১২ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

জট খুলছে আবেশ মৃত্যু রহস্যের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 28, 2016 9:33 am|    Updated: July 28, 2016 1:57 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: সানি পার্কের বহুতলের পার্কিং লটের কাছে স্কুল ছাত্র আবেশ দাশগুপ্তর মৃত্যুর রহস্যে আলোকপাত করল তারই এক বান্ধবী৷ লালবাজারের একটি সূত্র অনুযায়ী, ওই কিশোরী গোয়েন্দাদের জানিয়েছে যে, কীভাবে আবেশের মৃত্যু হয়েছে৷ গোয়েন্দাদের ধারণা, ওই কিশোরীর বক্তব্যের ভিত্তিতেই খুলতে পারে রহস্যের জট৷

কিন্তু ওই কিশোরীর বক্তব্যে সমর্থন পেতে অন্তত আরও এক প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষীর সন্ধান করতে গিয়ে রীতিমতো হতবাক গোয়েন্দারা৷ কারণ, ওই কিশোরী ছাড়া আবেশ দাশগুপ্তর ১৫ জন বন্ধু, বান্ধবী, সানি পার্কের ওই আবাসনের কমিটির কর্তা, বাসিন্দা, নিরাপত্তারক্ষী, কেয়ারটেকার, গাড়ির চালক কেউই দেখেননি যে আসলে কী ঘটনা ঘটেছিল৷ আবেশের এক ছোটবেলার বন্ধুর বক্তব্য নতুন করে রহস্য সৃষ্টি করেছে৷ তার বক্তব্যে এতটাই অসঙ্গতি মিলেছে যে, বুধবার লালবাজারে ফের ডেকে পাঠানো হয় ওই কিশোরকে৷ তার পাশাপাশি ডাকা হয় আবেশের আরও সাত বন্ধু ও বান্ধবীকে৷ মঙ্গলবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর বক্তব্যে বহু অসঙ্গতি মিলেছিল৷ ওই ফাঁক বোজানোর জন্য এদিন লালবাজারে আবেশের এমন পাঁচ বন্ধু ও বান্ধবীকে ডেকে পাঠানো হয়, যারা সেদিনের পার্কের বার্থ ডে পার্টিতে ছিল না৷ তাদের মধ্যে রয়েছে আবেশের বান্ধবী প্রেরণাও৷ কারণ, বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ওই তরুণীর নাম উঠে এসেছে৷ প্রেরণার সঙ্গে যে আবেশের বাল্যবন্ধুর ভাল সম্পর্ক ছিল, তাও জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা৷ এদিন প্রেরণা ও আবেশের ওই চার বন্ধু-বান্ধবীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে৷

abesh1_web

এদিকে, গোয়েন্দারা ইঙ্গিত পেয়েছেন যে, মদ্যপ অবস্থায় আবেশের সঙ্গে তার ওই ছোটবেলার বন্ধুর কথা কাটাকাটি হয়৷ আবেশের মৃত্যুর সঙ্গে সেই বিষয়টির কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ জানা গিয়েছে, আবেশের বন্ধু-বান্ধবীদের কাছ থেকে মোট ১৫টি মোবাইল পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে৷ শনিবারের ঘটনার আগে ও পরেও মোবাইল ব্যবহার করে যে সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা যোগাযোগ রেখেছিল, সেই প্রমাণ মিলেছে৷ অভিযোগ উঠেছে, বেশিরভাগ কিশোর ও কিশোরীই তাদের মেসেজগুলি মুছে ফেলেছে৷ মেসেজগুলি উদ্ধার করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিচ্ছে ‘সিট’৷

আবেশের মৃত্যুরহস্যের জট ছাড়াতে আপাতত ওই কিশোরীর বক্তব্যই একমাত্র ভরসা গোয়েন্দাদের৷ লালবাজারের একটি সূত্র অনুযায়ী, ওই কিশোরী গোয়েন্দাদের জানিয়েছে যে, সে ও আবেশ কিছুক্ষণ একসঙ্গে ছিল৷ আবেশের হাতে ছিল মদের বোতল৷ তাকে দৌড়াতে দেখেছিল ওই কিশোরী৷ তাকে পড়ে যেতেও দেখে সে৷ আবেশ রক্তাক্ত অবস্থায় উঠে দাঁড়ায়৷ কিছুটা দূরে গিয়ে ফের দাঁড়িয়ে পড়ে সে৷ ফের চলতে শুরু করে৷ কুড়ি মিটার দূরে গিয়ে আবেশ পড়ে যায়৷ তখনই কিশোরী আবেশের দেহে রক্তের চিহ্ন দেখতে পায়৷ এতটা রক্ত দেখে সে চিৎকার করে ওঠে৷ তার চিৎকার শুনে দৌড়ে আসে তাদেরই বন্ধু নীল ও এক নিরাপত্তারক্ষী৷

যদিও কোন পরিস্থিতিতে বহুতলের ‘বি’ ব্লকের সামনে থাকা লন থেকে পার্কিং লটের দিকে আবেশ দৌড়ে যাচ্ছিল, তা নিয়ে এখনও ধন্দে গোয়েন্দারা৷ এমনকী, আবেশের কোনও বন্ধু তাকে তাড়া করেছিল কি না অথবা কেউ তাকে ঠেলে দিয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে৷ কারণ, ওই বিষয়ে এখনও কিশোরী পুলিশকে কিছু জানাতে পারেনি৷ এদিকে, নীল পুলিশকে জানিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় আবেশকে সে বসায়৷ অ্যাম্বুল্যান্সের অপেক্ষা করে না পেয়ে শেষে ট্যাক্সিতে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে৷ আবাসনের বিভিন্ন জায়গায় ৪০টির উপর সিসিটিভি থাকলেও আবেশের রহস্যমৃত্যুর ঘটনা কোনও সিসিটিভিতে ওঠেনি৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement