২ আশ্বিন  ১৪২৭  রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

সন্দেহের বশে ‘তৃতীয়’ স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা, ধৃত প্রৌঢ়

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 16, 2016 9:24 am|    Updated: August 16, 2016 10:05 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: সন্দেহের বশে ‘তৃতীয়’ স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা প্রৌঢ়ের৷ ধরা পড়ার ভয়ে ঘরের মধ্যে রক্তাক্ত স্ত্রীকে ফেলে রেখেই পালিয়ে যায় ওই ব্যক্তি৷ শেষে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের একটি লজ থেকে ওই ব্যক্তিকে পর্ণশ্রী থানার পুলিশ গ্রেফতার করে৷

পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ কলকাতার পর্ণশ্রী থানা এলাকার নিউ পর্ণশ্রীতে এই ঘটনাটি ঘটে৷ এই অঞ্চলেরই বাসিন্দা কিশোর অধিকারী ওরফে সোনা (৫২)৷ নিউ পর্ণশ্রীতে সে থাকত তার তৃতীয় স্ত্রী মুনমুন অধিকারী (৩০)-র সঙ্গে৷ প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বহু আগেই ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে গাড়ির ব্যবসায়ী কিশোরের৷ যদিও পুলিশের কাছে খবর, এর কারণ তার দ্বিতীয় স্ত্রী৷ দ্বিতীয়বার কিশোর বিয়ে করার পরই গোলমাল শুরু হয় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে৷ এর পর প্রথম স্ত্রী তার জীবন থেকে সরে যান৷ দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে পর্ণশ্রী এলাকারই একটি বাড়িতে সংসার বাঁধে কিশোর৷ নতুন দম্পতি ভালই ছিল৷ কিন্তু এর মধ্যে মুনমুন নামে ওই যুবতীর সঙ্গে আলাপ হয় কিশোরের৷ ধীরে ধীরে বেড়ে চলে ঘনিষ্ঠতা৷ তারই জেরে মুনমুন কিশোরকে বিয়ে করতে বলেন৷ দ্বিতীয় স্ত্রীকে এড়িয়ে ওই প্রৌঢ় বিয়েই করে ফেলে মুনমুনকে৷ যদিও এবার আর দ্বিতীয় স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়নি সে৷ দ্বিতীয় ও তৃতীয়, দুই স্ত্রীর সঙ্গেই সংসার করতে থাকে ওই প্রৌঢ়৷ যদিও দুই ‘সতীন’ একসঙ্গে থাকতেন না৷ তৃতীয় স্ত্রীকে সে নিয়ে আসে নিউ পর্ণশ্রীর একটি বাড়িতে৷ কিন্তু বিয়ের কয়েক মাস যাওয়ার পর তৃতীয় স্ত্রী মুনমুনকেও সন্দেহ করতে থাকে কিশোর৷ শুধু ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, প্রায়ই মোবাইলে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে দেখে সন্দেহ হয় কিশোরের৷ যুবতী স্ত্রী অন্য বন্ধুর সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ তোলে ওই প্রৌঢ়৷ যদিও মুনমুন তা অস্বীকার করেন৷ বিষয়টি নিয়ে দম্পতির মধ্যে গোলমাল শুরু হয়৷ ধীরে ধীরে ওই সাংসারিক অশান্তি বড় রূপ নেয়৷ রবিবার সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হয়েছিল গোলমাল৷ রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ কিশোর একটি ছুরি নিয়ে বাড়ির মধ্যেই তাড়া করে তার স্ত্রীকে৷ মুনমুনের বুক ও পেটে ছুরির কোপ দিয়ে পালিয়ে যায় সে৷ রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যান প্রতিবেশীরা৷ আসেন তাঁর বাপের বাড়ির লোকেরাও৷ আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়েই কোনওমতে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানান ওই যুবতী৷ পুলিশ খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করে৷ ঘটনার পর থেকেই উধাও হয়ে যায় ওই প্রৌঢ় ব্যবসায়ী৷ পর্ণশ্রী থানার পুলিশের কাছে খবর আসে যে, বিষ্ণুপুরের একটি লজে লুকিয়ে আছে সে৷ সেই সূত্র ধরেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে৷ সোমবার সকালেই ওই লজ থেকে ধরা পড়ে যায় কিশোর৷ তাকে জেরা করে এই ঘটনা সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement