১ আশ্বিন  ১৪২৫  মঙ্গলবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮  |  পুজোর বাকি আর ২৮ দিন

মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও রাশিয়ায় মহারণ ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংবাদ প্রতিদিন-এর জন্য বিশেষ আইপিএল কলম লিখছেন কেকেআর অধিনায়ক৷ গৌতম গম্ভীর ফাঁস করলেন ইডেনে আশ্চর্য জয়ের রহস্য৷

কেকেআরের সঙ্গে আমার সাত বছর ঘর করার মধ্যে গতকালই প্রথম আমি রাগে গরগর করছিলাম! গুজরাত ম্যাচ হারাটা আমাকে তখনও খোঁচা মেরে চলেছে৷ গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো পিঠে চেপেছে আরসিবি-র বিরুদ্ধে আমাদের এক উইকেটে ৬৫ থেকে ১৩১ রানে অল-আউট হওয়াটা! আইপিএল-এর ব্রেকে সাধারণত আমার প্রিয় ডিশ ভেটকি মাছের পাতুরির সঙ্গে আমি আরও একটু কিছু খেয়ে-টেয়ে থাকি৷ রবিবার তার বদলে ওই সময়টায় আমি ইডেনের ড্রেসিংরুমে বাথরুমের শাওয়ার খুলে তার নিচে তিন-চার মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলাম৷ নিজের তীব্র আবেগটাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলাম৷ কিন্তু সেই কাজে ডাহা ফেল হলাম৷ ইনিংস ব্রেকের সময়ও প্রায় শেষ হয়ে আসছে৷ তাই গোটা টিমকে কাছে ডেকে নিজের বক্তব্য পেশ করলাম৷ আর নিজের ভেতরে যা-যা ছিল, সব উগড়ে দিলাম৷

[‘বসতে হলে পাকিস্তানে যান’, মেট্রোয় হেনস্তা মুসলিম প্রৌঢ়কে]

টিমমেটদের থেকে ওদের সবচেয়ে বেশি তীক্ষ্মতাটা দাবি করলাম৷ ওদের কাছে জয় চাইলাম৷ সবাইকে সাফ বলে দিলাম, শোনো ভাই, মাঠে যার ভেতর লড়াইয়ে একুটও হালকা দেখব, জানবে কেকেআরের জার্সিতে এটাই তার শেষ ম্যাচ৷ অন্তত আমি যদ্দিন ক্যাপ্টেন আছি৷ ম্যাচের প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা পরে এই কলম লেখার সময়েও ভেসে উঠছে, ইনিংস ব্রেকের সময় আমার কয়েকজন টিমমেটের মুখগুলো৷ আমার দিকে কেউ হা করে তাকিয়ে৷ কেউ অবাক৷ এত বছর কেকেআর অধিনায়ক হিসেবে বেশিরভাগ সময় ছেলেরা আমাকে হালকা চালে দেখে এসেছে৷ তাদের উপর কখনও নিজেকে চাপিয়ে দিইনি৷ কিন্তু রবিবারের ব্যাটিং বিপর্যয় আমাকে কষ্ট দিয়েছিল৷ জানি না, ইডেনে টিভি ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যাপারটা ধরতে পেরেছিল কি না, তবে আরসিবি ইনিংসের সময় আমরা সারাক্ষণ ওদের ব্যাটসম্যানদের দিকে বিড়বিড় করে গিয়েছি৷ ওদের মনঃসংযোগ ঘেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করেছি৷ আইপিএল-এর ফেয়ারপ্লে পুরস্কারের লিস্টে আমি জায়গা হারাতে রাজি আছি, কিন্তু পয়েন্ট টেবিলে কেকেআরকে হড়কাতে দেখতে কিছুতেই নই৷

[চাইলে ফিরিয়ে নিন, জাতীয় পুরস্কার বিতর্কে জবাব বিরক্ত অক্ষয়ের]

আমার দল গতকাল দুর্ধর্ষভাবে সাড়া দিয়েছে৷ রিংটোনটা ঠিক করে দিয়েছিল নাথন কুল্টার-নাইল৷ জাস্টিন ল্যাঙ্গারের কাছে পারথে আমার সেই ব্যাটিং কোচিং নেওয়ার সময় কুল্টার-নাইলকে প্রথম দেখেছিলাম ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া টিমে৷ এদিন নিজেদের মধ্যে কথা বলিনি৷ কেবল বলটা ওর দিকে ছুড়ে দিয়েছিলাম৷ ও ওর কাজটা কী জানত৷ আমিও আমারটা৷ রবিবার মাঠে হেলমেট মাথায় আমার ফিল্ডিং করাটা আসলে একটা বার্তা৷ যতটা না সেটা ক্লোজ ইন পজিশনে দাঁড়ানোর জন্য৷ মাঠের আরও একটা ছবি নিশ্চয়ই প্রত্যেক ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থককে খুশি করেছে৷ ‘ইউনিভার্সাল বস’ ক্রিস গেইল এক ভারতীয় ফাস্ট বোলার উমেশ যাদবের ডেলিভারিতে ‘ডাক’ করছে!

আমার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট কী? ব্যাপারটা এভাবে দেখা যাক৷ রবিবার ইডেনে দু’টো কেকেআর টিম খেলেছে৷ প্রথম দলটা প্রথমার্ধে ব্যাট করেছে৷ দ্বিতীয় কেকেআর-টা খেলেছে জীবনের জন্য৷ ম্যাচ জিতে ড্রেসিংরুমে ফেরার পর আমার খুব ইচ্ছে করছিল, টিমকে ‘সরি’ বলতে৷ কিন্তু বলিনি৷ আরে, সময়টা তো এখন পাতুরি নিয়ে পড়ার!

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং