আইপিএলে একমাত্র সংবাদ প্রতিদিন-এর হয়ে লিখছেন গৌতম গম্ভীর৷ বিষণ্ণ কেকেআর অধিনায়ক আশা করছেন, রবিবার যখন কলকাতা এয়ারপোর্টে যাবেন তখন যেন বিলবোর্ডে নিজের সবচেয়ে ভয়াবহ ছবিটা দেখেও হাসতে পারেন৷
কিংস ইলেভেন ম্যাচটা হারার পর ২৪ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে৷ কিন্তু এখনও মনকে শান্ত করতে পারছি না৷ ম্যাচ হারা এক জিনিস৷ কিন্তু জেতা ম্যাচ হারা আর এক৷ খুব খারাপ খেলে সহজ একটা ম্যাচ হেরে গেলাম আমরা৷ দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, জয় আমাদের জন্য সামনের দরজায় অপেক্ষা করছে৷ অথচ আমরা পিছনের দরজা দিয়ে হারকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছি৷
এ বার হারের কারণে আসি৷ শুরু করতে চাই নিজেকে দিয়ে৷ আমি স্ট্রাইক রোটেট করতে পারিনি৷ প্রচুর ডট বল খেলেছি৷ যা টিমকে ভুগিয়েছে, রান তাড়া করায় প্রভাব ফেলেছে৷ তার পর অধৈর্য হয়ে পড়লাম৷ ঠিক যেন এক সিইও যে প্রথম তিন কোয়ার্টারে রেজাল্ট দিতে না পেরে প্রবল ঝুঁকি নিয়ে শেষ কোয়ার্টারে ঝাঁপাচ্ছে এবং শেষে কোম্পানিকে আরও ডুবিয়ে দিচ্ছে৷ স্ট্রাইক রোটেট না করে, ক্রিস লিনকে বেশি খেলার সুযোগ না দিয়ে আমি শুধু বাউন্ডারি মারা নিয়ে ভেবে গেলাম৷ আর শেষে কোথাওই পৌঁছতে পারলাম না৷ করেছি তো ১৮ বলে মাত্র ৮৷
নিজে পারলাম না৷ রবীনও প্রথম বলেই আউট৷ মণীশ পাণ্ডে– ওর আবার একটা অফ ডে গেল৷ পুরো চাপটা চলে গেল ক্রিস লিনের উপর৷ আমার মনে হয়, একটা সময়ের পর ও বুঝে উঠতে পারছিল না কী করবে? মারবে? না ধরবে? আস্কিং রেট বাড়ছিল, কিন্তু তখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়নি৷ রবীন যখন আউট হয়ে ফিরে আসছিল, ওর চোখেমুখে কষ্টটা দেখতে পাচ্ছিলাম৷ আমাদের দু’জনের হতাশা এতটাই ছিল যে, আজ ব্রেকফাস্ট টেবিলে আমরা পাশাপাশি বসেও একটা কথা বলিনি৷ এমনকী রবীনের স্ত্রী শীতল, যে কি না সব সময় ছটফট করে তাকে পর্যন্ত দেখলাম চুপচাপ মন দিয়ে ধোসা খাচ্ছে৷ সবাইকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, পাঞ্জাবের কাছে হারের কাঁটাটা কী ভাবে গায়ে বিঁধছে৷
কেউ কেউ আমাদের ব্যাটিং অর্ডারকেও দোষারোপ করতে পারেন৷ মোহালির স্লো পিচে লিনের সঙ্গে আমার ওপেন করতে যাওয়া উচিত ছিল? কে জানে, হয়তো তাই৷ হয়তো নয়৷ একটা মত শুনছি যে, লিন আর সুনীল ওপেন করছে বলে রবীন আর মণীশ অনেক পরে নামছে৷ আর কখনও কখনও নেমে প্রথম বল থেকেই চালানো ব্যাটসম্যানের পক্ষে কঠিন হয়ে যায়৷ তবে কিংস বোলারদের খোলখুলি প্রশংসা করতে হবে৷ টার্গেট যত না ছিল, ওরা দারুণ বল করে সেটাকে আরও বড় করে দিয়েছিল৷ ওদের দুই স্পিনার অক্ষর প্যাটেল আর রাহুল তেওয়াটিয়া এত নিখুঁত বল করছিল যে মনে হচ্ছিল যেন গুগল ম্যাপ৷ আমরা জানি, অক্ষর কী করতে পারে না পারে৷ কিন্তু তেওয়াটিয়া? চ্যাম্পিয়নের মতো পারফর্ম করে গেল টিমের জন্য৷ গতির হেরফের করছিল, লাইন পাল্টাচ্ছিল, ফ্লাইট বদলাচ্ছিল৷ লেগস্পিনার কখনও কখনও লাইন লেংথ নিয়ে সমস্যায় পড়ে, অত নিখুঁত থাকতে পারে না৷ কিন্তু তেওয়াটিয়া জিপিএস ট্র্যাকার নিয়ে বল করছিল! দুই শর্মা–মোহিত আর সন্দীপের কথাও বলতে হবে৷ ওরাও দারুণ বল করেছে৷ মোহিতকে নাকল বলটা খুব ভাল ভাবে ব্যবহার করতে দেখলাম৷ বৈচিত্র আয়ত্ত করা এক জিনিস৷ কিন্তু সেটাতেই সব হয় না৷ কখন বৈচিত্র ব্যবহার করব, সেটাও জানতে হয়৷ আর নাকল বল করা অত সহজ নয়৷ নাকল বলটা আসলে এসেছে বেসবল থেকে৷ বেসবলে পিচার (যে কি না বল ছোঁড়ে) একটা নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে নাকল বল করে৷ তাঁদের যথেষ্ট সম্মান দিয়েই বলছি, মোহিতের মতো ক্রিকেটারদের বাড়তি কৃতিত্ব প্রাপ্য৷ কারণ ওরা একই জিনিস করে পুরো স্পিডে ছুটে এসে৷
এক-এক সময় মনে হয়, মানুষের মন কত অদ্ভুত ভাবে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করে৷ কলকাতা এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে ফিরি যখন, কেকেআরের প্রচুর বিলবোর্ড চোখে পড়ে৷ আমি, আমার টিমমেটরা দাঁড়িয়ে৷ আমরা যখন জিতি, বিলবোর্ডে নিজের সবচেয়ে গোমড়া ছবি দেখলেও নিজেকে বলি, ‘বাহ, ছবিটা তো দারুণ গোতি৷ গুড ইণ্টেনসিটি৷’ কিন্তু হারের পর নিজের সবচেয়ে ভাল ছবিটা দেখলেও মনে মনে বলি, ‘কাম অন গোতি৷ এ সব ফালতু৷ পুরো নকল৷’ শনিবার আমরা কলকাতায় নিজেদের শেষ ম্যাচটা খেলতে নামব৷ আশা করছি, রবিবার যখন এয়ারপোর্ট যাব, হোর্ডিংয়ে নিজের সবচেয়ে ভয়াবহ ছবিটা দেখেও মনে মনে প্রশংসা করতে পারব!
দীনেশ চোপড়া মিডিয়া
সর্বশেষ খবর
-
মূত্রনালিতে আটকে হেয়ার পিন! মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে নজিরবিহীন অস্ত্রোপচার বছর তেইশের যুবকের
-
মেয়ে ‘খুনি’, হৃদরোগে আক্রান্ত সিয়ার বাবা! মা বলছেন, ‘ওকে মৃত্যুদণ্ড দিক…’
-
দুর্যোগ কাটতেই তারাতলায় ফের উদ্ধারকাজ শুরু, নাইট ভিশন ক্যামেরায় চলছে তল্লাশি
-
‘৫ জন থাকলেও ধর্মতলায় যাব’, ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় ঘোষণা মমতার
-
সিএবিতে ফের নাটক! অ্যাপেক্স সদস্যের আচমকা ইস্তফা চাপ বাড়াল সহ-সভাপতির উপর