BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

অভিযাত্রীদের অবহেলায় ডাস্টবিন এভারেস্ট!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 7, 2016 1:01 pm|    Updated: August 7, 2016 1:01 pm

An Images

তরুণকান্তি দাস, কাঠমান্ডু: বরফের মধ্যে থেকে কোথাও উঁকি মারছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের মুখ৷ কোথাও হাঁ মুখ নিয়ে আকাশপানে তাকিয়ে ট্রেকিং শু৷ কোথাও বা গুচ্ছ পাকানো দড়ির মধ্যে ধাতব সিঁড়ির ভাঙাচোরা অংশ৷ সঙ্গী আরও অনেক কিছু৷ আমার, আপনার পাড়ার ডাস্টবিন নয়, এটা অন্নপূর্ণা বা এভারেস্টের বেসক্যাম্প৷ যেমন আমরা দই খেয়ে ভাঁড় ছুড়ে ফেলি, তেমনই শিখর ছোঁয়ার অদম্য নেশাক্রান্ত পর্বতারোহী এই সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলেন৷ ফেলতে থাকেন৷ এবং জমতে জমতে যেন আর এক পাহাড়ের চেহারা নেয় এইসব পরিত্যক্ত সামগ্রীর স্তূপ৷

এই স্তূপ নিয়ে ক্ষোভের অন্ত নেই নেপালে৷ কিন্তু হাজার বিধিনিষেধে কাজ হচ্ছে কই! অগত্যা একাধিক সংগঠন অভিযান চালিয়ে সাফাই করছে শৃঙ্গ পথ৷ এবং আড়ে-বহরে তা কতখানি তা বুঝতে ওজনটুকু মনে করিয়ে দিই, সর্বশেষতম সাফাই অভিযানে পাহাড় থেকে সমতলে নেমেছে প্রায় দশ টন মালপত্র৷ সেই অভিযানের কর্তা এভারেস্ট সামিটার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্তা দিবাস পোখরেল বিরক্তিভরে বলছেন, “সবার কাছে সগরমাতা যেন পিকনিক স্পট হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ রান্নাবান্না, খাওয়া-দাওয়া সেরে সবাই যেমন এঁটো কাঁটা ফেলে যায়, এও তেমন৷”

কেমন? ২৯ মে যেহেতু হিলারি ও তেনজিং নোরগে এই শিখরে চড়েছিলেন তাই সেই দিনটাতেই এভারেস্ট সাফসুতরো কাজ করে সামিটার্স অ্যাসোসিয়েশন৷ নেপাল সেনাও হাত লাগায়৷ ‘সেভিং মাউণ্ট এভারেস্ট ক্লিন আপ’ নামে শপথ পালনে নেমে তাঁরা দেখেন, বেস ক্যাম্প থেকে চূড়া পর্যন্ত যাত্রাপথে যেন মণিমাণিক্য ছড়ানো৷ একই ছবি অন্নপূর্ণা সার্কিটেও৷ পোখরায় নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন-এর বিশাল হলঘরে থরে থরে সাজানো ট্রেকারদের পরিত্যক্ত সামগ্রী৷

হালকা-পুলকা রান্নার স্টোভ, গ্যাস, তাবু, দড়ি, অক্সিজেন সিলিন্ডার, সিঁড়ি, ছেঁড়া ফাটা জুতো, নানাবিধ স্নে্া-বাইট প্রতিরোধী মলমের ফাঁকা টিউব এবং এখানেই শেষ নয়৷ এগুলির পাশেই সাজানো আছে সামান্য হলেও গুটখার প্যাকেট, লাইটার৷ এসবের সঙ্গী তাসের প্যাকেট৷ সাহেব, বিবি, গোলাম দিয়ে কাকে কে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা বরফের রাজ্যে করতে চেয়েছিল কে জানে?  প্রশ্নটা শুনেই নেপাল মাউণ্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি শান্তাবীরলামা বললেন, “আমরা প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে অনুমোদন, প্রতি পদে আবেদন করি, পাহাড় না বাঁচলে অভিযানটা করবেন কোথায়? কেউ কথা শোনে না৷”

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement