BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

‘সাত নম্বর ওলিম্পিক পাগলামির মতো কিছু একটা’

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 3, 2016 5:40 pm|    Updated: August 3, 2016 5:40 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সাত নম্বর ওলিম্পিক৷ ঘনিষ্ঠমহলে প্রথম যখন তিনি এই কথাটা বলেছিলেন, সবাই হাঁ করে চোখ গোল করে ফেলেছিল৷ একে বয়স ৪৩৷ তার মধ্যে ‘সা-আ-আ-আ-ত’ নম্বর ওলিম্পিকের প্রস্তুতি!

শুরুর দিকে কেউ কেউ বলেছিলেন, পদক জয়ের লক্ষ্য গুরুত্বপূর্ণ নয়৷ সাত নম্বর ওলিম্পিকে স্রেফ নামা নিয়ে কথা! লিয়েন্ডারের প্রথম আপত্তি বয়স নিয়ে কথা ওঠায়৷ তিনি বলেন, “ওটা একটা সংখ্যা মাত্র৷ প্যাশন ছিল বলেই আমি টেনিসে এসেছি৷ প্যাশন ছিল বলেই আজ আমি এই জায়গাটা পেয়েছি৷” রইল পদক জয়ের কথা৷ তা নিয়ে লি’র বক্তব্য, “আমি সব সময়ই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য নামি৷ সেটা কোর্টে আমাকে দেখলে আমার সমর্থকরা নিশ্চয়ই বোঝেন!”

কুড়ি বছর পেরিয়ে গিয়েছে ওলিম্পিকে পদক জিতেছেন৷ এত বড় সাফল্যের মুহূর্ত কোনও অ্যাথলিটই ভোলেন না৷ লিয়েন্ডারও সেদিনের সব স্মৃতি অনর্গল বলে যেতে পারেন এখনও৷ বাবা ভেস পেজ ছিলেন স্পোর্টসম্যান৷ ছোট থেকে তাঁকে দেখেই বেড়ে ওঠা৷ লিয়েন্ডার বলছিলেন, বাবাই তাঁর প্রথম আদর্শ, প্রেরণা৷ খেলার প্রতি প্যাশন, ভালবাসা কি, সেটা বাবাকে দেখেই তাঁর শেখা৷ “আটলান্টা ওলিম্পিকের সেই ম্যাচটা ভাবলে এখনও গায়ে কাঁটা দেয়৷ শেষ বল আমার মাথার উপর দিয়ে চলে গেল৷ বলটা অবশ্য নাগালেও পেতাম না৷ শুধু মাথা ঘুরিয়ে একবার দেখলাম, বলটা লাইনের বাইরে গিয়ে পড়েছে৷ কয়েক সেকেন্ড যেন গুম মেরে গেলাম৷ তারপর নিজের অজান্তেই চোখ চলে গেল গ্যালারিতে বসে থাকা বাবার দিকে৷ ছেলের জ্বলজ্বল চোখ দেখে বাবার চোখও ততক্ষণে ভিজে গিয়েছে৷ বাবা আর আমি এখনও ওই মুহূর্তের কথা মনে করে মনে মনে হাসি৷”

১৯৯২ বার্সেলোনা ওলিম্পিকে প্রথমবার অংশ নিয়েছিলেন লি৷ সাফল্য আসেনি৷ পরেরবারের জন্য দাঁতে দাঁত চেপে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন৷ আটলান্টা ওলিম্পিকের সেমিফাইনালে লি হেরেছিলেন আন্দ্রে আগাসির কাছে৷ ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে হারিয়েছিলেন ব্রাজিলের ফার্নান্দো মেলিগেনিকে৷

প্রথম ভারতীয় হিসাবে সাত নম্বর ওলিম্পিক৷ তাছাড়া এতগুলি ওলিম্পিকে খেলার রেকর্ড কোনও টেনিস তারকার নেই৷ এটা মাথায় এলেই প্রথম অনুভূতি কেমন হয়? “বাবা বলত, সাতটা ওলিম্পিক খেলা মানে পাগলামির মতো কিছু একটা৷ আমি মনে করি, যে কোনও বড় সাফল্য অর্জন করতে হলে অল্পবিস্তর পাগলামির প্রয়োজন পড়ে৷” বলছিলেন লিয়েন্ডার৷ এর পর আর তাঁর ফিটনেস, বয়স নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি৷ কারণ, তাঁর প্রতিটা কথার মধ্যে অফুরন্ত জীবনীশক্তি ফুটে উঠছিল৷ যেটা রিও’র জন্য জমিয়ে রাখা৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement