BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কাকার মৃতদেহ আগলে ঘরবন্দি ভাইঝি

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 6, 2016 11:10 am|    Updated: July 6, 2016 11:16 am

An Images

নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাকপুর: ফের রবিনসন স্ট্রিটের স্মৃতি ফিরে এল ভাটপাড়ার বলরাম সরকার ঘাট রোড এলাকায়৷ রবিনসন স্ট্রিটে দিদির মৃতদেহ আগলে একই ঘরে প্রায় ছ’মাস কাটিয়েছিলেন ভাই পার্থ দে৷ ভাটপাড়ায় কাকার মৃতদেহ ৪ দিন আগলে রাখলেন ভাইঝি শিল্পী ভট্টাচার্য৷ মৃতের নাম রাজারাম ভট্টাচার্য(৬০)৷

মঙ্গলবার সকালে মৃতের ঘর থেকে তীব্র পচা গন্ধ বের হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়৷ তাঁরা এলাকার কাউন্সিলর মদনমোহন ঘোষকে খবর দেন৷ কাউন্সিলর এসে দরজায় কড়া নাড়লেও কেউ দরজা খোলেননি৷ কিছুক্ষণ পর শিল্পীদেবী দরজা খুলে বের হন৷ প্রতিবেশীরা তাঁর কাকার শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন উনি ভাল আছেন৷ প্রতিবেশীরা সেই সময় চলে গেলেও ওই এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে থাকে৷

ফের তাঁরা রাজারামবাবুর বাড়িতে আসেন প্রতিবেশীরা৷ তখন ঘরের ভিতরে ঢুকতে চান৷ এলাকার কাউন্সিলর রাজারামবাবুর সঙ্গে কথা বলতে চান৷ কিন্তু শিল্পীদেবী রাজি হননি৷ এর পরই খবর দেওয়া হয় জগদ্দল থানায়৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এসিপি গৌতম চট্টোপাধ্যায়, আইসি সঞ্জীব চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য আধিকারিকরা৷ দরজা ভেঙে দেখেন ঘরের ভেতরে সোফায় রাজারামবাবুর দেহ পড়ে রয়েছে৷

পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে৷ স্থানীয় কাউন্সিলর মদনমোহন ঘোষ বলেন, “বাড়ির মালিক সমীরকুমার রায় কর্মসূত্রে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে থাকেন৷ বহুদিন যাবৎ রাজারামবাবু এই বাড়িতে ভাড়া রয়েছেন৷ উনি একটি চায়ের দোকানও খুলেছিলেন৷ কিন্তু বছর তিনেক আগেই তা বন্ধ হয়ে যায়৷ বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি৷ দারিদ্র গ্রাস করেছিল পরিবারকে৷ প্রতিবেশীরা আর্থিক সাহায্য করতেন৷”

এলাকাবাসীর দাবি, শিল্পীও কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন৷ না হলে মৃতদেহ থেকে বের হওয়া পচা গন্ধ সহ্য করে কী করে একই ঘরে তিনি রইলেন৷ বাসিন্দারা এও জানান, এলাকায় কাকা ও ভাইঝি খুব একটা কারও সঙ্গে মিশতেন না৷ সবসময় ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখতেন৷ কিন্তু গত দিন দুই ধরেই পচা গন্ধ বের হচ্ছিল৷ তবে কোনও মানুষের দেহ পড়ে থাকতে পারে তা কেউ ভাবেননি৷ স্থানীয়দের অনুমাণ, ১ জুলাই মৃত্যু হয়েছে রাজারামবাবুর৷ কারণ গত তিনদিন ধরে তাঁদের ঘরের দরজা কেউ খেলেনি৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement