BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মানববন্ধনে থামল তুরস্কের সেনা অভ্যুত্থান

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 16, 2016 2:18 pm|    Updated: July 16, 2016 2:48 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সেনা অভ্যুত্থানের ছক বানচাল৷ মানববন্ধন রুখে দিল সেনা অভ্যুত্থান৷ নজির গড়ল তুরস্ক৷

সাঁজোয়ার সামনে বুক চিতিয়ে অনড় এক তুর্কি যুবক৷ গোলাবর্ষণ, বিস্ফোরণ কোনও কিছুতেই ভয় নেই৷ তুরস্কের ইস্তানবুল, আঙ্কারার রাস্তায় শুক্রবার রাত থেকে এমনই বহু দেশপ্রেমীর সাহসের সামনে নত হতে বাধ্য হল বিদ্রোহী সেনাবাহিনী৷ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এর্ডোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করতে এসে জনতার রোষের মুখে পড়ে শনিবার সকালে আত্মসমর্পণ করল বিদ্রোহীরা৷ তুরস্ক প্রশাসনের দাবি, ১,৫৬৩ জন বিদ্রোহী সেনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ সেনা-পুলিশ সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৯০ জন, যাদের মধ্যে শতাধিক বিদ্রোহী সেনাও রয়েছে৷ জখম ১১৫৪৷

আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ায় বসবাসকারী মুসলিম ধর্মগুরু ফেতুল্লাহ গুলেনের উস্কানিতে সেনাবাহিনীর এক অংশের বিশ্বাসঘাতকার জন্যই এই ঘটনা ঘটল বলে দাবি করেছেন এর্ডোগান৷ তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাঁদের চরম মূল্য দিতে হবে৷” অন্যদিকে তুরস্কে বসবাসকারী ভারতীয় ও পর্যটকদের রাস্তায় না বেরনোর পরামর্শ দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস৷ ভারতীয়রা সকলে সুরক্ষিত আছেন বলে এদিন টুইট করেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ৷

(তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা)

শুক্রবার রাতে ইস্তানবুলে যুদ্ধবিমান থেকে আচমকা বোমাবর্ষণ শুরু করে তুর্কি সেনাবাহিনীর একাংশ৷ আঙ্কারায় সংসদ ভবন ও প্রেসিডেন্টের বাসভবনের সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায়৷ দখল নেয় আতাতুর্ক বিমানবন্দরের৷ সেনা ট্যাঙ্কার ঢুকে পড়ে সেখানে৷ বন্ধ হয়ে যায় সব উড়ান৷ আঙ্কারায় পুলিশের হেড কোয়ার্টারে বোমা ফেলে ১৭ জনকে হত্যা করে৷ অপহরণ করে প্রেসিডেন্টের এক ঘনিষ্ঠ অফিসারকে৷ দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে৷ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দফতর দখল করে বিদ্রোহী সেনাবাহিনী ঘোষণা করে, এর্ডোগানকে ক্ষমতাচ্যুত করে তারাই এখন ক্ষমতাসীন৷ এরপরই অশান্ত হয়ে ওঠে তুরস্ক৷ দেশের এক উপকূল শহরে তখন ছুটি কাটাচ্ছিলেন প্রেসিডেন্ট এর্ডোগান৷ তড়িঘড়ি আঙ্কারায় আসেন তিনি৷ গদি টলমল বুঝতে পেরে সাধারণ মানুষকেই সেনা অভ্যুত্থান আটকাতে পথে নামার পরামর্শ দেন তিনি৷

turkey-8-web

প্রেসিডেন্টের বার্তা পেয়েই রাস্তায় নামে জনতা৷ ইস্তানবুলের বসফরাস ব্রিজ, তাকসিম স্কোয়ারে তখন সেনা অভ্যুত্থান ঘটে গিয়েছে৷ পুলিশ, সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় সেনা৷ ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন বহু মানুষ৷ এরপরই গর্জে ওঠে জনতা৷ হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে রুখে দেয় ট্যাঙ্কার৷ তুর্কি পতাকা উঁচিয়ে গোলাবর্ষণ উপেক্ষা করে সাঁজোয়ার উপর চড়ে বসে তারা৷ উল্টে দেয় ট্যাঙ্কার৷ রাতে যে তাকসিম স্কোয়ার সেনার দখলে ছিল কয়েক ঘণ্টার লড়াইয়ের পর বদলে গেল সেই জায়গার ছবি৷ শনিবার সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ দেখা গেল অস্ত্রধারী সেনাদের চেয়ে উঁচু জায়গায় উঠে তুর্কি পতাকা ওড়াচ্ছেন সাধারণ মানুষ৷

সেনাবাহিনীর এক কমান্ডার জানান, আঙ্কারায় বিদ্রোহী সেনাদের একটি হেলিকপ্টার গুলি করে নামিয়েছে যুদ্ধবিমান৷ বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করতেই প্রেসিডেন্ট এর্ডোগান ঘোষণা করেন, তুরস্কের ক্ষমতায় তিনিই আছেন৷ মুক্ত হয়েছে ইস্তানবুল বিমানবন্দর৷ শীঘ্রই বিমান পরিষেবা স্বাভাবিক হবে৷ ঘটনা প্রসঙ্গে নিজের উপলব্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষই আসলে ক্ষমতাশালী৷ জনতার ইচছার বিরুদ্ধে কোনও কাজ হয় না৷”

এক সময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গুলেনের সঙ্গে ২০১৩ সালে চরম বিরোধ বাঁধে এর্ডোগানের৷ গুলেনের নেতৃত্বে চলা হিজমত আন্দোলন সমর্থন করেননি তুর্কি প্রেসিডেন্ট৷ ফেতুল্লাহর সমর্থকরা তুরস্ককে ভেঙে আলাদা রাষ্ট্র গড়তে চাইছে বলে অভিযোগ তোলেন এর্ডোগান৷ বিদ্রোহীরা ফেতুল্লাহর দ্বারা প্ররোচিত হয়েই সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করল৷ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৫২ শতাংশ ভোট জিতে ক্ষমতায় এসেছেন এর্ডোগান৷

(ভারতীয়দের তুরস্ক যেতে নিষেধ করলেন সুষমা)

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement