তাহলে কি ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেন (Harry Kane) চিরকাল আন্তর্জাতিক ট্রফিহীন ভাল ফুটবলার হিসেবেই থেকে যাবেন? ৬০ বছর অপেক্ষার পরও বিশ্বকাপহীন থেকে যাবে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ট্রফি ক্যাবিনেট? বিশ্বকাপ আসে। বিশ্বকাপ যায়। ইংল্যান্ডকে ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই খালি হাতেই ফিরতে হয় ইংরেজদের। একটা সময় মনে হয়েছিল, সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের সঙ্গে সঙ্গে কোচ টমাস টুখেলের চাকরিটা যাবে। কিন্তু এফএ জানিয়েছে, যেহেতু তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচ বাকি, তাই এখনই টুখেলকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না। তবে তাঁর কোচিং পদ্ধতি নিয়ে ড্রেসিংরুমের মতো ইংল্যান্ড সমর্থকদের মধ্যেও প্রবল আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু কী করবেন অধিনায়ক হ্যারি কেন?
গোল করায় তাঁর দক্ষতা নিয়ে কারও মনেই কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু ট্রফি ভাগ্য। ক্লাব ফুটবলে টটেনহ্যামের পর দেশের জার্সিতেও শুধুই ট্রফির খরা। বিশ্বকাপ ছাড়ুন। টানা দু’টো ইউরো ফাইনালে পৌঁছেও তো ট্রফির মুখ দেখেননি। তার উপর বুধবার আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড অধিনায়ককে আক্রমণভাগে প্রায় খুঁজেই পাওয়া যায়নি। এরপরেও কি তিনি জাতীয় দলের জার্সিতে খেলা চালিয়ে যাবেন? বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্নটাই ঘোরাফেরা করছে ইংল্যান্ড ড্রেসিংরুমে। তবে অবসর নিয়ে কোনও কিছুরই খোলাখুলি জবাব দেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক। এই মুহূর্তে হ্যারি কেন ৩২। ফলে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চাইছেন না তিনি।
আরও পড়ুন:
মেসির উদাহরণ টেনে বলছেন, “মেসি তো ৩৯ বছরেও দিব্যি খেলে যাচ্ছে। দেখা যাক, সেই সময় ছত্রিশের আমি কী অবস্থায় থাকি।” কিন্তু ট্রফিহীনতার জ্বালা কী করে জুড়োবেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক? এক গোলে এগিয়ে থাকার পরেও যেভাবে ম্যাচটা হাতছাড়া হয়েছে, কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। বলছিলেন, “এগিয়ে থাকার পরেও ম্যাচটা ধরে রাখতে পারলাম না। ওদের কামব্যাক করার জন্য ২০ মিনিটই যথেষ্ট ছিল। আসলে আমরাই ম্যাচটা ওদের হাতে তুলে দিয়েছি।’ যতটা ধীর-স্থির ভাবে হ্যারি কেন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন, ড্রেসিংরুমের পরিবেশটা কিন্তু অতটাও শান্ত ছিল না। শোনা যাচ্ছে, ম্যাচে ফুটবলার পরিবর্তন নিয়েও নাকি কোচের উপর সন্তুষ্ট ছিলেন না ইংল্যান্ড ফুটবলাররা। তা নিয়ে নাকি কোচের সঙ্গে ড্রেসিংরুমে ফুটবলারদের কথা কাটাকাটি হয়। অধিনায়ক হ্যারি কেনের মতো ইংল্যান্ডের কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলার পুরো পরিস্থিতিটা সামলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
মাঠের মধ্যে আর্জেন্টিনার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর সঙ্গে ইংল্যান্ড গোলকিপার জর্ডন পিকফোর্ডের বাদানুবাদও সবাই দেখেছেন। এনজো ফার্নান্ডেজের গোলের পর পিকফোর্ডের সামনে গিয়ে মারাত্মকভাবে অখেলোয়াড়চিত আচরণ করেন রোমেরো। যা নিয়ে ইংল্যান্ড শিবির মনে করছে, ফিফার উচিত রোমেরোকে শাস্তি দেওয়া। মিক্সড জোনে মন খারাপ করে থাকা অ্যান্থনি গর্ডন বলছিলেন, “গোলটার কোনও মূল্যই থাকল না।” দলের এমন পারফরম্যান্স মেনে নিতে পারছেন না ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলও। বুধবারের হারের পর ফের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বলেছেন, “এইভাবে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না কারণ, একটা সময় পর্যন্ত ম্যাচটা আমরাই নিয়ন্ত্রণ করছিলাম।” সঙ্গে বলেন, “এখন মনে হচ্ছে, গোল করার জন্য আর্জেন্টিনাকে এতটা জায়গা দেওয়া কিছুতেই উচিত হয়নি ট্যাকটিক্যালি আরও কঠোর হওয়া উচিত ছিল আমাদের।” এত সাফাই দিয়েও কি চাকরি বাঁচাতে পারবেন টুখেল?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘মহারাজ এ কী সাজে’! সোবার্স মৃত, চিরজীবিত থাকবে তাঁর ক্রিকেট গরিমা
-
মোবাইলে আর্জেন্টিনার খেলা দেখায় বুঁদ, খালে পড়ে মৃত্যু বাংলাদেশের যুবকের
-
বন্ধ কারখানায় উদ্ধার কন্ডোম, চলত মধুচক্র! খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ মালিকের
-
স্কুল-পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, কাদের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়? জারি নির্দেশিকা
-
চাইলেই কি মুজিব মোছা যায়! ‘বিপ্লবী’ ছাত্রদের নেতার মুখেই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
