রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায়: শনিবারের মহানাটকীয় বিশ্বকাপ ফাইনালের পর ফিলিপ ফডেন নিয়ে শ্রেষ্ঠ মন্তব্যটা কোথা থেকে এল? যুবভারতী? কলকাতা? ভুল, ভুল! যুবভারতীর উপস্থিতদের ছেড়ে দিন। শনিবারের ফিলিপ ফডেন নিয়ে শ্রেষ্ঠ মন্তব্য কোনও ইংরেজের মুখ থেকেও আসেনি। এসেছে এক স্প্যানিশের মুখ থেকে! তিনি পেপ গুয়ার্দিওলা!
শনিবারই প্রিমিয়ার লিগে ম্যাঞ্চেস্টার সিটি বনাম ওয়েস্ট ব্রমের ম্যাচ ছিল। সেখানে ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলন করতে এলে, ম্যান সিটি কোচকে জিজ্ঞাসা করা হয় ফডেন নিয়ে। ফোডেন ম্যাঞ্চেস্টার সিটির জুনিয়র টিমের শ্রেষ্ঠ ফুটবলার, সেরা মুখ। তা এদিন ফডেনের জোড়া গোলে অনূর্ধ্ব ১৭ ইংল্যান্ডের অবিস্মরণীয় বিশ্বজয়ের পর গুয়ার্দিওলাকে জিজ্ঞাসা করা তাঁর বিশ্বজয়ী জুনিয়র ছাত্র নিয়ে। শুনেটুনে গুয়ার্দিওলা বলেন, “আমাকে একটু বলুন তো, ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনালে ও কোন পজিশনে খেলল? সিটির সিনিয়র টিমে ফডেনকে ঠিক ওই পজিশনেই তাহলে খেলাব!”
[কলকাতাকে ‘স্পেশ্যাল’ ধন্যবাদ জানিয়ে দেশে ফিরছে চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড]
গুয়ার্দিওলা হয়তো ঠাট্টা করে কথাটা বলেছেন। কিন্তু বিশ্বজয়ের রাতে এর চেয়ে বড় শংসাপত্র আর কী পেতে পারতেন থ্রি লায়ন্সের নাম্বার সেভেন? শনিবার রাতের দিকে বিলেতের কাগজগুলোর ওয়েবসাইট ঘাঁটতে গিয়ে দেখা গেল, তারা খবর করেছে ফডেনের ম্যাঞ্চেস্টার সিটির সিনিয়র টিমের হয়ে খেলা নাকি এরপর প্রায় নিশ্চিত। চমৎকৃত করে দেওয়ার মতো গোটা কয়েক টুইটও চোখে পড়ল। একজন দেখা গেল টুইটারে দাবি তুলেছেন, এখনই ফডেনের ডোপ টেস্ট নেওয়া হোক! এত ভাল ফুটবল কোনও সাধারণ রক্তমাংসের মনুষ্য শরীরের পক্ষে খেলা সম্ভব নয়!
সত্যি। কাপ ফাইনালে খেলল বটে ফডেন। ফিফা গোল্ডেন বল পুরস্কারটাও তুলে নিয়ে গেল। ন্যায্য সম্মান, প্রাপ্য পুরস্কার। কিন্তু আরও একজনকে ছাড়া ইংরেজদের পূর্ণতার কাহিনি অসমাপ্ত থেকে যাবে। সে গোল্ডেন বুটজয়ী রিয়ান ব্রিউস্টার। প্রথম জন টুর্নামেন্টের সেরা প্লেয়ার। দ্বিতীয় জন টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ফাইনালে যে যুগলবন্দিতে তিনটে গোল এল! ফডেন দু’টো। রিয়ান একটা। এবং মাঠের যুগলবন্দির মতো দু’জনের মাঠের বাইরের পার্টনারশিপটাও দেখার মতো। একজন সম্পর্কে অন্যজনের ধারণা, কথাবার্তা শোনার মতো।
[ব্রিটিশ ঝড়ে চুরমার স্প্যানিশ আর্মাডা, প্রথমবার অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ জয় ইংল্যান্ডের]
শনিবার রাতে যুবভারতীর মিক্সড জোনে এসে ফডেন নিয়ে ব্রিউস্টার যেমন বলছিল, “ম্যাচ শুরু হওয়ার পর থেকেই ওর আমাকে পাস দেওয়া শুরু হয়ে যায়। আজ পর্যন্ত আমাকে যে কত গোলের পাস বাড়িয়েছে, হিসেবের বাইরে। তবে এতে সুবিধেই হয়। আমার গোল করার চান্স অনেক বেড়ে যায়!” বলে হাসতে থাকে ইংল্যান্ডের নাম্বার নাইন। কিন্তু ফাইনালে তো একটা সময় পর্যন্ত হাসি পাওয়ার মতো কিছু ইংল্যান্ডের পক্ষে ঘটছিল না। বরং ফাইনাল শুরুর আধঘণ্টার মধ্যে দু’-দু’টো গোল খেয়ে যায় ইংল্যান্ড। “জানি। ওই সময়টা বীভৎস কেটেছে। মনে হচ্ছিল, ভেতরে ভেতরে যেন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমরা ঠিক করেছিলাম, ছেড়ে দিলে চলবে না। ফার্স্ট হাফের শেষ দিকে একটা গোল পেয়ে যাওয়ায় আত্মবিশ্বাসটা ফিরে এসেছিল। তারপর দ্বিতীয় গোলটাও আমরা শোধ করে দিলাম। তখনই বুঝে যাই, রিদমটা আমরা পেয়ে গিয়েছি,” এক নিঃশ্বাসে বলে যায় ব্রিউস্টার।
ফিলিপ ফোডেন-বিশ্বজয়ের পর তার বক্তব্য তো আবার অর্ধসমাপ্ত থেকে গেল। টিভিতে কথা বলতে বলতে প্রায় কেঁদে ফেলল। টুর্নামেন্টের নায়ক বলছিল, “জানি না, কী বলা উচিত আমার। তবে হ্যাঁ, এটুকু বলতে পারি যে আমরা দু’গোল খেয়ে যাওয়ার পর নার্ভ হারাইনি। ফার্স্ট হাফটা ভাল খেলতে পারিনি। কিন্তু স্পেনের ওই দু’গোলের পর খেলা যত এগিয়েছে, ততই আমরা ম্যাচে ফিরেছি। আর সেকেন্ড হাফে নামার সময় জানতাম, এটাই আমাদের শেষ সুযোগ। পারলে পারব। নইলে হবে না।” এরপর আর এগোতে পারেনি ফডেন। আবেগরুদ্ধ হয়ে ধীরে-ধীরে বাকরুদ্ধ এবং শেষে সতীর্থদের ভিড়ে অদৃশ্য।
রাতে যুবভারতী ছেড়ে যাওয়ার আগে কাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জোয়েল ল্যাটিবিউডিয়ের বলছিল, ফডেন-ব্রিউস্টারের কাপ ফাইনালের পারফরম্যান্স সে একটু স্বতন্ত্র ভাবে ব্যাখ্যা করতে চায়। ব্রিউস্টার তাঁর কাছে এই মুহূর্তে জুনিয়র ফুটবলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ স্ট্রাইকার আর ফিলিপ ফডেন যেন অন্য গ্রহের এক ফুটবলারের নাম! বয়ঃসন্ধির বাড়াবাড়ি মনে হতে পারে। কিন্তু আজকের মতো ওটুকু ছেড়ে দেওয়া যায়। এটা তো ইতিহাস সৃষ্টির রাত। স্বপ্নপূরণের রাত। ইংল্যান্ড যাকে বিশ্বকাপটা উৎসর্গ করে গেল, বরুসিয়া ডর্টমুন্ড খেলতে ফিরে যাওয়া জাডন স্যাঞ্চোকেও দেখা গেল টিমের দুই ‘গোল্ডেন বয়’কে নিয়ে উচ্ছ্বসিত টুইট করেছে। লিখেছে, ‘ওহে দুই সোনার ছেলে, ইংল্যান্ডকে তোমরা কী রাতটাই না উপহার দিলে!’
[যুবভারতীতে ফিরল সাম্বা ছন্দ, মালিকে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন ব্রাজিলের]
যুবভারতী ছেড়ে বেরনোর সময় আরও একজনের টুইটার হ্যান্ডেল দেখা উচিত ছিল কিন্তু দেখা হল না। তিনি স্বয়ং পেপ গুয়ার্দিওলা। যাঁকে দিয়ে এই লেখার মুখবন্ধ, যিনি ফিলিপ ফডেনের ‘ফুটবল গুরু’। দেখা হল না, পেপ অনূর্ধ্ব ১৭ স্পেনের কোচ সান্তিয়াগো দেনিয়াকে কোনও টুইটার বার্তা ছেড়েছেন কি না। এত বড় কোচ হওয়ার পরেও স্পেন পেপকে কোচিংয়ের জন্য কখনও ডাকেনি। বার্সেলোনা ছেড়েও তাঁকে চলে যেতে হয়েছে বহুদিন। সেই পেপ আজ নিজের স্পেনকে, স্পেনের কোচ সান্তিয়াগোকে একটা টুইট ছাড়তেই পারতেন।
তোমরাই পৃথিবীকে তিকিতাকা খেলতে শিখিয়েছ না? দেখো, আমি সেই দেশের লোক হয়ে কেমন তোমাদের তিকিতাকাকে ধ্বংস করে গেলাম। আমারই হাতে তৈরি এক ইংরেজ ছাত্রকে দিয়ে!
সর্বশেষ খবর
-
দুই বিদেশি মহিলাকে অপহরণ করে গণধর্ষণ, পাকিস্তানের নাক কাটল খোদ উপপ্রধানমন্ত্রীর আত্মীয়
-
এক বছরে ক্যান্টিনের বিল ১ কোটি! জ্যোতিপ্রিয়র মেয়ে প্রিয়দর্শিনীর ‘কীর্তি’তে জোর শোরগোল
-
নির্বাচনে সুপ্রিম হস্তক্ষেপ চেয়ে প্রধান বিচারপতিকে চিঠি ইন্ডিয়া জোটের! বিজেপি বলছে, ‘গণতন্ত্রকে অস্বীকারের চেষ্টা’
-
কলম্বিয়ার কাছে হার ঘানার, নিজের দেশকে ‘বাঁচাতে’ পারলেন না ওঝা! শেষ ষোলোয় কার বিরুদ্ধে কে?
-
বঙ্গে ধেয়ে আসছে দুর্যোগ! জেলায় জেলায় লাল সতর্কতা, উত্তাল হতে পারে সমুদ্র