সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অবশেষে তিনি ক্লান্ত হলেন। শরীর কিছুটা না দিলেও রানের খিদে কমেনি এতটুকু। শরীরে অসহ্য যন্ত্রণা। এই অবস্থায় ১৬০ রানের স্বপ্নের ইনিংস খেলে এসে বিরাট কোহলি জানিয়ে দিলেন, এমন একট মুহূর্ত যে কোনও খেলোয়াড়ের পরীক্ষার দিন। তিনি সসম্মানে উতরেছেন। কারণ পরিশ্রমে ফাঁকি দেন না। আর সব থেকে বড় কথা, টিমের প্রয়োজন। অতএব যন্ত্রণা নিয়েই খেলে যেতে হবে।
[‘দলের কথা ভেবেই চালিয়ে খেলেছি’, ম্যাচ জিতে বললেন কোহলি ]
বিরাট কোহলির এই দর্শন বোধহয় ভারতীয় ক্রিকেটের সবথেকে বড় বিজ্ঞাপন। তৃতীয় একদিনের ম্যাচে তাঁর প্রতিপক্ষ শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল না। কেপটাউনের দুঃসহ গরম বেসামাল করেছে ক্রিকেটারদের। লম্বা ইনিংস খেলতে গিয়ে ক্রাম্প ধরে যায় বিরাট কোহলির। ওই অবস্থাতেও ১৬০ রানের ইনিংস খেলেন। ১৫০ করার পর তাঁর উচ্ছ্বাসে বোঝা গিয়েছিল শরীরে তেমন সায় নেই। স্রেফ দায়সারাভাবে একবার ব্যাট তোলা। সেলিব্রেশন ওই পর্যন্তই। একদিনের ক্রিকেটে এটাই তাঁর দীর্ঘতম ইনিংস। বিরাটের এই দাপট বুঝিয়ে দেয় এটা যেন কোহলির সিরিজ, কোহলির ট্যুর, কোহলির ভারত। অথচ টেস্ট সিরিজে ছবিটা ছিল একেবারে আলাদা। জোহানেসবার্গ টেস্টে যখন সতীর্থরা ভুল শটে আউট হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরছেন তখন অধিনায়কের হতাশা নজর এড়ায়নি। আউটের পর ব্যাট দিয়ে নিজের প্যাডে মেরে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। প্রথম একদিনের ম্যাচে ভুল বোঝাবুঝিতে ধাওয়ান আউট হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। অথচ ভারতীয় ওপেনারের সঙ্গে পরপর দুটি ম্যাচে লম্বা পার্টনারশিপ খেললেন কোহলি।

[নতুন রেকর্ডের শৃঙ্গে ধোনি, আরও এক মাইলস্টোন স্পর্শ]
অথচ ৯০ এর ঘরে যখন বিরাট পৌঁছন তখন তাঁর পায়ে টান ধরে। এই সময় দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারায় ভারত। তখন বিরাট ঠিক করে নেন পালটা আক্রমণের রাস্তা নেবেন। কারণ তখন তাঁর যা এনার্জি ছিল, তাতে চালিয়ে না খেললে আর বেশিক্ষণ টানতে পারতেন না। যন্ত্রণার সেই মুহূর্তগুলো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন ভারতীয় অধিনায়ক। কোহলি জানালেন, টিমকে নিয়ে সবসময় ভাবলে এই এনার্জি যেন চলে আসে। কখনও কখনও শরীর না দিলেও অন্য শক্তি এসে যায়। এটা এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা। এই অনুভূতি ভোলার নয় বলে জানিয়ে দিলেন কোহলি। পাশাপাশি তাঁর সংযোজন কষ্ট হলেও এই দিনগুলো তৃপ্তি দেয়। একজন অ্যাথলিটের এই মুহূর্তগুলোই আসলে প্রাপ্তির। টিম ইন্ডিয়ার অধিনায়ক জানিয়ে গেলেন তিনি এ বছর তিরিশে পড়বেন। থার্টি প্লাসে সমান তালে খেলা চালিয়ে যেতে গেলে ফিটনেস নিয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। বিরাট ৩৪-৩৫ পর্যন্ত এমন গতিতেই ক্রিকেট খেলে যেতে চান। তার জন্য তিনি ডায়েটে মন দিয়েছেন। পর্যাপ্ত ট্রেনিং করছেন। তাই যখনই দলের প্রয়োজন হবে তখন এভাবে এগিয়ে যেতে হবে। পরিস্থিতিকে কাজে লাগাতে হবে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোহলির এই পেপ টক যে কোনও উঠতি ক্রিকেটারের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে। কেন তাঁকে নিয়ে গোটা ক্রিকেট দুনিয়া ধন্য ধন্য করে, তা এভাবেই নীরবে বুঝিয়ে চলেছেন একদিনের ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান।
[ফের নয়া রেকর্ড, শচীনকে টপকে দক্ষিণ আফ্রিকায় সর্বোচ্চ স্কোর কোহলির]
সর্বশেষ খবর
-
বদ্রীনাথে অনুদান চুরির তদন্তে চার সদস্যের কমিটি, সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব
-
বাথরুমে লুকিয়ে দাড়ি কাটছেন স্ত্রী! ৩ বছর সংসারের পর এ দৃশ্যে স্তম্ভিত স্বামী, তারপর…
-
বারুইপুরের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা মমতার, বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে ক্ষোভ
-
কেন বাতিল হল অন্নপূর্ণার আবেদন? খতিয়ে দেখতে বাড়ি বাড়ি যাবেন সরকারি কর্মীরা, আশ্বাস মন্ত্রীর
-
হোয়াটসঅ্যাপের নয়া ‘ইউজারনেম’ ফিচারে শঙ্কা, ব্যাখ্যা দিতে তিনদিন অতিরিক্ত সময় পেল মেটা