Advertisement
Advertisement

ফ্র্যাঞ্চাইজির জার্সি চাপালেও সোনি, ডিকাদের মন পড়ে ময়দানে

আসলে সমর্থকদের ভালবাসা যে টাকায় কেনা যায় না৷

Sony,Ralte are still missing domestic football league fun
Published by: Sangbad Pratidin Digital
  • Posted:October 27, 2016 4:37 pm
  • Updated:August 8, 2019 2:58 pm

স্টাফ রিপোর্টার: সড়া অন্ধা অছি?

নানা ভাষায় কথা বলা লোকের আসল পরিচয় জানতে গোপাল ভাঁড়ের ফর্মুলার গল্প সবার জানা৷ গোপালের যুক্তি ছিল, আচমকা কেউ কিছু বললে, তাঁর মনের কথাই বেরিয়ে আসে৷

Advertisement

মঙ্গলবার রবীন্দ্র সরোবর স্টেডিয়ামে এইভাবেই ‘আচমকা’ মনের ভাব প্রকাশ করে ফেললেন সোনি নর্ডি, লালরিনডিকারা৷ গায়ে মুম্বই সিটি এফসি বা অ্যাটলেটিকো ডি কলকাতার জার্সি থাকলেও সোনি, ডিকাদের মনের অনেকটা জায়গা জুড়েই যে রয়েছে তাঁদের ক্লাব – মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল৷

Advertisement

দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি মিলিয়ে ছিলেন বড় দলে খেলা প্রায় ১৮ জন ফুটবলার৷ যাঁদের অন্তত ১৪ জন এখনও জড়িয়ে কলকাতার দুই ক্লাবের সঙ্গে৷ খেলা চলাকালীন বারবার আইএসএল-এর প্রতিপক্ষের গণ্ডি টপকে কাছাকাছি চলে আসছিলেন আই লিগের সতীর্থরা৷ সোনির বিপরীতে ছিলেন দেবজিৎ, প্রবীররা৷ অনেকটা সময় তাঁরা কাটিয়েছেন একসঙ্গে৷ তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্কটা যে এখনও রয়েছে, তা বেশ ভালই টের পাওয়া গেল৷ ম্যাচে বেশ কয়েকবার এটিকে-র পতন আটকালেন ‘সেভজিৎ’৷ দূর থেকে হাততালি দিয়ে আই লিগের সতীর্থকে উৎসাহ জানালেন সোনি৷ ৩৩ মিনিটে বড় বক্সের মাথা থেকে আচমকা শট নেন হাইতির ফুটবলার৷ অসাধারণ রিফ্লেক্সে ফিস্ট করে নিশ্চিত বাঁচান দেবজিৎ৷ প্রথমে হতাশ হলেও হাততালি দিয়ে প্রশংসা করতে ভোলেননি সোনি৷ দু’মিনিট পর ফোরলানের সেণ্টার ফলো করতে গিয়ে সোনির পা গিয়ে লাগে দেবজিতের বুকে৷ সোনির কিছু না হলেও চোট পান বাঙালি গোলরক্ষকের৷ ছুটে যান সোনি৷ তুলে বসান দেবজিৎকে৷ এগুলো কি শুধুই ফেয়ার প্লে ছিল? অন্য চোট-আঘাতের ক্ষেত্রে তো তেমন সক্রিয় হতে দেখা গেল না সোনিকে৷ গায়ে সবুজ-মেরুন জার্সি না থাকলেও এই ছবিগুলিই হয়তো বলে দেয় সোনির মনে এখনও লেগে আছে ওই দু’টি রং৷ ম্যাচের পরও পাল্টাল না সেই ছবি৷ তাঁরা জিতলেন৷ আনন্দ করবেন সেটাই স্বাভাবিক৷ কিন্তু ছোট্ট সেলিব্রেশন শেষ করে দৌড়ে গেলেন দেবজিৎদের কাছে৷ বড় দাদার মতো সান্তনা দিলেন৷ হয়তো বোঝালেন আজ আমাদের পথ আলাদা৷ কিন্তু আর তো মাত্র কয়েকটা সপ্তাহ৷ তারপর তো আমাদের হাসি-কান্না সবই হবে এক সাথে৷

এগুলো না হয় ছিল তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া৷ কিন্তু মিক্সড জোন বা সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলার সময়ও সোনি, ডিকাদের মুখ থেকে বেরিয়ে এল ‘তাঁদের দল’-এর কথা৷ প্রথমে সাংবাদিক সম্মেলনে ডিকার জন্য আসে প্রশ্ন৷ আই লিগের মতো আইএসএল-এও উইং থেকে ঢুকে কাট করে ভিতরে চলে আসছেন সোনি৷ কেন তাঁকে আটকানো যাচ্ছে না? ডিকার গায়ে তখন সাদা রংয়ের এটিকে-র টি শার্ট৷ অথচ বলে বসলেন, “কী যে বলেন দাদা! ইস্টবেঙ্গলে তো আমরা ওকে বারবার আটকে দিয়েছি৷” ভুল বুঝতে পেরে একগাল হেসে দিলেও ততক্ষণে তো নিজের মনের কথা বলেই ফেলেছেন মিজোরাম ফুটবলার৷

ম্যাচের পর মিক্সড জোনে ধরা হল সোনিকে৷ প্রশ্ন অ্যাওয়ে দল হলেও গ্যালারির ভালই সমর্থন পেলে তাঁরা৷ মোহনবাগান সমর্থকদের কৃতজ্ঞতায় ভরিয়ে দিলেন তাদের আদরের এসএন১৬৷ বলছিলেন, “ওরা যেভাবে আমার পাশে থেকেছে, তাতে আমরা বাড়তি উৎসাহ পেয়েছি৷ আমিও এভাবেই ওদের পাশে থাকতে চাই৷” সরাসরি না বলেও যেন সমর্থকদের জন্য যেন অনেক কিছুর ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন হাইতি তারকা৷

এই ছবিগুলিই আই লিগ-আইএসএল তরজায় কিছুটা এগিয়ে দিয়ে যায় আই লিগকে৷ জীবনের দাঁড়িপাল্লায় পেশাদার দিকের পাল্লায় যতই টাকার ঝুলি চাপানো হোক, দিনের শেষে হয়তো তার থেকে বেশি ঝুঁকে যায় আবেগের দিক৷ আসলে সমর্থকদের ভালবাসা যে টাকায় কেনা যায় না৷

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ