BREAKING NEWS

১২ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

২০১৬-র যে যে বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল দুনিয়া

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: December 31, 2016 4:55 pm|    Updated: December 31, 2016 5:08 pm

An Images

২০১৬-য় বহু বিপর্যয়ের সাক্ষী ছিল গোটা বিশ্ব। তা সে ভূমিকম্পই হোক বা ঘূর্ণিঝড়। প্রকৃতির কারল দৃষ্টি থেকে এবছরও রক্ষা পায়নি মানবজাতি। এবছর বহু ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দিয়েছে দুনিয়াকে। ধ্বংস করেছে সভ্যতার নিশানকে। তেমনই ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে শেষ হয়েছে বহু প্রাণ। প্রাণহানি, স্বজন হারানোর কান্না, নিঃশেষ, ধ্বংস, বীভৎসতা৷ এমনই কিছু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঘটনার উল্লেখ থাকল এই প্রতিবেদনে। সংকলনে সংবাদ প্রতিদিন

ভূমিকম্প

দিনটা যে বড়দিন৷ উৎসবের দিন৷ তো কি ? প্রকৃতি অবশ্য তা শুনল না৷ এটাই জীবনের সবথেকে কালো দিন হয়ে দাঁড়াল চিলিরবাসীর কাছে৷ বড়দিনের আমুদে মেজাজ নিমেষে পরিণত হল বিষাদে৷ তীব্র ভূমিকম্প৷ সবকিছু তছনছ হয়ে গেল৷ কম্পনের কেন্দ্রস্থল চিলির দক্ষিণে চিলো৷ কম্পনের মাত্রা ৭.৬৷ চিলি ছাড়াও কম্পন অনুভূত হল আর্জেন্তিনাতেও৷ মৃত্যু হল বহু মানুষের৷ চিলির নেভাল ওশিয়ানোগ্রাফিক সার্ভিস সুনামি সতর্কতা জারি করে৷ একই ভাবে ৯ ডিসেম্বর ভোর চারটেয় ভয়াবহ ভূমিকম্প চির ঘুমে পাঠিয়ে দিল দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় সলোমন দীপপুঞ্জের বহু বাসিন্দাকে৷ কম্পনের মাত্রা ৭.৮৷ প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টারের তরফে জারি হল সুনামি সতর্কতা৷

২০০৪ এর পর ফের একবার ২০১৬য় ভয়াবহ ভূমিকম্পের সাক্ষী ইন্দোনেশিয়া৷ দিনটা ৭ ডিসেম্বর, সুমাত্রা দ্বীপের বান্দা আচেহ এলাকায় বুধবার তীব্র কম্পন অনুভূত হয়৷ তীব্রতা ৬.৪৷ আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভের তরফে জানানো হয়, ভূমিকম্পের উৎসস্থল আচেহর দক্ষিণ-পূর্বে ১৭ কিলোমিটার গভীরে৷ মূল ভূমিকম্পের পরও ৫ বার কম্পন অনুভূত হয়৷ এদিকে প্রকৃতির রোষানল এবারও পিছু ছাড়েনি নেপালকে৷ ২০১৫-র ঘা এখনও শুকোনোর আগেই, ফের একবার মাঝারি ভূমিকম্পের সম্মুখীন নেপাল৷ ২০১৬-র ২৮ নভেম্বর নেপালে ফের ভূমিকম্প৷ কম্পন মাত্রা ৫.৫৷ কাঠমান্ডু-সহ উত্তর-পূর্ব নেপালে এই কম্পন অনুভূত হয়৷

২০১৬-য় ভয়াবহতার সাক্ষী ইতালিও৷ ২৪ অগস্ট, ২৬ অক্টোবর, ৩০ অক্টোবর ইতালির কাছে এই তিনটি তারিখের সমার্থক শব্দ ভূমিকম্প৷ ২৪ অগস্ট ৬.২, ২৬ শে অক্টোবর ৫.৫, আর ৩০ অক্টোবর ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৬.৬৷ তবে সমীক্ষা বলছে ২৪ অগস্টের পর ইতালিতে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২৫০টা ভূমিকম্প হয়েছে৷ যা প্রাণ কাড়ে অগনিত মানুষের৷ ভেঙে পড়ে বহু বাড়ি ও অফিস৷ এবছর তাই বারবার ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড হয়েছে ইতালির জনজীবন৷

earthquake

হারিকেন ম্যাথিউ

৮ অক্টোবর, প্রায় গোটা মধ্য আমেরিকা লণ্ডভণ্ড৷ হাইতিতে আছড়ে পড়ে হ্যারিকেন ম্যাথিউ৷ প্রাণ কেড়েছিল ৮০০-রও বেশি মানুষের৷ গোটা দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন৷ উপরে পড়ে বহু গাছ৷ ভেঙে পড়ে বহু বাড়ি৷ ফ্লোরিডা, উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলিনা, জর্জিয়া-সহ মধ্য আমেরিকায় জরুরী অবস্থা জারি করা হয়৷ এতটাই শোচনীয় অবস্থা হয় যে উদ্ধারকাজে নেমে নিখোঁজ হন উদ্ধারকারী দলের বহু সদস্য৷ সাম্প্রতিক কালে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে আছড়ে পড়া ঝড়গুলির মধ্যে ম্যাথিউ সবথেকে শক্তিশালী ঘুর্ণিঝড়৷ আতলান্তিক মহাসাগরে ঘনীভূত ঘুর্ণিঝড় জামাইকাতে হয়ে আরও শক্তি সঞ্চয় করে আছড়ে পড়ে হাইতিতে৷ প্রসঙ্গত, হাইতি আমেরিকার অন্যতম অন্যতম দরিদ্র দেশ৷ ঘটনার দুমাস পড়েও বিধ্বস্ত অবস্থা থেকে পুরোপুরি বেড়িয়ে আসতে পারেনি হাইতি৷

cyclone

সাইক্লোন ভারদা

১২ ডিসেম্বর৷ তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশে আছড়ে পড়ে সাইক্লোন ভারদা৷ এটা গত দুই দশকের সবথেকে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় বলে জানায় আবহাওয়া দফতর৷ মৃত্যু হয় বহু মানুষের৷ সাইক্লোন ভারদার জেরে প্রবল বৃষ্টিও শুরু হয় তামিলনাড়ুর চেন্নাইয়েও৷ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তামিলনাড়ু ও চেন্নাইয়ের বহু এলাকা৷ বিপর্যয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে তামিলনাড়ু-চেন্নাইয়ের বহু এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা৷ বন্ধ করে দেওয়া হয় স্কুল-কলেজ, অফিস৷ ভারদার জেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইন্টারনেট পরিষেবাও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে৷ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের তরফে জানানো হয় সমুদ্রের নিচে অপটিক ফাইবার ছিঁড়েছে৷ এককথায় ভারদায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে তামিলনাড়ুর জনজীবন৷ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও সেনা৷

vardah

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement