BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

কাউন্সিলর অনিন্দ্যর জীবনযাপনে নজর গোয়েন্দাদের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 14, 2016 5:31 pm|    Updated: July 14, 2016 5:31 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন জীবনযাপন৷ ব্র্যান্ডেড জামাকাপড় থেকে দামি গাড়ি৷ রোজ রাতে কলকাতার বড় পানশালায় মদ্যপান৷ সেখানে আবার ‘বাবু’দের মতো টাকা ওড়ানো৷ ছোট ব্যবসা ও কাউন্সিলরের ভাতা নিয়ে এই সংগতিহীন জীবনযাপন বজায় রাখতেই এলাকার ফুচকাওয়ালা থেকে রিকশাওয়ালা, সবার কাছ থেকেই তোলা আদায় করত সল্টলেকের ধৃত কাউন্সিলর অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়৷ এখন সে শ্রীঘরে৷ দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই ‘তোলাবাজ’ কাউন্সিলর জেলে যাওয়ার পর, আপাতত স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন এলাকার হকার থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা৷ আতঙ্ক কাটিয়ে একে একে অনিন্দ্যর জোরজুলুমের কথা ব্যক্ত করছেন৷ ধৃত এই কাউন্সিলরের আয়বহির্ভূত সম্পত্তির হদিশ পেতে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ৷

পুরনিগমের নিয়ম অনুযায়ী মাত্র দশ হাজার টাকা ভাতা পান এলাকার কাউন্সিলররা৷ অনিন্দ্যও এই একই টাকা পেত৷ তবে যে মাত্রার জীবনযাপন সে করত, তাতে তো এই টাকা মাত্র একদিনের রসদ৷ এমনটাই জানাচ্ছেন তার ঘনিষ্ঠরা৷ এর পাশাপাশি একটি ব্যানার-হোর্ডিংয়ের ছোট ব্যবসা আছে অনিন্দ্যর৷ তাছাড়া বাড়ির নিচতলায় একটি ঘর ভাড়া৷ তবে এগুলি সব মিলিয়েও অনিন্দ্যর জীবনযাত্রার সঙ্গে তার সামঞ্জস্য পাওয়া যায় না৷ স্থানীয় ও অনিন্দ্যর ঘনিষ্ঠদের সূত্রে জানা যায়, আগে সে একটি সুইফট গাড়ি চড়ত, যদিও হঠাত্‍ সেই গাড়ি বদলে প্রায় দ্বিগুণ দামের ইনোভা গাড়ি ব্যবহার করা শুরু করে সে৷ শহরের নামীদামি রেস্তোরাঁয় খাওয়া ও সন্ধে হতেই বড় পানশালায় মনোরঞ্জন৷ এই ছিল অনিন্দ্যর রোজনামচা৷

এ তো গেল তার জীবনযাত্রার ধরন৷ এছাড়াও স্থানীয়দের অভিযোগ, তার জন্য আতঙ্কে থাকতেন এলাকার মহিলারাও৷ নাম প্রকাশ না করতে চেয়ে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, মাস তিনেক আগে সল্টলেকের ঝুপড়িবাজার এলাকায় নিজের গাড়ি নিয়ে রাস্তার উপর প্রকাশ্যে মদ্যপান করছিল অনিন্দ্য৷ সেই সময় এলাকার কয়েকজন মহিলা সেখানে বাজার করতে আসেন৷ তাঁদের দেখে অশালীন মন্তব্য করে অনিন্দ্য৷ শুধু অশালীন মন্তব্যই নয়, এই মহিলাদের কুপ্রস্তাবও দেয় সে৷ এই ঘটনার প্রতিবাদ করলে মারমুখী হয়ে ওঠে অনিন্দ্য৷ মহিলাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, “জানিস আমি কে?”

যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন৷ জোরজুলুম, মারধর, মহিলাদের কটূক্তি, রাস্তায় বসে মদ্যপান এত কিছু পরও শাসক দলের কর্মী হওয়ার কারণে মুখ বুজে সহ্য করতেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ তবে অনিন্দ্যর হাজতবাসের পর সব ক’টি অভিযোগ সামনে আসছে৷ ভয় কাটিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভের কথা জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ অনিন্দ্যর স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা৷ আয় বহির্ভূত কী কী সম্পত্তি আছে অনিন্দ্যর তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement