দুলাল দে: আইএসএল নিয়ে ক্লাবজোটের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত লিগ আয়োজন নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ফেডারেশন। সেখানে নিজেরা লিগ আয়োজন করার পাশাপাশি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সেই লিগের সূচি প্রকাশ করে দেওয়া হবে বলেও শনিবার ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও কীভাবে সেই লিগ আয়োজিত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কারণ তিন সদস্যের এআইএফএফ-আইএসএল সমন্বয় কমিটির দেওয়া রিপোর্ট ফেডারেশন কর্তাদের বৈঠকে গৃহীত হয়েছে বটে। কিন্তু সেই রিপোর্ট মেনে এখনও ক্লাবদের মতামত জানার প্রক্রিয়াই শুরু করা হয়নি। ফলে সব কিছু মিটিয়ে কবে লিগ শুরু করা সম্ভব হবে, তা স্পষ্ট নয় এখনও।
ফেডারেশন চেয়েছিল, লিগ আয়োজনের খরচ বহন করুক ক্লাবগুলোও। যার ফলে প্রতিটি ক্লাবকে ৬-৭ কোটি টাকা বাড়তি খরচ করতে হত। যে প্রস্তাবে রাজি না হয়ে ক্লাবজোটের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক না করলে লিগ আয়োজনের দায়িত্ব নিতে হবে ফেডারেশনকেই। অর্থাৎ লিগ পরিচালনা বা খেলা সম্প্রচারের মতো বিষয়ে খরচ বহন করবে না ক্লাবগুলি। এর আগে আইএসএলে শুধু ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব সামলাত ক্লাব, বাকি খরচ বহন করত এফএসডিএল। এবারও সেই ফরম্যাট মেনে বাকি খরচের দায়িত্ব ফেডারেশনকে নিতে হবে বলে জানায় ক্লাবজোট।
এই নিয়ে ফেডারেশন দ্রুত বৈঠক ডাকে। প্রাথমিকভাবে সেই বৈঠককে ‘এমার্জেন্সি মিটিং’ নাম দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল ফেডারেশনের তরফে। তবে কিছু কর্তা প্রতিবাদ জানান যে এমন কিছুর উল্লেখ নেই ফেডারেশনের সংবিধানে। এরপরই এই বৈঠককে ‘অফিস বেয়ারার্স মিটিং’ বলে উল্লেখ করা হয়।
আইএসএল জট কাটানোর জন্য তিন রাজ্য সংস্থার কর্তাকে নিয়ে কমিটি গড়ে দিয়েছিল ফেডারেশন। এদিন সেই কমিটির তরফে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। বাংলা-গোয়া-কেরলের তিন কর্তার দেওয়া রিপোর্টে বলা হয়, ব্রডকাস্টিংয়ের খরচ বাবদ মোট ৫ কোটি টাকা দেবে ফেডারেশন, বাকিটা বহন করতে হবে ক্লাবগুলিকেই। আর লিগ খেলার জন্য যে এক কোটি টাকা দিতে হবে, তা মেটানোর জন্য আগামী জুন পর্যন্ত সময় পাবে ক্লাবগুলি। এছাড়া কোন ফরম্যাটে, কটা ম্যাচের লিগ চাইছে তা নিয়ে ক্লাবগুলির সঙ্গে কথা বলার জন্য বলা হয় ফেডারেশনকে। ৪ জানুয়ারির মধ্যে এই আলোচনা শেষ করে পুরো বিষয়টি নিয়ে ফেডারেশন চিঠি দেবে এএফসি-কে, সেই প্রস্তাবও দেওয়া হয় রিপোর্টে। কারণ লিগের ফরম্যাটে এএফসি-র সম্মতি থাকতে হবে। এদিন ফেডারেশন কর্তাদের বৈঠকে সেই রিপোর্ট গৃহীত হয়েছে ঠিকই, তবে ক্লাবগুলির সঙ্গে কোনও আলোচনাই শুরু হয়নি। ফলে ৪ জানুয়ারির মধ্যে কীভাবে এএফসি-কে কীভাবে চিঠি দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়। কারণ ফেডারেশনের চিঠি পাওয়ার পর ক্লাবজোট জবাব দেবে, তারপর সেই জবাব দেখে এএফসি-কে চিঠি দিতে অনেকটাই সময় লাগবে।
এআইএফএফ আইএসএল সমন্বয় কমিটির সদস্য তথা গোয়া ফুটবল সংস্থার সভাপতি কাইতানো ফার্নান্ডেজও লিগ আয়োজন নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন ফেডারেশনকে। এর মধ্যে নতুন কমার্শিয়াল পার্টনার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া এই মাসের মধ্যে শেষ করার কথাও বলা হয়েছে। তাঁর প্রস্তাব, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে ফের টেন্ডার ডাকুক ফেডারেশন। ৩১ জানুয়ারির মধ্যে শেষ হোক সেই সংক্রান্ত কাজ। তাছাড়া লিগ আয়োজনের দায়িত্ব ফেডারেশনকে নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথা অনুযায়ী, একই ভেন্যুতে ১৪ দল নিয়ে সিঙ্গল লেগে আইএসএল আয়োজন করা হোক। সেক্ষেত্রে দলগুলি মোট ১৩টি করে ম্যাচ খেলবে লিগে। তবে সবটাই এখনও রয়েছে প্রস্তাবের স্তরে। ফলে ফেডারেশন আগামী সপ্তাহে আইএসএলের সূচি জানানোর কথা ঘোষণা করলেও তা বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে ধন্ধ রয়েই গিয়েছে।
সর্বশেষ খবর
-
দলে কথা বলার সুযোগ পাননি! ভোটে হেরে রাজনৈতিক সন্ন্যাসের সিদ্ধান্ত প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিসের
-
‘বিজেপির দরজা বন্ধ, তাতেই দলটা…’, তৃণমূলের ভাঙনে অভিষেকের ‘দরজা’ মন্তব্য মনে করালেন দিলীপ
-
চালকল সিন্ডিকেটের ‘অঘোষিত সম্রাট’,কোটি কোটি টাকা আত্মসাতে গ্রেপ্তার অনুব্রতর ‘ছায়াসঙ্গী’
-
এবার কলকাতা পুরসভাতেও ‘নতুন তৃণমূল’, কানন-স্নেহে ‘ছোট লালবাড়ি’র রাশও হারাবেন মমতা!
-
সিএবির সাপোর্ট ছাড়া একশো ম্যাচ খেলতে পারত? ‘প্রতিভাহীন’ সৌরাশিসকে পালটা কোষাধ্যক্ষের