ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: চতুর্থীর বিকেল। গুমোট কাটিয়ে বিকেল থেকেই মেঘ সরছে আকাশে। নিম্নচাপের ফাঁড়া কাটলে পঞ্চমীর সকাল ফিরিয়ে দেওয়ার কথা শরতেরও। তারই প্রাক্কালে মানুষে মানুষে নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পালা শুরু হল রাজনীতির আঙিনায়।টানা পুজো উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে একপ্রকার সে কাজ শুরু হয়েই গিয়েছে। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্য শীর্ষ নেতাদের হাতেও পুজোর উদ্বোধন চলছে জেলায় জেলায়। ২০১৮ পার করেই ২০১৯। ভোটের বছর। সে কথা মাথায় রেখে খুব স্বাভাবিকভাবে শুধু তৃণমূলই নয়, পুজোয় মেতেছে অন্য দলগুলিও। বিজেপির বিধায়ক, সাংসদ ও নেতারাও উদ্বোধনে মেতেছেন।
[ ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, বিজ্ঞাপন বিতর্কে জড়াল ফরচুন]
শনিবার বিকেলে নবনীড় বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের সঙ্গে দেখা করার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। অন্যবার পঞ্চমী বা ষষ্ঠীতেই নবনীড়ে যান তিনি।এবার এলেন একদিন আগেই। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও আমি কলকাতার ‘নবনীড়’ বৃদ্ধাবাসে যাব। ওদের হাসিমুখ দেখা, ওদের সঙ্গে ভাল সময় কাটানো খুব আনন্দের। পুরো অনুষ্ঠানটি আমার ফেসবুক পেজে দেখা যাবে।” মহালয়া থেকে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো উদ্বোধনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। শাসকদলের নেতারাও মেতেছেন পুজোর উদ্বোধনে। শ্রীভূমির সুজিত বসু, চেতলার ফিরহাদ হাকিম, সুরুচির অরূপ বিশ্বাস, নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়রা যেমন আছেন, তেমনই জেলায় আছেন দলের অন্য নেতারাও। উত্তর কলকাতার বাগবাজার, পোস্তা, বড়বাজারে একাধিক পুজোর উদ্বোধনে ছিলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ কলকাতায় ছিলেন সুব্রত বক্সি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন ডায়মন্ডহারবারে পুজোর উদ্বোধনের সঙ্গে জড়িত। মেদিনীপুর ছাড়াও মুর্শিদাবাদের বহু পুজোর উদ্বোধন করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর আগেই দলীয় বৈঠকে ভোটের দামামা বাজিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। তার পরই পুজোয় জোরদার জনসংযোগের কাজ শুরু করে দিলেন তৃণমূলের নেতারা। দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “সামনের বছর লোকসভা ভোট। এই দুর্গাপুজোই তো একমাত্র সবচেয়ে বেশি জনসংযোগের সময়। সেই কাজই করা হচ্ছে।”
তৃণমূলনেত্রীর নির্দেশ ছিল, পুজোয় প্রত্যেক জনপ্রতিনিধি থাকবেন নিজের এলাকায়। সেই নির্দেশমতো শুধু কলকাতা নয়, বিভিন্ন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা জেলায় জেলায় নিজেদের এলাকায় ঘুরছেন। পুজোয় মেতে প্রবল জনসংযোগ করছেন। জেলার এক সাংসদ বলছেন, “পুজোয় প্রতি বছরই মেতে থাকা হয়। এবার তো পুজো কাটলেই ভোট। এর থেকে এত বড় সুযোগ পাওয়া যাবে না। নেত্রীর নির্দেশ মেনেই আমরা পুজোয় তাই জনসংযোগের কাজটা সেরে নিচ্ছি।” পুজোর উদ্বোধনে একাধিক জায়গায় গিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও।
[ ‘ছেলেই যখন নেই, তখন কীসের পুজো?’ উৎসবেও শোকের ছায়া দাড়িভিটে]
সর্বশেষ খবর
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ
-
‘কলাকুশলীরা বেশি ভুগেছেন…’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে কী বলছেন ‘বাজিগর’ অনির্বাণ?
-
তামিলনাড়ুতে বিজেপিতে মহাভাঙন! আন্নামলাই, নাগার্জুনের পর দল ছাড়লেন সুমতি
-
অস্তাচলে তৃণমূলের সূর্য! ২৮ বছর পর ‘ছুটি’ পেলেন মমতার ‘বক্সীদা’
-
সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে যাচ্ছেন রোহিত, ইংল্যান্ড সিরিজেও কোহলিকে নিয়ে অনিশ্চয়তা