BREAKING NEWS

৯ আশ্বিন  ১৪২৭  সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

দিল্লির রাজনৈতিক মহলে গুরুত্ব বেড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: July 26, 2016 9:31 am|    Updated: July 26, 2016 9:31 am

An Images

কিংশুক প্রামাণিক: রাজ্যের দাবিদাওয়া-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে এনডিএ সরকারের সঙ্গে আলাপ আলোচনা ও কেন্দ্রবিরোধী তৃতীয় বিকল্প গঠনের উদ্যোগ, এই দুই কর্মসূচি নিয়ে দিল্লি এসে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

সোমবার বিকেল পাঁচটা দশে মমতা রাজধানী পৌঁছন৷ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁর দিল্লিতে থাকার কথা৷ এই সময়ে মুখ্যমন্ত্রী যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন, তেমনই প্রধান বিরোধী নেতা-নেত্রীদের সঙ্গেও বৈঠক হবে৷ একটি সূত্র জানাচ্ছে, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গেও মমতার বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে কংগ্রেসেরই একটি মহল৷ যদিও এই বৈঠকের চেয়ে মমতা অনেক বেশি আগ্রহী বিরোধীদের নিয়ে একটি ব্লক বা জোট তৈরি করতে৷ গত ১৬ তারিখ মুখ্যমন্ত্রীদের সম্মেলনে তিনি যেভাবে রাজ্যের দাবিদাওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন, তাতে বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তি উৎসাহিত৷ তাঁরা চাইছেন নেতৃত্ব দিন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী৷ আজ মঙ্গলবার দুপুরে মমতা সংসদের সেন্ট্রাল হলে যাবেন৷ পরে যাবেন তৃণমূলের সংসদীয় অফিসে৷ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দিকে কড়া নজর শাসক বিজেপি ও কংগ্রেসের৷

বস্তুত, দ্বিতীয় দফায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক গুরুত্ব যে এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে, তা দিল্লিতে পা দিয়ে নিজেই টের পাচ্ছেন মমতা৷ দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল মমতা তাঁর বাড়ি নিয়ে গিয়ে লাঞ্চ অথবা ডিনার খাওয়াতে চান৷ মমতাকে অবশ্য তাকে বলছেন, অনলি টি৷ আবার তাঁর সঙ্গে বৈঠক করার জন্য পাটনা থেকে দিল্লি আসছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার৷ লালুপ্রসাদ, মুলায়ম, নবীনের দল মমতার সঙ্গে বসতে চায়৷ আবার সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীও মমতার সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্যের বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলতে আগ্রহী৷  কথা বলতে চান অরুণ জেটলি-সহ কয়েরজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও৷

আসলে বিধানসভা ভোটে বিশাল জয়ের পর মমতাকে কেন্দ্র করেই যে বিরোধী শিবিরে নতুন সমীকরণ দেখা দিতে পারে তা বিলক্ষণ বুঝে গিয়েছে বিজেপি হাইকম্যান্ড৷ তাই তারা তাতে গুরুত্ব দিতে চাইছে৷ সে কারণে ২১ জুলাইয়ের সভায় মমতা কেন্দ্র বিরোধী জেহাদ তুললেও সেভাবে তৃণমূলনেত্রীকে পাল্টা আক্রমণ করেননি বিজেপি নেতারা৷

পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মমতাকে কাছে টানতে চাইছে কংগ্রেসেরও একটি মহল৷ তারা মনে করছে, বিজেপি বিরোধী জোটে তৃণমূলকে রাখলে সংখ্যালঘুরা খুশি হবে৷ সবমিলিয়ে এই সময় মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর বাড়তি মাত্রা পেয়েছে৷ তাঁর সঙ্গে বৈঠক করার জন্য কার্যত হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছে৷

মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য সব অঙ্ক বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন৷ পরিস্থিতি উপভোগ করছেন তিনি৷ এই অবসরে দু’টি কাজ সেরে যেতে চাইছেন৷ এক, রাজ্যের দাবি সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা ও তৃতীয় বিকল্প গড়ার উদ্যোগে হাওয়া দেওয়া৷ এতে যেমন বিজেপির উপর তিনি চাপ বাড়াতে পারবেন, তেমনই জাতীয় নেত্রী হিসাবে নিজেকে তুলে ধরে সব বিরোধী দলগুলির নেতৃত্ব দিতে পারবেন৷ মনে রাখতে হবে, মমতা বলে দিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেই৷ কিন্তু রাজ্যের স্বার্থে আঞ্চলিক দলগুলি যদি এক হয় সেই চেষ্টা করে যাবেন৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement