সোম রায়, নয়াদিল্লি: চাঁদনি চকের সামনে এক বয়স্ক ভদ্রলোক থমকে দাঁড়ালেন। অস্ফুট স্বরে কী বলতে চাইলেন একমাত্র তিনিই জানেন। তবে প্রশ্নের উত্তরে বুঝিয়ে দিলেন, “তোমরা বাপু কলকাতার ছেলে। ফুটবল ভালবাসতেই পার। আমরা ওসবের মধ্যে নেই।” যতই হোক দেশের রাজধানী। আর সেখানেই যদি ফুটবল ব্রাত্য হয়ে যায় আমজনতার কাছে তখন সত্যিই ব্যাপারটা কেমন দুঃখ লাগে। ভাবায়, কোটি কোটি টাকা খরচ করে তাহলে লাভ কী? কী হবে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখে? রাতে নেহরু স্টেডিয়ামে শুরু হতে চলা ভারতের প্রথম ম্যাচ নিয়ে আবেগের চেয়ে কৌতূহলই অনেক বেশি। কারণ, ম্যাচ জেতার কথা ভুলে ছেলেরা কে কতটা পারফরম্যান্স দেখাবে এবং ম্যাচে ভারত কটা গোল খাবে তা নিয়েই জল্পনা ছড়িয়েছে রাজধানীতে।
তবে যাইহোক না কেন, মাঝে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তারপরেই শুরু হয়ে যাবে ফুটবল যুদ্ধ। হোক না জুনিয়র স্তরের খেলা। নাইবা চাক্ষুষ করা গেল মেসি, রোনাল্ডোদের। কিন্তু পওলিনহো, জাডন সাঞ্চো, আবেল রুইজ, মহম্মদ দাউদদের নাম তো আগামী কয়েকদিন ফুটবলপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘুরে বেড়াবে। সকলেই তখন ঝাঁপিয়ে পড়বেন, এইসব তারকাদের ইতিহাস জানতে। তার চেয়েও বড় কথা, এঁরাই তো হবেন আগামী দিনের তারকা।
[জানেন, কেন যুব বিশ্বকাপের শুরুতে থাকছে না কোনও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান?]
ফিফার কড়া নির্দেশে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হচ্ছে না। কিন্তু আজ থেকে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপকে ঘিরে শুরু হয়ে যাচ্ছে ধুন্ধুমার কাণ্ড। সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে রেখে দেওয়া হয়েছে জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামকে। আশপাশের রাস্তায় কড়া প্রহরার মধ্যে যান চলাচল শুরু হয়েছে। গাড়ি চলাচলের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে বারবার প্রশাসনের তরফ থেকে অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রশাসন চাইছে না বিশ্বকাপের মাঝে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার সাক্ষী থাকুক দিল্লি। তার উপর স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন ভারতের ম্যাচ দেখতে। সঙ্গে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন অলিম্পিক ও এশিয়ান গেমসে নেতৃত্ব দেওয়া প্রাক্তন ফুটবলারদের।
[যুব বিশ্বকাপে আমেরিকার বিরুদ্ধে নামার আগে আত্মবিশ্বাসী অমরজিৎরা]
এদিকে, টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় ফুটবলারদের পরিবারবর্গকে হাজির করিয়ে সত্যিই এক অভিনব ঘটনার সাক্ষী থেকেছে ফেডারেশন। আজ তাঁদের দু’চোখ কখন হয়তো চিকচিক করে উঠবে। কখনও হয়তো মুষ্টিবদ্ধ দুটো হাত উঠে যাবে শূন্যে। চিৎকারে ফেটে পড়বেন তাঁরা। সত্যিই দিনটা যে আজ তাঁদের। তবে একটা জিনিস স্পষ্ট, যত সময় গড়াচ্ছে ততই যেন বিশ্বকাপের আচঁ বেশ গনগনে হয়ে উঠছে। কোচ মাতোস ঠিক কথাই বলেছেন। আজ ভারতের হয়ে ১১ জন খেলবে না। খেলবে বারোজন। আর এই দ্বাদশ ব্যক্তিটি হল গোটা স্টেডিয়াম। টিকিট বিক্রির হাল যতই খারাপ হোক না কেন, স্টেডিয়াম মনে হয় না তেমন ফাঁকা থাকবে। ভারতের গ্রুপে থাকা দলগুলির মধ্যে অবশ্যই আমেরিকা অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে পারলে ভারত যেমন গ্রুপ লিগের খেলায় সুবিধাজনক জায়গায় চলে যাবে। অন্যদিকে বাকি দুই প্রতিপক্ষ খেলতে নামার আগে ভয় পেতে বাধ্য হবে। মাতোস জানিয়েছেন, এক পয়েন্ট পেলেই তিনি সন্তুষ্ট থাকবেন। আসলে এটা তাঁর মুখের কথা। অন্তরের অন্তস্থলে তিনি চাইছেন, আমেরিকাকে হারিয়ে শুরুটা ভাল করতে পারলে পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার পথ অনেকটা প্রশস্ত হতে বাধ্য।
[শহরে ফুটবল উৎসবের আগমনী সুর, যুবভারতী স্টেডিয়ামের হালহকিকত কেমন?]
এদিকে, বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক শহর কলকাতা। আগামী ২৮ অক্টোবর বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে এখানেই। আর তাই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে একটি অফিশিয়াল থিম সং-ও তৈরি করা হয়েছে। দেখে নিন সেটি। ভিডিওতে রয়েছেন সুব্রত ভট্টাচার্য, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌতম সরকার, প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্যান্য প্রাক্তন তারকা ফুটবলাররা। গানটি তৈরি করা হয়েছে মান্না দে-র গাওয়া বিখ্যাত ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল’ গানটির আদলে।
সর্বশেষ খবর
-
নির্দল থেকে চেয়ারম্যান পদে! তৃণমূলের সমর্থনে কামারহাটির পুরপ্রধান লকেটের দাদা
-
বিধায়কদের ক্লাস করাতে এসে শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ওম বিড়লা! মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় বাম-তৃণমূল
-
বিজ্ঞান জগতেও সমাদৃত শ্যামাপ্রসাদ! নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার নামকরণে ‘ভারত কেশরী’
-
ব্রিজে ওঠার মুখে গাড়ির উপর ভেঙে পড়ল লোহার বার, বন্ধ বাগুইআটি ফ্লাইওভার
-
মিলবে ৫০ শতাংশ এরিয়ার! রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে পেনশনভোগীদের জন্য বিরাট সুখবর