BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কন্যাশ্রীর পর এবার ‘সুকন্যাশ্রী’-র সূচনা রাজ্যে

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 11, 2016 9:48 am|    Updated: July 11, 2016 9:48 am

An Images

বিপ্লব দত্ত: কন্যাশ্রীর পর এবার সুকন্যাশ্রী৷
কন্যাশ্রীদের ভবিষ্যত্‍ নিশ্চিত শুধু নয়, তাদের উচ্চশিক্ষিত করে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের এটি একটি অভিনব প্রকল্প৷ কন্যাশ্রী প্রকল্পের প্রায় ঐতিহাসিক সাফল্যের পর সুকন্যাশ্রীও বিপুল সাড়া ফেলবে বলে আশাবাদী অনেকেই৷ নদিয়া জেলা থেকেই প্রথম পথ চলা শুরু করল সুকন্যাশ্রী৷
আঠারো বছর বয়সি স্কুলছাত্রীদের জন্য চালু হওয়া কন্যাশ্রীর পর এবার সরকারি নজর কন্যাসন্তানের জন্ম থেকেই৷ শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুকন্যারা আসতে পারবে ‘সুকন্যাশ্রী’-র আওতায়৷ সম্পূর্ণ বিনা আর্থিক পুঁজিতে সেই শিশু যখন পা দেবে আঠারোতে, তখন সে হতে পারবে প্রায় ৬ লক্ষ টাকার মালিক৷ সঙ্গে কন্যাশ্রীর ২৫ হাজার তো আছেই৷ মূলত কেন্দ্র সরকারের ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’-কে সামনে রেখেই এক অভিনব ভাবনাপ্রসূত এই ‘সুকন্যাশ্রী’৷ ‘সুকন্যা সমৃ‌দ্ধি যোজনা’-তে এক থেকে দশ বছরের শিশুকন্যার মাকে এক হাজার টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে বছরে ১০০ টাকা থেকে এক লক্ষ টাকা জমানো যায়৷ কন্যার ১৮ বছর বয়সে উচ্চশিক্ষার জন্য পাওয়া যায় ঋণ৷ এককালীন সময়ে কন্যার জমানো টাকা তোলার অধিকার নেই তার বাবা-মায়েরও৷ স্বল্প সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে এই যোজনা আনা হলেও অর্থ উপার্জনের পথ কী, জমবে কী করে সেই টাকা, তার কোনও দিশা নেই৷ দিন আনা দিন খাওয়া পরিবার তাই মেয়ের ভরণপোষণ সামলে তার জন্য টাকা জমাতে পুরোপুরি এখনও সেইভাবে যে উদ্বুদ্ধ হতে পারেনি, তা বলাই যায়৷ সেদিকে নজর রেখেই ‘সুকন্যাশ্রী’র ভাবনা হয়৷ এমজিএন আরইজিএ, নদিয়া জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসন রাজ্যের মধ্যে প্রথম সুকন্যাশ্রীর সূচনা করে৷
এই প্রকল্পে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুকন্যার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে ১০১টি গাছের চারা৷ যাদের পরিবারের এক বিঘে চাষের জমি রয়েছে, তারাই প্রথম দিকে উঠবেন এই প্রকল্পের আওতায়৷ ওই জমিতে তারা সম্পূর্ণ সরকারি খরচায় লাগাবেন ওই চারা৷ সরকার সেজন্য দেবে ১৮ হাজার ৩৪০ টাকা৷ শুধু তাই নয়, চারা বাঁচিয়ে বড় করতে ১৫৮ জন শ্রমিকের পারিশ্রমিক বাবদ সরকার দেবে ২৬ হাজার ৭৫২ টাকা৷ নদিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি বাণীকুমার রায় জানিয়েছেন, এখন তেজপাতা, লেবু, পেয়ারা প্রভৃতির চারা দেওয়া হবে৷ ওই জমিতে লাগানো যাবে হলুদ, আদা গাছও৷ গাছ লাগানোর তিন বছরের মাথা থেকে ওই শিশুর পরিবার আয় পেতে পারেন বছরে ৬০ হাজার টাকা করে৷ তার মধ্যে অন্তত ৩০ হাজার টাকা মেয়ের জন্য রাখলে মেয়ের ১৪ বছর বয়সে জমবে প্রায় তিন লক্ষ টাকা৷ যা ১৮ বছর বয়সে গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ছয় লক্ষ টাকায়৷ যে টাকা মেয়েটির উচ্চশিক্ষা-সহ সুনিশ্চিত ভবিষ্যত্‍ তৈরি করে দেবে৷ বছরে ৩০ হাজার টাকা রেখেও বাকি ৩০ হাজার টাকা সংসার খরচে ব্যবহার করতে পারবে ওই শিশুর পরিবারটি৷ শুধু তাই নয়, নিজের পরিবারের সদস্যদের জব কার্ড থাকলে তাঁরাও পারবেন জমি পরিচর্যার কাজ৷ বদলে ১৫৮ জন শ্রমিকের মজুরির টাকা নিতে পারবেন৷ নয়তো কাজে লাগাতে পারবেন ওই শ্রমিককে৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement