BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

বাংলার ফর্মুলাতেই বিষ নামাবে সারা ভারত

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 25, 2016 9:42 am|    Updated: August 25, 2016 9:42 am

An Images

গৌতম ব্রহ্ম: বাংলার ফর্মুলাতেই বিষ নামাবে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী৷ কালাচ, কেউটে, গোখরো, চন্দ্রবোড়া৷ কারও বিষ স্নায়ুতন্ত্রকে ধ্বংস করে৷ কারও রক্তকণিকা৷ সাপ কামড়ালে কী কী করতে হবে, কেমন হবে চিকিৎসার ‘প্রোটোকল’ তা নিয়ে জাতীয় স্তরে এতদিন কোনও ‘গাইডলাইন’ ছিল না৷ যে যার নিজের মতো চিকিৎসা করতেন৷ ফলে, বিভ্রান্তি চরমে উঠত৷ এভিএস দেওয়ার আগে ‘স্কিন টেস্ট’ করা হবে কী না, ‘এভিএস’-এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সামলাতে কী ওষুধ দেওয়া হবে – চিকিৎসার প্রতিটি পদক্ষেপেই ছিল ধোঁয়াশা৷

এবার সেই সমস্যা মিটতে চলেছে৷ আগস্টেই জাতীয়স্তরে গাইডলাইন প্রকাশিত হবে৷ তাৎপর্যের বিষয় হল, এই গাইডলাইন তৈরিতে সব থেকে বড় ভূমিকা নিয়েছে বাংলা৷ আরও ভালভাবে বললে বাংলার এক চোখের ডাক্তার৷ দয়ালবন্ধু মজুমদার৷ পার্ক সার্কাসের ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের এই মেডিক্যাল অফিসারই গাইডলাইনের প্রধান খসড়া-প্রণেতা৷জানা গিয়েছে ‘ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেম রিপোর্ট সেন্টার’-এর সূত্রে৷

দয়ালবাবু জানিয়েছেন, “দু’-এক দিনের মধ্যেই সাপে কাটার আদর্শ চিকিৎসাবিধি জাতীয় স্তরে প্রকাশিত হবে৷ যদিও গর্বের বিষয় হল, আমাদের রাজ্যে ২০১২ সালেই আদর্শ চিকিৎসাবিধি প্রকাশিত হয়েছে৷ ওই আচরণবিধি পোস্টারের আকারে সমস্ত হাসপাতালে টাঙানো হয়েছে৷” এই আচরণবিধিই পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত করে জাতীয় ‘প্রোটোকল’ তৈরি করা হচ্ছে৷ দয়ালবাবুর কথায়, প্রথমে ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’-র ২০১০ সালের গাইডলাইন দেখে তিনি একটি পোস্টার বানান৷ তারপর সেটি বিশিষ্ট সর্প-বিশেষজ্ঞ অক্সফোর্ডের অধ্যাপক ডেভিড ওয়ারেলকে পাঠান৷ তিনি ‘পোস্টার’-টির ভূয়সি প্রশংসা করেন৷ ২০১২ সালে সেই পোস্টারটিকেই চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়৷

এভিএস (অ্যাণ্টি ভেনাম অফ স্নেক) দেওয়ার ক্ষেত্রেও গোটা দেশে নজির সৃষ্টি করেছে বাংলা৷ একমাত্র এই রাজ্যেই বিনামূল্যে সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এভিএস দেওয়া হয়৷  ডাক্তারদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর৷ ‘ইনস্টিটিউট অফ হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’-এ এই প্রশিক্ষণ হয়৷ জেলায় জেলায় গিয়ে কর্মশালা করেও হাতে-কলমে সাপে-কাটার চিকিৎসা বোঝাচ্ছেন দয়ালবাবুরা৷

এখন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে আশাকর্মীদেরও৷ নতুন যাঁরা চাকরিতে ঢুকেছেন তাঁদের জন্য প্রতিটি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছেন৷ স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানান, সাপের কামড়ের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ‘রুল অফ ১০০’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ যে কোনও বিষধর সাপের কামড়ের পর ১০০ মিনিটের মধ্যে ১০০ মিলিলিটার এভিএস দিতে পারলে রোগী বেঁচে যাবে৷ অতএব, বাড়ির সব থেকে কাছের স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই সর্পদংশনের চিকিৎসা করানোটা বাঞ্ছনীয়৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement