াডে খেলতেন স্টিভেন জেরার্ড-ওয়েন রুনি-মাইকেল আওয়েনের মতো তারকারা। প্রত্যেকেই একবাক্যে রাজি হন, সমাজের কাজে ব্রতী হতে হবে। দলের একজন সদস্য ব্যতিক্রম নন।
২০০৭ সালের সেই ইংল্যান্ড স্কোয়াড সিদ্ধান্ত নেয়, দেশের জার্সিতে খেলতে পারার সুযোগটাই অনেক। সেটার সঙ্গে টাকার অঙ্ককে জড়িয়ে ফেলা যায় না। তাই বেকহ্যামরা জানিয়ে দেন, তাঁরা বিনা পারিশ্রমিকে খেলবেন দেশের জার্সিতে। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার জন্য যে ম্যাচ ফি বরাদ্দ, সেটা জমতে থাকে ইংল্যান্ড ফুটবলার্স ফাউন্ডেশনে। তবে স্রেফ নিজেরা নন, আগামী দিনেও যেন এই ধারা বজায় থাকে সেটা নিশ্চিত করেছিলেন ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ডরা। গত ২০ বছরে অন্তত ১৩৫ জন ফুটবলার মাঠে নেমেছেন ইংল্যান্ডের জার্সিতে। কেউ সফল হয়েছেন, কেউ ব্যর্থ। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে খেলে ম্যাচ ফিটুকু অসহায়দের হাতে তুলে দিতে ভুল হয়নি কারোর।
প্রায় ১৯ বছর ধরে ‘নির্দয়’ ইংরেজদের এমন অনবদ্য উদ্যোগ ছিল প্রচারের আড়ালে। এবার বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) চলাকালীন প্রকাশ্যে এসেছে বুকায়ো সাকা-জুড বেলিংহ্যামদের আত্মত্যাগের গল্প। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ পিছু ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা উপার্জন ইংরেজ ফুটবলারদের। সেই বিরাট অঙ্কের অর্থ তাঁরা জমা করে দেন। ফুটবলারদের ফাউন্ডেশনে জমা পড়া সেই অর্থ চলে যায় ইউনিসেফ, হেল্প ফর হিরোস, ববি মুর ফান্ডের মতো একাধিক তহবিলে। গত কুড়ি বছরে ইংরেজ ফুটবলাররা প্রায় দেড় কোটি পাউন্ড দান করেছেন তহবিলে। ভারতীয় মুদ্রায় সেই অঙ্কটা প্রায় ১৯৪ কোটি টাকা। ব্রিটিশ পূর্বসুরিদের নৃশংস অত্যাচারের ইতিহাস কি বদলাতে পারবে মার্কাস র্যাশফোর্ডদের আত্মত্যাগ?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ডায়েট ফ্রেন্ডলি গাজরের হালুয়া! ‘সোনার পাথরবাটি’ নয়, ৩টি বিষয় মাথায় রাখলে বানানো যায় সহজেই
-
তিব্বতে ফের হ্রদ ভাঙলে ভাসবে বিহার! নদীগুলিতে চলছে কড়া নজরদারি, বাড়ছে আতঙ্ক
-
মাঝ সমুদ্রে ট্রলারডুবি, ৯ মৎস্যজীবীর পরিবারকে হোমগার্ডের নিয়োগপত্র দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
-
বিএসএস নাম প্রত্যাহার করায় কলকাতা লিগের সুপার সিক্সে মোহনবাগান, এক পয়েন্ট দরকার ইস্টবেঙ্গলের
-
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই পদক্ষেপ, মুছল যাদবপুর ক্যাম্পাসের ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন




