BREAKING NEWS

১৪ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

পদত্যাগ গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর, কারণ নিয়ে ধন্দ

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 1, 2016 7:34 pm|    Updated: August 1, 2016 7:34 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: জল্পনা চলছিল৷ অবশেষে পদত্যাগই করলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী আনন্দীবেন প্যাটেল৷ বয়সের কারণ দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব থেক অব্যাহতি চেয়েছিলেন তিনি৷ সূত্রের খবর, দলের তরফে তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করা হয়েছে৷

গুজরাতের উনায় দলিত নিগ্রহের ঘটনা নিয়ে যারপরনাই অসন্তুষ্ট ছিল বিজেপি নেতৃত্ব৷ কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বলেছিলেন, এ ঘটনা বিজেপির প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ৷ শুধু তিনি নন, বিজেপি নেতৃত্বেরই একাংশ এ কথা বিশ্বাস করেছিল৷ নরেন্দ্র মোদির জমানায় যে গুজরাতগোটা দেশের মধ্যে উন্নয়নের মুখ হিসেবে পরিগণিত হত, তাইই এখন সারা দেশে দলিত নিগ্রহের মুখপত্র স্বরূপ হয়ে ওঠায় বিরক্তই ছিলেন বিজেপি শীর্ষনেতারা৷ মনে করা হচ্ছে এর জেরেই পদত্যাগ করলেন তিনি৷

যদিও আনন্দীবেন নিজে বয়সের কারণটিই সামনে এনেছেন৷ এই মর্মে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছিলেন তিনি৷ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ জানান, বয়সের কারণ দেখিয়ে একাধিকবার তিনি এই দায়িত্ব ছাড়তে চেয়েছেন৷ এমনকী তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবেও অনুরোধ রেখেছিলেন৷

যদিও রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোটের অঙ্ক মাথায় রেখে আনন্দীবেনের অপসারণ অবধারিতই ছিল৷ উনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ তৃতীয় ফ্রণ্টের উত্থান হচ্ছে দ্রুত৷ যা কেন্দ্রের শাসকদলের কাছে রীতিমতো অশনি সংকেত৷ সংসদের বাদল অধিবেশনে বারবার উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গ৷ বিরোধিতায় ইন্ধন জুগিয়েছে দলিত বিদ্রোহ৷ বংশগত পেশা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুজরাতের দলিতরা৷ দলিত বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিলে জাতীয় রাজনীতির ভরকেন্দ্রটিই বদলে যেতে পারে৷ এর মধ্যেই সামনের বছর গুজরাতে ভোট৷ সে রাজ্যে মোট ভোটের প্রায় ৭ শতাংশই দলিত ভোট৷ এই ঘটনার পর তা আর বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ার আশা নেই বলেই মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব৷ ফলে নিজেদের গড়েই হোঁচট খেতে পারে বিজেপি৷ ইতিমধ্যেই বিহারে বড় ধাক্কার পর কেরল, পশ্চিমবঙ্গেও তাদের ভরাডুবি হয়েছে৷ পাখির চোখ উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন৷ এর মধ্যে যদি নিজেদের রাজ্যেই ধাক্কা খেতে হয়, তবে কেন্দ্রীয় শাসকদল হিসেবে তাদের জন সমর্থন যে তলানিতে তা আর নতুন করে বলে দেওযার অপেক্ষা থাকবে না৷ এই অঙ্কেই আনন্দীবেনকে সরিয়ে বড় বার্তা রাখতে চেয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব৷ পাশাপাশি দলীয় সংগঠনের রাশ কড়া হাতে ধরতে চেয়েছিল জাতীয় নেতৃত্ব৷ দু’য়ে দু’য়ে চার হতে দেরি হল না৷

যদিও আনন্দীবেন ও বিজেপি নেতারা মুখ্যমন্ত্রীর বয়সের কারণটিকেই শিখণ্ডি করেছেন৷ এ বছর পঁচাত্তরে পা দিতেন তিনি৷ মোদির পর গুজরাতের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এ পদে বসেন তিনি৷ এই পদত্যাগ গ্রহণ করার পর প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর কার্যকালের অবসান ঘটল৷ তিরিশ বছর বিজেপির হয়ে কাজ করেছেন ও পার্টির দেওয়া দায়িত্ব পালন করেছেন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন আনন্দীবেন৷ তবে দীর্ঘদিনের এই দায়িত্ব থেকে এবার সরে যাওয়াই ছিল তাঁর ইচ্ছে৷ ভাইব্র্যান্ট গুজরাত গড়তে নতুন নেতাদের সুযোগ করে দেওয়ার পক্ষপাতী তিনি৷ সূত্রের খবর, তাঁর পদত্যাগ গ্রহণও করা হয়েছে৷ নীতিন শাহ বা সৌরভ প্যাটেলের মধ্যে কাউকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী করা হতে পারে বলেই সূত্রের খবর৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement