৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

বিরোধী শিবিরে ভাঙনের ঢেউ এবার আসানসোলেও

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 22, 2016 9:06 am|    Updated: August 22, 2016 9:06 am

An Images

নিজস্ব সংবাদদাতা: এবার বর্ধমানে বিরোধীদের ঘর ভাঙল৷ এই জেলায় বাম-কংগ্রেসের পাশাপাশি বিজেপির ঘরেও থাবা বসাল তৃণমূল৷ রবিবার আসানসোল পুরনিগমের চার বিজেপি কাউন্সিলর এবং ফরওয়ার্ড ব্লক ও কংগ্রেসের একজন করে কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগদান করেন৷ এছাড়া কংগ্রেসের এক জেলা পরিষদ সদস্য ও বিজেপি, সিপিএম এবং কংগ্রেসের জনাকয়েক নেতাও শাসক দলে নাম লেখান৷

রবিবার আসানসোলের রবীন্দ্র ভবনে রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে আসানসোল পুরনিগমের বিজেপি কাউন্সিলর সিকে রেশমা, ঊষা সিং, রাধা সিং, প্রবীর চট্টোপাধ্যায়, ফরওয়ার্ড ব্লকের কাউন্সিলর সাধন পাল ও কংগ্রেস কাউন্সিলর অমিত তুলসিয়ান তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন৷ এই দলবদলে ১০৫ আসনের আসানসোল পুরনিগমে তৃণমূলের সদস্য সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮৫৷ বিজেপির হাতে থাকল শুধুমাত্র একজন কাউন্সিলর৷ এই কাউন্সিলরদের সঙ্গেই অণ্ডাল ব্লক বিজেপির সভাপতি দীনেশ মাজি, কুলটির সিপিএম নেতা রাজকুমার সিং, কংগ্রেসের জেলা পরিষদ সদস্য বিষুণদেও সিং ও স্থানীয় নেতা সুদীপ্ত ঘটকও তৃণমূলে যোগ দেন৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নে অনুপ্রাণিত হয়েই তাঁরা তৃণমূলে এলেন বলে জানিয়েছেন দলত্যাগীরা৷ আসানসোলের বিজেপি সভাপতি তাপস রায় দলত্যাগীদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আখ্যা দিয়ে তাঁদের পদত্যাগ করে ফের নির্বাচনে জিতে আসার চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন৷ বর্ধমান গ্রামীণ বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দীর অভিযোগ, সিপিএমের মতো তৃণমূলও রাজ্যে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়৷ জেলা কংগ্রেস (গ্রামীণ)-এর সাধারণ সম্পাদক কাশীনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, কংগ্রেস কোনওদিনই আদর্শচ্যুত হবে না৷

এদিকে এই দলবদলের মঞ্চেও আসানসোল শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠল৷ দলীয় পর্যবক্ষক অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতেই একাধিক নেতা নিজেদের ক্ষোভ উগরে দেন৷ কুলটির বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিধানসভা ভোটে তাঁর দলের এক কাউন্সিলরই তাঁকে পিছন থেকে ছুরি মারার চেষ্টা করেছেন৷ উজ্জ্বলবাবুর দাবি, যখন আসানসোলে তৃণমূলের ঝুলি শূন্য, তখন তিনিই কুলটি পুরসভা নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দেন৷ কুলটির বিধায়ককে পাল্টা দিতে আসানসোলের বিধায়ক তথা শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক বলেন, “তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে আমার সংগ্রামের কথা আসানসোল-সহ বর্ধমানের মানুষকে বোঝাতে হবে না৷” মলয়বাবুর অভিযোগ, তাঁকেও বিধানসভা ভোটে হারানোর চক্রান্ত হয়েছিল৷ আবার মলয় ঘটককে আসানসোলের মেয়র জীতেন্দ্র তেওয়ারির. কটাক্ষ, “মলয় ঘটক ট্রমা সেন্টার তৈরি করলেও তার চিকিৎসক অন্য যে কেউ হতে পারেন৷”

নিজের বক্তব্যে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, “মলয় ঘটক থেকে শুরু করে আজকে যিনি তৃণমূলে যোগ দিলেন, আমরা সবাই সমান৷ আমাদের একজনই নেত্রী, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়নকে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিন৷ যাতে ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিরোধীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস না পান৷” পরে অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার করেন অরূপবাবু৷ তবে কুলটির শ্রমিক ইউনিয়ন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বর্ধমানের তৃণমূলের পর্যবেক্ষক জানান, জেলার সব শ্রমিক ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে৷ নয়া কমিটি গঠনের পরই বিভিন্ন কারখানায় কমিটি গড়া হবে৷ এই মন্তব্যের মাধ্যমে বকলমে মাত্র একদিন আগে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের তৈরি করা শ্রমিক ইউনিয়ন কমিটি নস্যাত্‍ করে দিলেন অরূপ বিশ্বাস৷ বিজেপি ও সিপিএমের কড়া সমালোচনা করে এদিন তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শুধু ভাষণ দিয়ে চলেছেন৷ সিপিএম এবার জাদুঘরে ঠাঁই পাবে৷”

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement