২ ভাদ্র  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯ 

BREAKING NEWS

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

২ ভাদ্র  ১৪২৬  মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯ 

BREAKING NEWS

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: স্বপ্ন ছিল এভারেস্ট জয় করার৷ ব্যালকনি পর্যন্ত পৌঁছেও গিয়েছিলেন৷ কিন্তু এভারেস্টের শিখরে পা রাখা হয়নি৷ সকলেই ভেবেছিলেন পাহাড় চূড়ায় পৌঁছাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল শুধুমাত্র ট্রাফিক জ্যাম৷ কিন্তু না, রাজ্যে ফিরে সেই ভ্রান্ত ধারণা ভেঙে দিলেন চন্দননগরের বাঙালি পর্বতারোহী পিয়ালি বসাক৷ শুধু যানজটকেই দায়ী করলেন না, পেম্বা শেরপার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তিনি৷

[ আরও পড়ুন: তৃণমূলের ‘বেনোজল’ বিজেপিতে, অসন্তোষ বাড়ছে বঙ্গের গেরুয়া শিবিরেই]

টাকার অভাব ছিল৷ সেই বাধা কাটিয়ে এভারেস্ট জয়েj স্বপ্নই যেন তখন তাড়া করে বেড়াচ্ছিল পিয়ালিকে৷ ইতিমধ্যে পেম্বা শেরপা তাঁকে ফোন করেন৷ স্বপ্ন সফল করার অভিযানে তিনিও পিয়ালির পাশে থাকতে চান৷ তাই আর বেশি কিছু ভাবেননি৷ যিনি নিজে সাহায্যের জন্য এতটা উদগ্রীব, তাঁকে কি আর ফেরানো যায়? তাই তো পেম্বা শেরপার সঙ্গেই ১৮ মে এভারেস্টের বেসক্যাম্প থেকে চড়া শুরু করেন৷ সাধারণত অভিযাত্রীরা ক্যাম্প ২, ক্যাম্প ৩ হয়ে ধীরেসুস্থে শৃঙ্গজয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে যান৷ কিন্তু পিয়ালির অভিযোগ, ক্যাম্প ১-এ তাঁকে বিশ্রাম নিতে বাধা দেন পেম্বা শেরপা৷ তখন যদিও পেম্বার বাধা নিয়ে বেশি ভাবেননি তিনি৷ কিন্তু দিন যত গড়াতে থাকল, ততই পেম্বা শেরপার প্রতি ধারণা বদলাতে থাকে পিয়ালির৷ এভারেস্টের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে খিদে এবং জল তেষ্টা পেয়ে গিয়েছিল তাঁর৷ জল বা খাবারের পরিবর্তে শেরপার কাছ থেকে থাপ্পড় খেতে হয় পিয়ালিকে৷ বাঙালি পর্বতারোহীর দাবি, ক্যাম্প ২-তে ফিরে মানসিক এবং শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি৷

[ আরও পড়ুন: শৃঙ্গে ফেলে আসা গণেশ মূর্তি আনতে গিয়েই কি মৃত্যুর মুখে দীপঙ্কর? বাড়ছে জল্পনা]

২০ মে ক্যাম্প ২ থেকে ক্যাম্প ৩-তে পৌঁছান চন্দননগরের পিয়ালি৷ সেদিনও পেম্বার থেকে ঠিকমতো সাহায্য পাননি তিনি৷ পরেরদিন ক্যাম্প ৩ থেকে একাই রওনা হন পিয়ালি৷ ওইদিনই এভারেস্টের ব্যালকনিতে পৌঁছান বাঙালি অভিযাত্রী৷ স্বপ্নজয়ের এক্কেবারে কাছাকাছি পৌঁছে মনের জোর যেন দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছিল পিয়ালির৷ ভেবেছিলেন ট্রাফিক জ্যামের বাধাকে তুচ্ছ প্রমাণিত করে শৃঙ্গজয় তিনি করবেন৷ পিয়ালির অভিযোগ, পেম্বা শেরপা তাঁকে প্রাণহানির ভয় দেখায়৷ তাতেই এক নিমেষে মন ভেঙে যায় বাঙালি অভিযাত্রীর৷ বাধ্য হয়ে ব্যালকনি থেকে নেমে আসেন তিনি৷ ওইদিনই রাতে আবারও এভারেস্টের পথে পাড়ি দেওয়ার ভাবনাচিন্তা ছিল পিয়ালির৷ তার জন্য অক্সিজেনের যথেষ্ট জোগানও ছিল৷ অভিযোগ, পেম্বা শেরপা তাঁর কষ্ট করে জোগাড় করা টাকায় কেনা অক্সিজেন নষ্ট করে দিয়েছে৷ তাই আর এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখা হয়নি পিয়ালির৷

[ আরও পড়ুন: পার্টি অফিসে ঢুকে তৃণমূল কর্মীদের চোখে লঙ্কা গুঁড়ো, তাণ্ডব বিজেপি কর্মীদের]

সাবধানে বাড়ি ফিরে এসেছেন পিয়ালি৷ ভেঙে গিয়েছে স্বপ্ন৷ অভিযানের অভিজ্ঞতা এখনও যন্ত্রণা দেয় তাঁকে৷ পাহাড়ে পা রাখার আগে পেম্বা শেরপাকে ভগবানের মতো ভেবেছিলেন৷ ভাবনার সঙ্গে বাস্তবের আকাশ-পাতাল তফাৎ সামনে আসার পর মানসিকভাবে বেশ খানিকটা ভেঙে পড়েছেন পিয়ালি৷ তবে হারবার পাত্রী নন তিনি৷ আবার নতুন দিন আসবে৷ স্বপ্ন সফল হবে বলেই আশা তাঁর৷

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং