সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিপক্ষ যখন পাকিস্তান, তখন হার মানার প্রশ্নই ওঠে না। তা সে ক্রিকেটের বাইশ গজে হোক কিংবা সীমান্তে। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলতে নারাজ। আর হার মানেই তা লজ্জাজনক, অসম্মানের। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট লড়াইয়ের প্রথম উদাহরণই হবে ভারত-পাক দ্বৈরথ। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কটা ঠিক এমনই উত্তপ্ত। কিন্তু লড়াইটা তো মাঠের। মাঠের বাইরে অবশ্য ভারত-পাক ক্রিকেটারদের স্পোর্টসম্যান স্পিরিটকে কুর্নিশ জানাতেই হয়।

একবার নয়, ক্রিকেটের ইতিহাসে দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের একাধিক উদাহরণ রয়েছে। তেমনই এক উদাহরণের কথা উঠে এল চলতি মহিলা বিশ্বকাপের মাঝেও। পাকিস্তানি ক্রিকেটার কায়নাত ইমতিয়াজ জানালেন, কোনও পাক তারকা নয়, তিনি ক্রিকেটে পা রাখার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন এক ভারতীয় ক্রিকেটারের থেকে। এক কথায় বলা যেতে পারে, তিনিই কায়নাতের রোল মডেল। ঝুলন গোস্বামী। বিশ্ব ক্রিকেটে যে ভারতীয় পেসারের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
[ভারতীয় স্পিনার একতার সাফল্যে উপচানো ভিড় বাবার চা দোকানে]
ঘটনা ২০০৫ সালের। এশিয়া কাপে পাক মুলুকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ ভারতের। কায়নাতের বয়স তখন ১৩ বছর। টুর্নামেন্টে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে বল ধরার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর দেশই যখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে লড়ছেন, তখন কায়নাতের চোখ ছিল এক ভারতীয় পেসারের দিকেই। সেই দিনটাই তাঁর জীবনে বড়সড় পরিবর্তন এনে দিয়েছিল। ঝুলনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখেই ঠিক করে ফেলেছিলেন নিজের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য। আর এখন তিনি পাক মহিলা দলের নির্ভরযোগ্য বোলার। তাঁর ক্রিকেটার হয়ে ওঠার কৃতিত্ব তাই একদিনের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট প্রাপক ঝুলনকে দিতে এতটুকু কুণ্ঠা বোধ করেন না কায়্নাত। সীমান্তের কাঁটাতার তাঁর কৃতজ্ঞতাকে ছিন্নভিন্নও করতে পারে না। আর এখানেই হাজার শক্রুতা সত্ত্বেও জিতে যায় খেলার দুনিয়া। কায়নাত বলছেন, শুধু ঝুলনই নয়, প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক অঞ্জুম চোপড়ারও তিনি বড় ভক্ত।

মহিলাদের ক্রিকেটের থেকেও এই দুই দেশে যে পুরুষদের ক্রিকেট নিয়ে কয়েক গুণ বেশি মাতামাতি হয়, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই। ভারত-পাক লড়াই নিয়ে যখন দু’দলের সমর্থকরা শালীনতার সমস্ত মাত্রা ছাড়িয়ে যায়, তখন ক্রিকেটারদের মধ্যে বন্ধুতা সত্যিই নজর কাড়ে। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মহম্মদ আমিরের হাতে বিরাট কোহলির ব্যাট তুলে দেওয়ার ছবি থেকে পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের ছেলেকে মহেন্দ্র সিং ধোনির কোলে তুলে নেওয়া, এসবই স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের নিদর্শন। তাই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দু’দেশের সম্পর্ক যতই তলানিতে যাক, কিছু সম্পর্ক এভাবেই ক্রিকেট ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

[জানেন, কেন এমন চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন বুমরাহর দাদু?]
সর্বশেষ খবর
-
পুরদলেও ফাটল, আইনি জটের আশঙ্কা, মমতার পছন্দে মেয়র বাছতে ‘সই’ দিলেন না অধিকাংশ কাউন্সিলর!
-
ছবির দেশ, কবিতার দেশে রূপকথা! ফরাসি ওপেনে প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের স্বাদ জাভেরেভের
-
পাহাড় থেকে সমতল, ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বাংলা! আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় বাসিন্দারা
-
‘একে নেব না, ওকে নেব না বললে হবে না’, বঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐক্যের বার্তা বনশলের
-
শ্বাস যন্ত্রে কিছুতেই ফুঁ দিতে পারছেন না মদ্যপ! চড় কষালেন পুলিশকর্মী, ভিডিও ঘিরে বিতর্ক