BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

৪৮ ঘণ্টা পরেও নিখোঁজ বিমান, অভিযোগ দায়ের পুলিশে

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 24, 2016 4:57 pm|    Updated: July 24, 2016 4:58 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মাঝ আকাশে উধাও হয়ে যাওয়ার পর দু’দিন কেটে গিয়েছে৷ বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালিয়েও ২৯ জন যাত্রীকে নিয়ে নিখোঁজ ভারতীয় বায়ুসেনার এএন-৩২ বিমানটির কোনও চিহ্ন মিলল না এখনও৷ বিমানটিকে খুঁজে বের করতে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো-র সাহায্য চাওয়া হয়েছে৷ বায়ুসেনা, নৌসেনা ও উপকূলরক্ষী বাহিনীর তরফে রবিবার তামিলনাড়ু পুলিশে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হল৷ সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, ২৯ জন যাত্রী-সহ বিমানটি নিখোঁজ – এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷ নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে একজন তামিলনাড়ুর বাসিন্দা৷

বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই বঙ্গোপসাগর এলাকায় আবহাওয়া খুব প্রতিকূল ছিল৷ কিন্তু তা সত্ত্বেও বিমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রহস্য কাটছে না৷ কারণ, প্রতিকূল আবহাওয়াতেও ওড়ার ক্ষমতা ছিল বিমানটির৷ গত ২২ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় চেন্নাই থেকে পোর্টব্লেয়ার যাওয়ার পথে প্রায় ২৩ হাজার ফিট উচ্চতা থেকে আচমকাই নামতে শুরু করে সেটি৷ তারপর র‍্যাডার থেকে উধাও হয়ে যায়৷ আপাতত চারটি নজরদারি বিমান, ১৮টি যুদ্ধজাহাজ ও একটি সাবমেরিন তল্লাশিতে ব্যস্ত৷ যদি বিমানটির কোনও ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়৷ সাম্প্রতিক কালে এত বড় কোনও তল্লাশি অভিযান ভারতে হয়নি৷ শনিবার চেন্নাই পৌঁছে আকাশপথে নজরদারি পরিচালনা করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্কর৷

এএন-৩২ বিমানটিতে চারজন অফিসার, ১৭ জন সামরিক বাহিনীর কর্মী ও আটজন অসামরিক লোকজন ছিলেন৷ অসামরিক ব্যক্তিরা ছিলেন বিশাখাপত্তনমে নৌবাহিনীর অস্ত্রাগারের কর্মী৷ যদিও তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে বায়ুসেনা ও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে কোনও উচ্চবাচ্য করা হয়নি৷ একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বিমানটির চালকের আসনে ছিলেন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পুষ্পেন্দ্র বাদসারা৷ ফ্লাইং অফিসার পঙ্কজ কুমার নন্দ, ন্যাভিগেটর ফ্লাইট লেফটেন্যাণ্ট কুনাল বরপাট্টে ছিলেন৷ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট দীপিকা সেওরানও ছিলেন বিমানে৷ পোর্টব্লেয়ারে কর্মরত উপকূলরক্ষী বাহিনীর এক অফিসারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল৷

চেন্নাই থেকে ১৫১ নটিক্যাল মাইল পূর্বে বাঁ দিকে মোড় নিয়ে মাঝ আকাশ থেকে কার্যত উধাও হয়ে যায় বিমানটি৷ বায়ুসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, সেটি ‘কিউমুলোনিম্বাস’ মেঘের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল৷ কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসেনি৷ ‘কিউমুলোনিম্বাস’ মেঘের থেকে সাধারণত শিলাবৃষ্টি হয়৷ মনে করা হচ্ছে, মেঘের মধ্যেই হয়তো শিলাবৃষ্টির আঘাতে বিমানটির কোনও ক্ষতি হয়েছিল৷ সেখানেই টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে পড়তে পারে৷ তাই ইসরোর কাছে উপগ্রহ চিত্রের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে৷

নিখোঁজ হওয়া বিমানটি সুলুর এয়ারবেসে ৩৩ নম্বর স্কোয়াড্রনের অন্তর্গত ছিল৷ ২০০৯ সালে এই ধরনের ৫০টি বিমানের আধুনিকীকরণ করা হয়৷ তবে সাধারণত ২৫ বছর বা ২০ হাজার কিলোমিটার উড়ানের পরেই এই বিমানগুলির আয়ু শেষ হয়ে যায়৷ ১৯৮৪ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় এএন-৩২ বিমানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷ সেই হিসাবে ২০১৯-এ বিমানগুলির কার্যকাল শেষ হয়ে যাওয়ার কথা৷ কিন্তু ইউক্রেনে সমস্যার জন্য বিমানগুলির যন্ত্রাংশ পাওয়া ও রক্ষণাবেক্ষণে অসুবিধা হত বলেও কোনও কোনও মহল থেকে দাবি করা হয়েছে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement