তনুময় ঘোষাল: কেউ বলেন ইনি সেরা, কেউ বলে উনি৷ ভক্তদের তর্কের মাঝে কখনও কি হেসে উঠেছিলেন অন্তর্যামী? উত্তরটা জানা নেই কারও৷ কিন্তু, কোনও অচিন দেশের এক পরী যেন মিলিয়ে দিয়ে গেল দু’জনকেই৷ শ্রেষ্ঠত্বের দাবি শেষমেশ কি ‘সমুদ্রে মিশে গেল’? বিশ্বকাপ যে অধরা থেকে গেল ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকার কাছেই৷ চিরকালীন ট্রাজিক হিরো হিসেবে থেকে গেলেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো৷ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণায় ক্ষতবিক্ষত হতে হল মেসি ও রোনাল্ডো ভক্তদের৷ তাতে কী! কল্পনা আর কবেই বা সুখ-দুঃখের হিসেব কষেছে! সে তো আপন খেয়ালেই ডানা মেলেছে চিরকাল৷ বিশ্বকাপের আসর থেকে বিদায় নিয়েছেন প্রিয় তারকারা৷ কল্পনার ছবিতেই তাই সান্ত্বনা খুঁজছেন ভক্তেরা৷
[বিশ্বকাপে ‘স্পর্শকাতর’ নেইমার, হাসির রোল নেটদুনিয়ায়]
কিন্তু, কী আশ্চর্য! সেই ছবি যতটা মেসির, ঠিক ততটা রোনাল্ডোরও! শুধু রোনাল্ডো বা মেসি-ই বা বলি কী করে! এ ছবি তো চিরকালীন! যাঁরা ফুটবল ভালবাসেন, এমন ছবিই তো দেখতে চান তাঁরা৷ মেসিকে যাঁরা ঈশ্বরের আসেন বসিয়েছেন তাঁরাও, রোনাল্ডোকে যাঁরা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ভাবেন তাঁরাও৷ ছবিটি হয়তো নেহাতই প্রতীকী, কাল্পনিক৷ কিন্তু, আহা সত্যিই যদি এমনটা হত? বিশ্বকাপ জিততে পারেননি তো কী হয়েছে? ফুটবলের শ্রেষ্ঠ প্রতীক হতে পারতেন মেসি ও রোনাল্ডোই৷
চলতি বিশ্বকাপে একজনের নামের পাশে চারটি গোল৷ একক দক্ষতায় দলকে নক-আউটে তুলেছেন৷ মাঠে তাঁর শরীরী ভাষা নজর কেড়েছে ফুটবলপ্রেমীদের৷ তবে পরিসংখ্যানের বিচারে কিঞ্চিৎ পিছিয়ে অন্য জন৷ গোল করেছেন মাত্র একটি৷ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যতটা উজ্জ্বল ছিলেন পর্তুগিজ মহাতারকা, যেন ততটাই নিষ্প্রভ ছিলেন আর্জেন্টিনার সুপারস্টার৷ কিন্তু, সমস্ত বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে দলকে নক-আউটে তুলেছিলেন তিনিও৷ কিন্তু, ওই যে বলে না, বৃক্ষ তুমি কে? ফলেন পরিচয়েতে৷ ফল যদি একই হয়, তাহলে তো সব গাছই সমান৷ বিশ্বকাপে রোনাল্ডা ও মেসি তো তাই৷ সোনার পরীটাকে ছুঁতে পারেননি কেউই৷
[আর্জেন্টিনার বিপর্যয়ের দিনেও আলোচনার শীর্ষে চুম্বনরত ‘ভগবান’]

প্রিয় তারকার ব্যর্থতায় কি শুধু ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন ভক্তরাই? মেসি বা রোনাল্ডারও কি কিছু আসে-যায়নি? ক্লাবের সাফল্য কি ঢেকে দিতে পারে দেশের জার্সিতে ব্যর্থতাকে? বোধহয় না৷ মেসি তো প্রকাশ্যে বহুবার সেকথা জানিয়েও দিয়েছেন৷ রোনাল্ডো হয়তো মুখে বলেননি, কিন্তু বিশ্বকাপের যে কটা ম্যাচে খেলেছেন, তাঁর শরীরী ভাষায় আকুলতা ছিল স্পষ্ট৷ তাই দুই মহাতারকার বুকের ভিতরেও যে তোলপাড় চলছে না, সেটাই বলি কী করে! কিন্তু, তাঁদের দুঃখ বুঝবে কে? স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা ভুলতে কেউ মেসি, কেউ রোনাল্ডোর ব্যর্থতাতেই তো সান্ত্বনা খুঁজছেন৷
[বিশ্বকাপ যাবে আসবে, বেঁচে থাক স্পোর্টসম্যান স্পিরিট]
ফুটবলের ৯০ মিনিট একে অপরের চরম প্রতিদ্বন্দ্বী৷ কিন্তু মাঠের বাইরে? বন্ধু কিংবা সহমর্মী তো হয়ে উঠতেই পারেন মেসি ও রোনাল্ডো৷ শনিবার রাতে বিশ্বকাপ থেকে দুই মহাতারকার প্রস্থানের পর তেমনই বেশ কয়েকটি ছবি ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়৷ দেখা যাচ্ছে, অশ্রুসজল চোখে প্রতিদ্বন্দ্বীর কাঁধে ভর দিয়েই মাঠ ছাড়ছেন মেসি৷ আর অন্য একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পিছনে পড়ে বিশ্বকাপের ট্রফি৷ কাঁধে হাত রেখে যেন কোনও দূর গ্রহে পাড়ি দিচ্ছেন ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা৷ ছবি প্রতীকি৷ কাল্পনিক৷ কিন্তু, বাস্তবটা কী ভীষণরকমই না সত্যি! এই ছবি দেখে যেকোনও ফুটবলপ্রেমী বলে উঠবেন, সত্যি যদি এমনটা হত! সাফল্য তাঁদের করে তুলেছে একে অপরের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী , ব্যর্থতাই না হয় মিলিয়ে দিক ফুটবলের শ্রেষ্ঠ দুই দূতকে! তাঁরা হয়ে উঠুন স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের শ্রেষ্ঠ উদাহরণ! নাইবা জেতা হল বিশ্বকাপ৷
[অধরা সোনার পরী, বিশ্বকাপের ট্র্যাজিক নায়কই থেকে গেলেন মেসি]
সর্বশেষ খবর
-
ফের রক্তাক্ত নানুর! দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ে চলল গুলি, মৃত ১, গ্রামে মোতায়েন পুলিশ
-
‘ভয়ংকর রকম কমে গিয়েছে’, ভারতের জন্মহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ মাস্কের
-
সিএবিতে ‘দাদাগিরি’, প্রভাব খাটিয়ে জেলা কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান! গ্রেপ্তার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক
-
এবার গরমের ছুটি! বর্ষার আগেই ঝেঁপে বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গে, কলকাতায় কালবৈশাখীর সতর্কতা
-
স্ট্যালিন আউট, বিজয় ইন! ইন্ডিয়া জোটে চমকের সম্ভাবনা, কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়িয়ে পত্রবোমা সিপিএমের