BREAKING NEWS

২ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

১৪ বাই ১৪-র লোহার সিন্দুকে সেজে উঠছে হিরের দুর্গা

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: September 23, 2016 10:05 am|    Updated: September 23, 2016 10:05 am

An Images

ব্রতদীপ ভট্টাচার্য: চোদ্দো বাই চোদ্দো ফুটের বিশাল লোহার সিন্দুক৷ তার ভিতরে কয়েক সপ্তাহ ধরে কিছু একটা হচ্ছে৷ চারিদিকে নাইট ভিশন সিসিটিভি ক্যামেরা৷ পাহারায় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী৷ প্রতি ঘণ্টায় পরিদর্শন করে যাচ্ছে থানার গাড়ি৷ এই ধরনের নিরাপত্তার কথা শুনে স্বাভাবিকভাবেই হলিউডের কোনও সিনেমার দৃশ্য বলে মনে হতে পারে৷

তবে না! সিমেনা নয়, বাস্তব৷ এই বিশালাকার রহস্যময় সিন্দুকের মধ্যে তৈরি হচ্ছে চার কোটি টাকার দুর্গাপ্রতিমা৷ হিরে আর সোনায় মোড়া দেবীমূর্তি৷ বহুমূল্যবান মূর্তি সিন্দুকে লুকিয়ে রাখার কথা অনেক গল্পেই পাওয়া গিয়েছে৷ তবে এক্ষেত্রে লুকিয়ে রাখা নয়, একেবারে সিন্দুকের মধ্যে বসেই চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ৷ অন্য দেশে বা রাজ্যে নয়, এই রাজ্যেই ঘটেছে আশ্চর্য ঘটনাটি৷ উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ার বাণীপুরে হাই সিকিউরিটির ঘেরাটোপে এই তাক লাগানো দুর্গা প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল৷

সাড়ে সাত ফুট উচ্চতার এই দুর্গা প্রতিমাটি তৈরি হয়েছে তিরুপতির মূর্তির আদলে৷ সাবেকি দুর্গার মতো দশভুজা নয়, কালো রঙের এই দুর্গামূর্তির থাকবে দুটি হাত৷ মাথার মুকুট ও পায়ের নুপুরে থাকবে হিরে ও সোনা৷ লক্ষ লক্ষ আমেরিকান ডায়মন্ড দিয়ে তৈরি হয়েছে মায়ের বস্ত্র৷ দেবীমূর্তির গায়ে থাকবে কয়েক কিলো সোনার গয়না৷ শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল জানিয়েছেন, জুলাই মাস থেকে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে৷ প্রথমে মাটি ও গ্লাস ফাইবার দিয়ে মূর্তিটি তৈরি করা হয়৷ প্রতিমাটির মূল আকর্ষণ অর্থাৎ হিরে ও সোনার কাজ শুরু হয়েছে গত সপ্তাহ থেকে৷ এত সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করার জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজন৷ তাই ঘরের মাপে লোহার সিন্দুক তৈরি করা হয় এবং জেলা পুলিশের কাছে নিরাপত্তা চাওয়া হয়৷

দশজন কর্মী প্রতিমা সজ্জার কাজ করছেন৷ কর্মীরা সিন্দুকে ঢুকে ভিতর থেকে তালা লাগিয়ে দেন৷ বাইরে পাঁচজন সশস্ত্র পুলিশ ২৪ ঘণ্টা পাহারায় থাকছেন৷ সিন্দুকের ভিতরে ও বাইরে ১৬টি নাইট ভিশন সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি চালাচ্ছে৷ তবে রাজ্যের মানুষ এই দেবীমূর্তির চাক্ষুষ দর্শন পাবেন না৷ কারণ হিরে আর সোনার এই দুর্গামূর্তিটি শোভা পাবে ত্রিপুরার আগরতলায় ছাত্রবন্ধু ক্লাবের পুজা মণ্ডপে৷ শনিবার পুলিশি পাহারায় বিমানে চেপে সপরিবার গন্তব্যে রওনা দেবেন দেবী দুর্গা৷

ইন্দ্রজিৎবাবুর কথায়, শুধু দুর্গাপ্রতিমাটি নয়, ওই ক্লাবের পুজা মণ্ডপটিও তিনি তৈরি করছেন৷ ভেলোরের শ্রীপুরমের শ্রী নারায়ণী পীতম স্বর্ণ মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে পুজা মণ্ডপটি৷ তবে মণ্ডপ যেরকমই হোক, দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করবে হিরে আর সোনায় মোড়া অপরূপ দুর্গা প্রতিমাটি৷ তাই হিরে আর সোনার তিরুপতি রূপের এই দুর্গাপ্রতিমা দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন আগরতলার মানুষ৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement