BREAKING NEWS

১২ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

মোদির কাছে ঋণ মকুবের দাবি মমতার

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 28, 2016 9:09 am|    Updated: July 28, 2016 9:09 am

An Images

কিংশুক প্রামাণিক, নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার রাতে তিনি বাড়িতে নৈশভোজে ডেকেছিলেন বিহারের নীতীশ কুমারকে৷ আর বুধবার সন্ধ্যায় তিনি নৈশভোজের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গেলেন দিল্লির অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাড়িতে৷ দুই কট্টর নরেন্দ্র মোদি বিরোধী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জোট-চর্চা করার মাঝেই এদিন দুপুরে দেখা করলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও৷ শুধু তাই নয়, সংসদে মোদির দরবারে বাংলার বঞ্চনা তথা ঋণ  মকুবের দাবি সামনে এনে কেন্দ্রের উপর চাপও বাড়িয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে মমতা যে নতুন কায়দায় ব্যাটিং শুরু করছেন, তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে দিল্লিতেও৷ একদিকে তৃতীয় ফ্রন্টের উদ্যোগ ও আবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা তুলে ধরা আসলে মমতার সূক্ষ্ম রাজনৈতিক কৌশল৷ সংসদীয় দলকেও এদিন কেন্দ্র বিরোধী আক্রমণ বাড়িয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে মমতা বলেন, বাম আমলের ঋণের বোঝা সামলাতে নতুন করে ঋণ করতে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গকে৷ কেন্দ্রীয় সরকার ঋণ মকুব বা গোটা বিষয়টির পুনর্বিন্যাস না করলে দেনার দায়ে রাজ্য ভেসে যাবে৷ উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে যাবে৷ পরে মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “কেন্দ্রীয় ঋণগ্রস্ত রাজ্যগুলির ঋণের পুনর্বিন্যাস করার জন্য আরও একটি কাঠামো তৈরি করা দরকার৷ ঋণ মকুবের ব্যবস্থা করতে হবে৷ আমি প্রধানমন্ত্রীকে এ কথা বলেছি৷” মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে এ নিয়ে কি কিছু আশ্বাস দিয়েছেন? জবাবে মমতা বলেন, “উনি দেখবেন বলেছেন৷”

 বস্তুত, গত সপ্তাহে দিল্লি এসে আন্তঃরাজ্য পরিষদের বৈঠকে যোগ দিয়েও মমতা ঋণের দায় ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প বন্ধ করা নিয়ে সরব হয়েছিলেন৷ এদিন আবার সেই বিষয়গুলি সামনে আনেন৷ কেজরিওয়ালের বাড়ি যাওয়া প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মূলত কেজরির মায়ের বিশেষ আমন্ত্রণেই তাঁর বাড়িতে যান৷ নৈশাহার না করলেও কেজরিওয়ালের বাড়িতে মমতা ফুচকা, আমের শরবতের মতো বাঙালি স্ন্যাকস খান৷ কেজরির বিধায়কদের গ্রেফতার প্রসঙ্গে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে মমতা বলেন, “নির্দিষ্ট ঘটনাটি জানি না৷ তবে কেন্দ্রীয় সরকার আঞ্চলিক দলগুলির প্রতি প্রতিহিংসামূলক মানসিকতা নিয়ে চলছে৷ তার সবচেয়ে বড় শিকার আমরা৷ কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা কাম্য নয়৷”

মঙ্গলবার রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে প্রায় দুই ঘণ্টা ছিলেন নীতীশ কুমার৷ বিভিন্ন বিষয়ে চর্চা হয়৷ পেট ভরে নৈশাহার সারেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী৷ পরে সাংবাদিকদের একটিও কথা না বলে বেরিয়ে যান তিনি৷ রাজনৈতিক মহল মনে করছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মমতা আসলে নানা কায়দায় কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছেন৷ বাংলার দাবি নতুন নয়৷ কিন্তু কোনও কাজ হয়নি৷ ঋণের ফাঁদ এতটাই বাড়ছে যে সামনের বছর থেকে সঙ্কট তীব্রতর হবে৷ কেন্দ্রকে দফায় দফায় অভিযোগ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কোনও প্রতিকার এতদিন পাননি৷ এখন তা পেয়ে যাবেন তা মনে করার কারণ নেই৷ ফলে সোজা আঙুলে ঘি উঠছে না বলেই তিনি পাল্টা কৌশল নিতে শুরু করলেন৷

এদিন দুপুর সাড়ে তিনটায় সংসদ ভবনে মোদির কাছে যাওয়ার আগে মমতা যান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির বাড়িতেও৷ সেখানে মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী টুকটাক একটু খান৷ জেটলির সঙ্গে রাজ্যের দুর্দশা নিয়ে অল্প কথা হয়৷ মোদির সঙ্গেও মমতার মাত্র পনেরো মিনিট ওয়ান টু ওয়ান কথা হয়েছে৷ তার মধ্যেই রাজ্যের বিষয়গুলি মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন৷ জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন জাতীয় স্বার্থে যে কোনও পদক্ষেপে রাজ্য কেন্দ্রের পাশে আছে৷ সেটা অন্য বিষয়৷ কিস্তু কেন্দ্রের উচিত রাজ্যের পাশে দাঁড়ানো৷

বস্তুত, ২১ জুলাইয়ের সভায় মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছিলেন, দিল্লি সফরে তারই প্রতিফলন ঘটছে৷ একদিকে তৃতীয় বিকল্প গড়ার উদ্যোগ, অন্য দিকে রাজ্যের দাবি তুলে ধরা, দু’টি কাজই তিনি করছেন৷ জোট হোক বা বঞ্চনা, মমতার অবস্থান অঙ্ক কষেই৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের বন্যার ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ চেয়েছেন৷ তাঁর অভিযোগ, তিস্তার উপর একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সর্বনাশ ডেকে এনেছে৷ বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্প, ড্যাম হচ্ছে৷ এর ফলে উত্তরবঙ্গ ভাঙছে৷ সিকিমের জন্য উত্তরবঙ্গে বন্যা হচ্ছে৷ বর্ষার সময় তিস্তার জল উপচে পড়ছে৷ অথচ এসব জেনেও কেন্দ্র কোনও টাকা দিচ্ছে না৷ গতবার বন্যায় সাত হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছিল৷ রাজ্য পেয়েছে সাতশো কোটি৷ তা-ও এসেছে ভোটের মুখে৷ এর বাইরে সব প্রকল্পের টাকা বন্ধ৷ মানুষ খাবে কী? উন্নয়ন হবে কী দিয়ে?

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement