Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Magnus Carlsen

‘এই বয়সে এমন কীর্তি, অবিশ্বাস্য’, খুদে অনীশের কৃতিত্বে মুগ্ধ ম্যাগনাস-প্রজ্ঞানন্দরাও

বুধবার থেকে ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এবারের প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে। বুধবার রাপিডের প্রথম রাউন্ডেই মুখোমুখি হচ্ছেন ম্যাগনাস ও প্রজ্ঞানন্দ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০২৪, ১৬:৫৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ১৪, ২০২৪, ১৬:৫৩

options
link
‘এই বয়সে এমন কীর্তি, অবিশ্বাস্য’, খুদে অনীশের কৃতিত্বে মুগ্ধ ম্যাগনাস-প্রজ্ঞানন্দরাও zoom

স্টাফ রিপোর্টার: ছোট্ট দুটো হাত উত্তরীয়টা ঠিকমতো খুলতেই পারছিল না। সেখানে সামনে দাঁড়ানো প্রায় ছ’ফুটের মানুষটার গলায় তা পরিয়ে দেওয়াটা তো অসম্ভব বিষয়। তবে ছোট্ট হাতের মালিক সেসব ভাবেইনি। সটান উত্তরীয় ধরিয়ে দিল সামনের মানুষটার হাতে। যা দেখে হেসে উঠলেন বিশ্বের তাবড় তাবড় দাবাড়ুরা।
অবশ্য যে দুই চরিত্রকে নিয়ে প্রসঙ্গের অবতারণা, তাঁরাও বা কম কী! প্রায় ছ’ফুটের মানুষটার নাম ম্যাগনাস কার্লসেন,(Magnus Carlsen) দাবা দুনিয়ার অবিসংবাদিত সম্রাট। আর ছোট্ট দুই হাতের মালিকের নাম অনীশ সরকার, যে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ হিসাবে সদ্যই ফিডে-র তালিকায় ১৫০০ এলো রেটিং পেয়েছে।

‘টাটা স্টিল চেস ইন্ডিয়া’-য় যোগ দিতে পাঁচ বছর পর কলকাতা এসেছেন ম্যাগনাস। আর মঙ্গলবার আলিপুরের হোটেলে প্রতিযোগিতার বাছাই তালিকা তৈরির অনুষ্ঠানে এমন দু’জনের হাতে উত্তরীয় তুলে দিল অনীশ, যাঁদের নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি। ম্যাগনাস আর রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। ভারতীয় দাবার বিষ্ময়বালক হিসাবে পরিচিত ‘প্র্যাগ’ তো আবার কোলেই তুলে নিলেন অনীশকে। দাবা দুনিয়ার নক্ষত্রের সান্নিধ্য পেয়ে খুশি বাংলার এই খুদে দাবাড়ুও। “অনীশের এখানে এসে খুব ভালো লেগেছে। এমনিতে ও নিজের অনুভূতি এখনও স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে পারে না। কারণ ও তো এখনও একদমই বাচ্চা। তবে অন্য দাবাড়ুদের চেনে। তাঁদের কাছে পেয়ে খুশি হয়েছে,” বলছিলেন অনীশের মা, যিনি নিজের পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক।

Advertisement

আর দাবা নক্ষত্ররা? তাঁরা কী বলছেন অনীশকে নিয়ে? ম্যাগনাস-প্রজ্ঞানন্দরা একইসঙ্গে অবাক এবং উচ্ছ্বসিত বাংলার এই খুদে দাবাড়ুকে নিয়ে। ‘প্র্যাগ’ যেমন শোনালেন, “আমি তিন বছর বয়সে দাবা খেলা শুরু করেছিলাম। আর অনীশ এই বয়সে ফিডে এলো রেটিংও পেয়ে গিয়েছে। অবিশ্বাস্য!” মুগ্ধ ম্যাগনাসও। “অনীশ এই বয়সেই যা করেছে, এককথায় অসাধারণ। আমার ভাইপোও আর কয়েকদিন পর চার বছরে পা দেবে। ও সত্যিই বুদ্ধিমান, সেটা ওর খেলা দেখলে বোঝা যায়। তবে ও যে খুব শিঘ্রই ১৫০০ রেটিং পয়েন্ট পাবে না, সেটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি”, বলছিলেন বিশ্বের একনম্বর তরকা। ম্যাগনাসের কথায়, “এমন কীর্তিতে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।” অনীশের প্রতি তাঁর পরামর্শ, “যতটা সম্ভব খেলাটা উপভোগ করো। রেটিং, হার-জিত, খেতাবের মতো বিষয়গুলি নিয়ে ভেব না। তুমি খেলাটা ভালোবাসলে এগুলো নিশ্চিতভাবেই তোমার হাতে ধরা দেবে।” অনীশ অবশ্য নিজের প্রিয় দাবাড়ু হিসাবে এদিন ম্যাগনাস-প্রজ্ঞানন্দ বা সেখানে উপস্থিত আরও ১৮ জন আন্তর্জাতিক তারকার মধ্যে কারও নামই নেয়নি। এই খুদে দাবাড়ুর পছন্দ ভারতীয়-বংশোদ্ভূত ডাচ দাবাড়ু অনীশ গিরিকে। কারণ? তার জবাব, “আমাদের নাম একই তাই!”

বুধবার থেকে ধনধান্য অডিটোরিয়ামে এবারের প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে। ওপেন বিভাগে ম্যাগনাস ও প্রজ্ঞানন্দ ছাড়াও অর্জুন ইরিগেসি, বিদিত গুজরাতি, ওয়েসলি সো-র মতো গ্র্যান্ডমাস্টাররা আছেন। মহিলা বিভাগে লড়তে দেখা যাবে কোনেরু হাম্পি, দিব্যা দেশমুখ, ভন্তিকা আগরওয়াল, ভ্যালেন্টিনা গুনিনাকে। পাঁচ দিনের এই প্রতিযোগিতায় প্রথম তিন দিন হবে রাপিড দাবা। প্রতিদিন তিনটি করে রাউন্ড হবে। শেষ দু’দিন হবে ব্লিৎজ রাউন্ড। বুধবার রাপিডের প্রথম রাউন্ডেই মুখোমুখি হচ্ছেন ম্যাগনাস ও প্রজ্ঞানন্দ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.