ভারত: ২ (আনোয়ার, সন্দেশ)
তাজিকিস্তান: ১ (সামিয়েভ)
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: পরীক্ষাটা যে কঠিন হবে, সেটা ভালোমতোই জানতেন খালিদ জামিল। আর পরীক্ষাটা তো শুধু মাঠে নয়, মাঠের বাইরেও। বহু সমালোচিত ভারতীয় দলের কোচ হওয়ার চাপ। প্রথম ম্যাচই দেশের বাইরে। তাও র্যাঙ্কিংয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে থাকা তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে, তাদেরই ঘরের মাঠে। সেই পরীক্ষায় হাসতে হাসতে না হলেও পাশ করলেন খালিদ জামিল। কাফা কাপের প্রথম ম্যাচে তাজিকিস্তানকে ২-১ গোলে হারাল ব্লু টাইগাররা। ভারতের হয়ে গোল আনোয়ার আলি ও সন্দেশ ঝিঙ্ঘানের। পেনাল্টি বাঁচান গুরপ্রীত সিং সান্ধু। প্রায় ৬ মাস পর জয়ের দেখা পেল ভারতীয় দল।
শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল ভারতীয় দল। এমন নয় যে, মানোলো আমলের সঙ্গে আকাশপাতাল তফাৎ। তবু যে দলটা গোল করার অভাবে ভুগছিল, সেই দলটাই ১৩ মিনিটের মধ্যে ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। ৪ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আনোয়ার। উভাইসের লম্বা থ্রো বক্সের মধ্যে ভেসে এলে হেডে গোল করে যান আনোয়ার। ১৩ মিনিটের মাথায় ফের আঘাত। এবার আনোয়ারের ক্রস। মাথা ছোঁয়ালেন রাহুল ভেকে। সেটা গোল লাইন থেকে ফিরতেই জালে বল জড়িয়ে দেন আরেক ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্ঘান।
কিন্তু পুরনো রোগে ফিরতে বেশিক্ষণ লাগেনি ভারতীয় দলের। সাহাল, ব্র্যান্ডনরা না থাকায় মাঝমাঠে বল ধরা বা খেলার ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করার ফুটবলার নেই। সুরেশ বা জিকসনরা অনেক বেশি রক্ষণাত্মক। সেই সুযোগটা কাজে লাগাল তাজিকিস্তান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ম্যাচের রাশ চলে যায় তাদের হাতে। দুটো সাইড ব্যাকে অভিজ্ঞতার অভাবও ভোগল খালিদের দলকে। ২৩ মিনিটের মাথায় প্রথমে বোবোয়েভ সুরেশকে মাটি ধরালেন। সেখান থেকে বক্সের মধ্যে পাঠানো বলে গোল করে যান সামিয়েভ। অনায়াসে পিছনে ফেলে দেন সন্দেশ ঝিঙ্ঘানকে। প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিলেন গুরপ্রীতরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও কিছুটা একই ছবি। টানা আক্রমণ শানাল তাজিকিস্তান। এবার রক্ষাকর্তা হয়ে উঠল গুরপ্রীত সিং সান্ধুর দস্তানা। অনেকদিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরলেন। মাঝে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিল। এদিন যেন তার জবাব সব দিলেন অধিনায়ক গুরপ্রীত। বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল বাঁচালেন। ৭০ মিনিটে পেনাল্টি পায় তাজিকিস্তান। সোইরোভকে পিছন থেকে আটকে দেন বিক্রম প্রতাপ। ফুটবলে যাকে ‘সফট টাচ’ বলে, সেরকম হলেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন রেফারি। সেখানে পরিত্রাতা হয়ে উঠলেন গুরপ্রীত। ডানদিকে ঝাঁপালেও বল ছিল মাঝখানে। পা কাজে লাগিয়ে বল জালে জড়াতে দেননি তিনি।
শেষের দিকে কাউন্টার অ্যাটাকে ভারতের কাছে সুযোগ এসেছিল। বদলি হিসেবে নামা মহেশের শট বাঁচিয়ে দেন তাজিকিস্তানের গোলকিপার। বাকি সময়টা বল ঘোরাফেরা করল ভারতের পেনাল্টি বক্সের আশেপাশে। কিন্তু তাতে লাভের লাভ হয়নি। ভারত ম্যাচ জেতে ২-১ গোলে।
ফলাফলের বাইরে এই ম্যাচ থেকে কী পেল টিম ইন্ডিয়া? পাসিং, পজিশনিংয়ে বিরাট কিছু উন্নতি হয়নি। কিন্তু প্লেয়ারদের মধ্যে অন্তত তালমিল চোখে পড়েছে। বিশেষ করে শেষের দিকে টানা রক্ষণ করে যাওয়ার সময় প্রত্যেকেই যথেষ্ট দায়বদ্ধতা দেখিয়েছেন। আবার সেটাই পরে বিপদের কারণ না হয়ে দেখা দেয়। তাছাড়া সাইড ব্যাকে গতির অভাবও চোখে পড়ল। এরপর সামনে ইরানের মতো কঠিন প্রতিপক্ষ। আশা করা হয়, খালিদ কিছু না কিছু ‘ম্যাজিকে’র মন্ত্র তৈরি রাখছেন।
সর্বশেষ খবর
-
এমবাপে ম্যাজিকেই বাজিমাত, সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করল ফ্রান্স
-
প্রথমবার নেহরু টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন, হকিতে ভারত জয় পুরুলিয়া সৈনিক স্কুলের
-
হকার উচ্ছেদ ঘিরে কৃষ্ণনগর স্টেশনে ধুন্ধুমার! পুলিশের সঙ্গে বচসা, হাতাহাতি সিটু, এসইউসিআই কর্মীদের
-
‘ভারতীয়দেরও প্রাণ গিয়েছে’, জি-৭ বৈঠকে ট্রাম্পের সামনেই নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে উষ্মা মোদির
-
সরকারি কাজেই আধারের অপব্যবহার? এবার কেন্দ্র ও UIDAI-কে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের