BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

প্রধানমন্ত্রীত্বের প্রত্যাশা নেই মমতার, দলের নজর দিল্লিতে

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 21, 2016 6:15 pm|    Updated: August 21, 2020 12:43 pm

An Images

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক:

উদ্দেশ্য ১- কেন্দ্রের প্রকল্প রূপায়ণে নাম কিনছে রাজ্য সরকার, এ ধারণার বদল ঘটানো৷

উদ্দেশ্য ২- দেশ জুড়ে বাড়তে থাকা সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসের প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দেওয়া৷

উদ্দেশ্য ৩-  ১৯-এর লোকসভায় তাঁর দল কেন্দ্রে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিলেও, তাঁর নিজের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীত্বের মসনদ কি না, তা স্বচ্ছ করে দেওয়া৷

একুশের মঞ্চে তিন তিনটে উদ্দেশ্য পূরণ করেই বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে অরবিন্দ-লালু-নীতিশের উপস্থিতিই তৃতীয় ফ্রন্টের জল্পনা বাড়িয়েছিল৷ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ বহুদিনের৷ তার বিরুদ্ধতা করতেই ধর্মনিরপেক্ষ জোট গড়া ও দিল্লি দখল করতে বিকল্প ফ্রন্ট তৈরির সম্ভাবনা সেদিন উড়িয়ে দেননি কেউই৷ মমতা যে কেন্দ্রে নির্ণায়ক শক্তি হয়ে উঠতে পারবেন তা জানেন অন্য আঞ্চলিক শক্তিগুলিও৷ এদিকে আন্তঃরাজ্য বৈঠকেও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়া করেছেন মমতা৷ রাজ্যের আইনশৃ্ঙ্খলায় কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অব্যবস্থা নিয়ে সরব হন৷ এদিনও বিরোধিতার সুর চড়া রাখলেন মমতা৷

দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া হয়েও সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে নীরব মমতা)

শহিদ দিবস স্মরণের মঞ্চ থেকে জানালেন কেন্দ্র বিভিন্ন প্রকল্পের কৃতিত্ব নিয়ে যে বিজ্ঞাপন করে তা সত্যি নয়৷ এমনকী সঠিক তথ্য না দিয়ে মানুষকে ভুল বোঝানোরও অভিযোগ করলেন তিনি৷ সম্প্রতি ৩৯টি স্কিমে কেন্দ্রের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ জানান তিনি৷ সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক করার যে প্রস্তাব দিয়েছে তারও সমালোচনা করেন মমতা৷ বলেন, এ রাজ্যে ৮০০ পঞ্চায়েতে ব্যাঙ্ক ও পোস্ট অফিস এখনও নেই৷ ফলত এই প্রস্তাব কার্যকরী হলে অসংখ্য সাধারণ মানুষ কাজ হারাবেন৷ এরপরই কেন্দ্রকে একহাত নিয়েছেন তিনি৷ সরকারি প্রকল্পে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযুক্তি করে কেন্দ্র সরকার যে নিজেদের প্রচার করতে চাইছে এমনটাই অভিযোগ তাঁর৷ নির্মল বাংলা আর স্বচ্ছ ভারত অভিযানের সাফল্য পাশপাশি তুলে ধরে বিজ্ঞাপনী চমকে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন৷ একই প্রশ্ন তোলেন কন্যাশ্রী প্রকল্প ও ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্পের সাফল্যের প্রসঙ্গেও৷ কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণই যে রাজ্যের একমাত্র ইউএসপি নয়, বরং রাজ্যের নিজের সাফল্যও নজরকাড়া সে কথা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি৷

(২১১ থেকে বেড়ে তৃণমূল এখন ২১৩)

কেন্দ্র সরকারেরর কাজকর্মের পাশাপাশি দেশ জুড়ে বাড়তে থাকা সাম্প্রদায়িকতার সংকট সম্পর্কেও এদিন প্রয়োজনীয় বার্তা দিলেন৷ গুজরাটে দলিতদের আক্রমণের নিন্দার পাশাপাশি তীব্র সমালোচনা করলেন শিক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে গৈরিক মেরুকরণেরও৷ এদিন ব্যক্তিস্বাধীনতার উল্লেখও করলেন বারবার৷ বললেন, এ রাজ্যে কোনওরকম সাম্প্রদায়িক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না৷ যে সাম্প্রদায়িকতা কেন্দ্রের বিজেপির দুর্বলতা, তার বিরোধিতায় রাজ্যকে শক্ত করে তুলে ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে এই সওয়াল যথেষ্ঠ ইঙ্গিতবাহীন৷ পাশাপাশি দেশে সন্ত্রাস বিরোধিতায় ভেদাভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে এক হওয়ারও ডাক দিয়েছেন তিনি৷

(২১-এর সমাবেশে মদন স্মরণ কবীর সুমনের)

তবে কি প্রধানমন্ত্রীর মসনদকেই পাখির চোখ করছেন মমতা? দ্ব্যর্থহীন জানিয়ে দিলেন, প্রধানমন্ত্রীত্বের কোনও প্রত্যাশাই নেই তাঁর৷ তিনি বাংলায় থেকে যেতে চান৷ আর চান আঞ্চলিক শক্তিগুলি শক্ত হয়ে এগিয়ে যাক ও দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অক্ষুণ্ণ থাকুক৷ অর্থাৎ দলকে দিল্লির দিকে এগিয়ে দিলেও, প্রধানমন্ত্রীত্ব নিয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন৷ তবে দিল্লি দখলই যে পাখির চোখ এদিন দলের প্রথম সারির নেতারা সে কথা বুঝিয়ে দিয়েছেন৷ এবং, বিজেপির বিরোধিতা করে তৃণমূল যে সর্বশক্তি নিয়েই ঝাঁপাবে, তা একরকম স্পষ্টই করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ থেকে সাম্প্রদায়িকতা প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে বিঁধে সে ইঙ্গিতই দিয়ে রাখলেন তিনি৷

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement