মুম্বই ইন্ডিয়ান্স: ১২৯/৮ (ক্রুনাল-৪৭)
রাইজিং পুণে সুপারজায়ান্ট: ১২৮/৬ (রাহানে- ৪৪)
১ রানে জয়ী মুম্বই ইন্ডিয়ান্স
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: এক-দু’বার নয়, তৃতীয়বার। হ্যাঁ, তিন-তিনবার। আইপিএল-এর প্রথম দল হিসেবে তিনবার ট্রফি ঘরে তুলে হায়দরাবাদে নয়া ইতিহাস গড়ল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আর তীরে এসে তরী ডুবল স্মিথদের। আইপিএল থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার আগে আর নজির গড়া হল না পুণের। চলতি টুর্নামেন্টে তিনবার রোহিত শর্মাদের পরাস্ত করেছিলেন ধোনিরা। কিন্তু ফাইনালের মঞ্চে শেষ হাসি হাসলেন রোহিতই। ধোনি বনাম রোহিতের ছায়া যুদ্ধেও হেরে গেলেন প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক। রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতে ডাগআউটে তখন উচ্ছ্বসিত শচীন তেণ্ডুলকর।
পুণে বোলারদের দাপটে মুম্বইয়ের স্কোর বোর্ডে খুব বেশি রান ছিল না। কিন্তু শুরুটা ভাল করেও সেই রান এদিন তুলতে ব্যর্থ পুণে। সৌজন্য মিচেল জনসনের দুর্দান্ত শেষ ওভার। এক ওভারে তিনটে উইকেট খোয়াল পুণে। ফাইনালে তো আর সেকেন্ড চান্স হয় না। তাই পুণের ট্রফি জয়ের স্বপ্ন চিরদিনের মতো শেষ হয়ে গেল।
[জানেন, পুণে সুপারজায়ান্টের নাম থেকে কেন সরে গেল ‘S’ অক্ষরটি?]
খাতায়-কলমে মেগা ফাইনাল মুম্বই বনাম পুণে হলেও লড়াইটা আসলে ছিল রোহিত শর্মার নেতৃত্ব বনাম মহেন্দ্র সিং ধোনির মগজাস্ত্রের। দু’বারের চ্যাম্পিয়ন আত্মবিশ্বাস বনাম প্রথমবার ফাইনালে পৌঁছনো দলের দৃঢ় প্রত্যয়ের। যেখানে লেটার মার্কস নিয়ে উত্তীর্ণ হল রোহিত অ্যান্ড কোং। কথায় বলে শেষ ভাল যার সব ভাল। লিগ তালিকার শীর্ষে থেকে প্লে অফে পৌঁছনো দল কোয়ালিফায়ারে হালকা হোঁচট খেয়েছিল ঠিকই। কিন্তু তাদের নয়া নজির সমস্ত দুর্বলতা এক নিমেশে ঢেকে দিল।

এবারের আইপিএল যতটা ছিল ব্যাটসম্যানদের, ততটাই প্রাধান্য পেয়েছেন বোলাররা। গোটা টুর্নামেন্টে ২৩বার ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন বোলাররা। রবিবার হায়দরাবাদের হাইভোল্টেজ ফাইনালেও বোলারদের দাপট বজায় রইল। দুই দলের স্কোরবোর্ডেই তা স্পষ্ট। চলতি আইপিএল-এ টসে জিতলে অধিকাংশ সময় অধিনায়কদের রান তাড়া করার সিদ্ধান্ত নিতেই দেখা গিয়েছে। কিন্তু এদিন রোহিত শর্মা প্রথমে ব্যাটিংটা সেরে রাখতে চাইলেন। তাঁর সিদ্ধান্ত ফলপ্রসুও হল। যদিও টপ-অর্ডারে ধস নামিয়ে মুম্বইকে চাপে ফেলে দিলেন ভারতীয় তরুণ তুর্কি জয়দেব উনাদকাট। সিমন্স (৩) ও পার্থিব প্যাটেলকে (৪) ফেরালেন তিনি। ৬৫ রানে পাঁচ উইকেট খুয়ে তখন বেশ অসহায় দেখাচ্ছিল জয়বর্ধনের শিবিরকে। যেটুকু লড়াই করলেন ক্রুনাল পাণ্ডিয়া। এলিমিনেটর ম্যাচে কেকেআর-এর বিরুদ্ধে এই ব্যাটসম্যানই অপরাজিত থেকে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ৩টি চার ও ২টি ছয় হাঁকিয়ে ৪৭ রান করে দলের মান বাঁচান তিনি। কিছুটা সঙ্গ দিলেন অধিনায়ক রোহিত। ২৪ রানে আউট হন তিনি। অ্যাডাম জাম্বা ও ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ান দু’টি করে উইকেট নেন।

[জানেন, আইপিএল-এ মেন্টর হয়ে বাকিদের কোন বিষয়ে টেক্কা দিলেন শচীন?]
পুণের হয়ে ব্যাট হাতে বড় ভূমিকা পালন করলেন অজিঙ্ক রাহানে। তবে ব্যর্থ হন স্মিথের অন্যতম ভরসা ত্রিপাঠী। অধিনায়কের দুরন্ত ৫১রান কাজে এল না। জনসন তিনটি ও বুমরাহ দুটি উইকেট তুলে নেন। শেষমেশ এক অজি তারকা জনসনের কাছেই পরাস্ত হলেন আরেক অজি তারকা স্মিথ। আইপিএল-এর আকাশে রেখে যাওয়া হল না কোনও জয়ের ইতিহাস। রাজার মতোই মহারাষ্ট্রে বিজয় ঝান্ডা ওড়ালেন রোহিত। মধুরেন সমাপয়েত হয়তো একেই বলে।
ছবি সৌজন্য BCCI
সর্বশেষ খবর
-
মূত্রনালিতে আটকে হেয়ার পিন! মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে নজিরবিহীন অস্ত্রোপচার বছর তেইশের যুবকের
-
মেয়ে ‘খুনি’, হৃদরোগে আক্রান্ত সিয়ার বাবা! মা বলছেন, ‘ওকে মৃত্যুদণ্ড দিক…’
-
দুর্যোগ কাটতেই তারাতলায় ফের উদ্ধারকাজ শুরু, নাইট ভিশন ক্যামেরায় চলছে তল্লাশি
-
‘৫ জন থাকলেও ধর্মতলায় যাব’, ২১ জুলাইয়ের প্রস্তুতি সভায় ঘোষণা মমতার
-
সিএবিতে ফের নাটক! অ্যাপেক্স সদস্যের আচমকা ইস্তফা চাপ বাড়াল সহ-সভাপতির উপর