দুলাল দে: ইগর স্টিমাচের জায়গায় তিন বছরের জন্য ভারতীয় কোচ হিসাবে চুক্তিবদ্ধ হলেন এফসি গোয়ার মানোলো মার্কুয়েজ (Manolo Marquez)। একাধারে তিনি জাতীয় কোচ। আবার আরেক পাশে তিনি এফসি গোয়ার কোচ।
স্বাভাবিকভাবেই অনেকে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, একইসঙ্গে ক্লাব কোচ ও জাতীয় কোচ– দু’টোর দায়িত্ব সামলাবেন তিনি। মানোলোর সঙ্গে ফেডারেশন কর্তাদের যখন আলোচনা হয়, তখন ফিফার ক্যালেন্ডার ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, মে পর্যন্ত চারটে মাত্র ফিফা উইন্ডো রয়েছে। ফেডারেশনের কোচ বাছার ক্ষেত্রে প্রাথমিক শর্তই ছিল, এবছর ভালো বেতন দিতে পারবে না। কারণ ইগর স্টিমাচকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ভালোই অর্থ দিতে হবে। দু’জন কোচকে একইসঙ্গে বেতন দেওয়ার মতো আর্থিক অবস্থা এই মুহূর্তে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) নেই। এদিকে মানোলোও চাইছিলেন জাতীয় কোচের (Indian Football Team) দায়িত্ব নিতে, ফেডারেশনও চাইছিল তাঁকে নিতে।
এরপরই ফিফা ক্যালেন্ডার ঘেঁটে দেখা যায় চারটে ফিফা উইন্ডো ছাড়া প্রথম বছরে মার্চ মাসে শুরু হবে এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্ব। আর সেপ্টেম্বরে আছে ত্রিদেশীয় নেশনস কাপ। যেখানে ভারত ছাড়াও আছে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। অথচ মানোলোকে যদি পুরোপুরি জাতীয় কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তাঁকে যে বেতন দিতে হবে তা দেওয়া সম্ভব নয় ফেডারেশনের পক্ষে। এরপরই ফেডারেশন কর্তারা এবং মানোলো নিজে কথা বলেন এফসি গোয়ার (FC Goa) কর্তাদের সঙ্গে। ফেডারেশনের তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়, প্রথম বছরে পুরো ৩৬৫ দিনের বেতন পাবেন না মানোলো। যে যে মুহূর্তে তিনি জাতীয় শিবিরে থাকবেন, সেই সময়ের জন্য একটা অর্থ পাবেন। বাকি সময়টা এফসি গোয়া থেকে যেভাবে বেতন পাচ্ছিলেন, সেভাবেই পাবেন তিনি। আর এর ফলে আর্থিক ভাবে সমস্যা হবে না মানোলোর, একই সঙ্গে ফেডারেশনেরও। হাবাসকে কোচ করলে ৩৬৫ দিনের ভালো বেতন দিতে হত ফেডারেশনকে। সঞ্জয় সেনকে নিলে কম হলেও বেতন দিতে হত সারা বছর ধরে। কিন্তু মানোলোর ক্ষেত্রে সারা বছর ধরে বেতন দেওয়ার প্রশ্ন নেই। আবার বিদেশি কোচও পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। ফেডারেশনের এই প্রস্তাব দেওয়ার পর এফসি গোয়ার থেকে বলা হয়, তাদের পক্ষে নতুন করে এই মুহূর্তে মানোলোর জায়গায় কোচ নেওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়া মানোলো যে সময় জাতীয় শিবির করাবেন, সেসময় এমনিতেই আইএসএল বন্ধ থাকবে। ফলে তাদের মানোলোকে জাতীয় দলের কোচ হিসাবে ছাড়লে খুব একটা অসুবিধা হবে না।
[আরও পড়ুন: আনোয়ার আলিকে নিয়ে অবস্থান কী? জট কাটাতে ফেডারেশনের চিঠি মোহনবাগানকে]
কিন্তু এভাবে চিরকালীন সম্ভব নয়। কারণ মানোলো ফেডারেশনের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি করতে চেয়েছেন। তখন ঠিক হয়, ৩১ মে পর্যন্ত এফসি গোয়া এবং ফেডারেশন– দু’দিক থেকেই অর্থ নেবেন মানোলো। আর এতে দু’পক্ষেরই আর্থিক সমস্যার সমাধান হবে। আবার এফসি গোয়ার পক্ষেও কোনও সমস্যা হচ্ছে না। তখনই ঠিক হয়ে যায়, ১ জুন থেকে পাকাপাকিভাবে এফসি গোয়া ছেড়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেবেন মানোলো। তখন ফেডারেশনের সঙ্গে তাঁর আর্থিক চুক্তি হবে নতুন ভাবে। এবং তা অনেকটাই বেশি। ফেডারেশন কর্তারা মনে করছেন, এই এক বছরের মধ্যে স্টিমাচের আর্থিক সমস্যা তাঁরা সমাধান করে ফেলতে পারবেন। পরের বছর মানোলোকে জাতীয় কোচ হিসাবে বেতন দিতে কোনও সমস্যাই থাকবে না। সেভাবেই তিন বছরের চুক্তি করা হয়েছে মানোলোর সঙ্গে। এবং চুক্তি অনুযায়ী ৩১ মে পর্যন্ত তিনি জাতীয় দলের সঙ্গে এফসি গোয়ারও কোচ থাকবেন।
[আরও পড়ুন: আগামী বছর ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ! চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জটের মধ্যেই তুঙ্গে জল্পনা]
সর্বশেষ খবর
-
মিড ডে মিলের মাংস দিয়ে স্যারের বিবাহ বার্ষিকীর ভোজ! শান্তিপুরের স্কুলে তুমুল শোরগোল
-
অফিসের ২৫ জনকে পুলিশি হেনস্তা! ভয় দেখিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড, দাবি অভিষেকের
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের
-
অ্যাসিড হামলায় কড়া আইনের দাবি, সরব মহিলাদের ক্ষমতায়ন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি