Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬

‘আমি যেন সেই সিইও যে টিমকে ডুবিয়ে দিল’

আইপিএলে একমাত্র সংবাদ প্রতিদিন-এর হয়ে লিখছেন গৌতম গম্ভীর৷ বিষণ্ণ কেকেআর অধিনায়ক আশা করছেন, রবিবার যখন কলকাতা এয়ারপোর্টে যাবেন তখন যেন বিলবোর্ডে নিজের সবচেয়ে ভয়াবহ ছবিটা দেখেও হাসতে পারেন৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৮, ১০:৪৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৮, ১০:৪৮

options
link
‘আমি যেন সেই সিইও যে টিমকে ডুবিয়ে দিল’ zoom
Advertisement

আইপিএলে একমাত্র সংবাদ প্রতিদিন-এর হয়ে লিখছেন গৌতম গম্ভীর৷ বিষণ্ণ কেকেআর অধিনায়ক আশা করছেন, রবিবার যখন কলকাতা এয়ারপোর্টে যাবেন তখন যেন বিলবোর্ডে নিজের সবচেয়ে ভয়াবহ ছবিটা দেখেও হাসতে পারেন৷

কিংস ইলেভেন ম্যাচটা হারার পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে৷ কিন্তু এখনও মনকে শান্ত করতে পারছি না৷ ম্যাচ হারা এক জিনিস৷ কিন্তু জেতা ম্যাচ হারা আর এক৷ খুব খারাপ খেলে সহজ একটা ম্যাচ হেরে গেলাম আমরা৷ দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, জয় আমাদের জন্য সামনের দরজায় অপেক্ষা করছে৷ অথচ আমরা পিছনের দরজা দিয়ে হারকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছি৷

Advertisement

এ বার হারের কারণে আসি৷ শুরু করতে চাই নিজেকে দিয়ে৷ আমি স্ট্রাইক রোটেট করতে পারিনি৷ প্রচুর ডট বল খেলেছি৷ যা টিমকে ভুগিয়েছে, রান তাড়া করায় প্রভাব ফেলেছে৷ তার পর অধৈর্য হয়ে পড়লাম৷ ঠিক যেন এক সিইও যে প্রথম তিন কোয়ার্টারে রেজাল্ট দিতে না পেরে প্রবল ঝুঁকি নিয়ে শেষ কোয়ার্টারে ঝাঁপাচ্ছে এবং শেষে কোম্পানিকে আরও ডুবিয়ে দিচ্ছে৷ স্ট্রাইক রোটেট না করে, ক্রিস লিনকে বেশি খেলার সুযোগ না দিয়ে আমি শুধু বাউন্ডারি মারা নিয়ে ভেবে গেলাম৷ আর শেষে কোথাওই পৌঁছতে পারলাম না৷ করেছি তো ১৮ বলে মাত্র ৮৷

নিজে পারলাম না৷ রবীনও প্রথম বলেই আউট৷ মণীশ পাণ্ডে– ওর আবার একটা অফ ডে গেল৷ পুরো চাপটা চলে গেল ক্রিস লিনের উপর৷ আমার মনে হয়, একটা সময়ের পর ও বুঝে উঠতে পারছিল না কী করবে? মারবে? না ধরবে? আস্কিং রেট বাড়ছিল, কিন্তু তখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়নি৷ রবীন যখন আউট হয়ে ফিরে আসছিল, ওর চোখেমুখে কষ্টটা দেখতে পাচ্ছিলাম৷ আমাদের দু’জনের হতাশা এতটাই ছিল যে, আজ ব্রেকফাস্ট টেবিলে আমরা পাশাপাশি বসেও একটা কথা বলিনি৷ এমনকী রবীনের স্ত্রী শীতল, যে কি না সব সময় ছটফট করে তাকে পর্যন্ত দেখলাম চুপচাপ মন দিয়ে ধোসা খাচ্ছে৷ সবাইকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, পাঞ্জাবের কাছে হারের কাঁটাটা কী ভাবে গায়ে বিঁধছে৷

কেউ কেউ আমাদের ব্যাটিং অর্ডারকেও দোষারোপ করতে পারেন৷ মোহালির স্লো পিচে লিনের সঙ্গে আমার ওপেন করতে যাওয়া উচিত ছিল? কে জানে, হয়তো তাই৷ হয়তো নয়৷ একটা মত শুনছি যে, লিন আর সুনীল ওপেন করছে বলে রবীন আর মণীশ অনেক পরে নামছে৷ আর কখনও কখনও নেমে প্রথম বল থেকেই চালানো ব্যাটসম্যানের পক্ষে কঠিন হয়ে যায়৷ তবে কিংস বোলারদের খোলখুলি প্রশংসা করতে হবে৷ টার্গেট যত না ছিল, ওরা দারুণ বল করে সেটাকে আরও বড় করে দিয়েছিল৷ ওদের দুই স্পিনার অক্ষর প্যাটেল আর রাহুল তেওয়াটিয়া এত নিখুঁত বল করছিল যে মনে হচ্ছিল যেন গুগল ম্যাপ৷ আমরা জানি, অক্ষর কী করতে পারে না পারে৷ কিন্তু তেওয়াটিয়া? চ্যাম্পিয়নের মতো পারফর্ম করে গেল টিমের জন্য৷ গতির হেরফের করছিল, লাইন পাল্টাচ্ছিল, ফ্লাইট বদলাচ্ছিল৷ লেগস্পিনার কখনও কখনও লাইন লেংথ নিয়ে সমস্যায় পড়ে, অত নিখুঁত থাকতে পারে না৷ কিন্তু তেওয়াটিয়া জিপিএস ট্র্যাকার নিয়ে বল করছিল! দুই শর্মা–মোহিত আর সন্দীপের কথাও বলতে হবে৷ ওরাও দারুণ বল করেছে৷ মোহিতকে নাকল বলটা খুব ভাল ভাবে ব্যবহার করতে দেখলাম৷ বৈচিত্র আয়ত্ত করা এক জিনিস৷ কিন্তু সেটাতেই সব হয় না৷ কখন বৈচিত্র ব্যবহার করব, সেটাও জানতে হয়৷ আর নাকল বল করা অত সহজ নয়৷ নাকল বলটা আসলে এসেছে বেসবল থেকে৷ বেসবলে পিচার (যে কি না বল ছোঁড়ে) একটা নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে নাকল বল করে৷ তাঁদের যথেষ্ট সম্মান দিয়েই বলছি, মোহিতের মতো ক্রিকেটারদের বাড়তি কৃতিত্ব প্রাপ্য৷ কারণ ওরা একই জিনিস করে পুরো স্পিডে ছুটে এসে৷

এক-এক সময় মনে হয়, মানুষের মন কত অদ্ভুত ভাবে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করে৷ কলকাতা এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে ফিরি যখন, কেকেআরের প্রচুর বিলবোর্ড চোখে পড়ে৷ আমি, আমার টিমমেটরা দাঁড়িয়ে৷ আমরা যখন জিতি, বিলবোর্ডে নিজের সবচেয়ে গোমড়া ছবি দেখলেও নিজেকে বলি, ‘বাহ, ছবিটা তো দারুণ গোতি৷ গুড ইণ্টেনসিটি৷’ কিন্তু হারের পর নিজের সবচেয়ে ভাল ছবিটা দেখলেও মনে মনে বলি, ‘কাম অন গোতি৷ এ সব ফালতু৷ পুরো নকল৷’ শনিবার আমরা কলকাতায় নিজেদের শেষ ম্যাচটা খেলতে নামব৷ আশা করছি, রবিবার যখন এয়ারপোর্ট যাব, হোর্ডিংয়ে নিজের সবচেয়ে ভয়াবহ ছবিটা দেখেও মনে মনে প্রশংসা করতে পারব!

দীনেশ চোপড়া মিডিয়া

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.