তপন বকসি: দেশের স্বাধীনতা লাভের বছরেই মুম্বইয়ে ‘নর্থ বম্বে সর্বজনীন দুর্গাপুজো’-র শুরু৷ স্বাধীনতার বয়সের সঙ্গে তাই এই পুজোর বয়সও এক৷ সময়ের হাত ধরে পরের দিকে যা ‘মুখার্জিদের পুজো’ নামে জনপ্রিয় হয়েছে৷ শশধর মুখোপাধ্যায়, সতীরানী দেবীদের সঙ্গে সেদিন সাহায্যকারী আরও যাঁরা সদস্য ছিলেন তাঁরাও এই পুজোর মতই ঐতিহাসিক হয়ে গিয়েছেন৷ মুখোপাধ্যায় পরিবার সেদিনও সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিল, আজও আছে৷ প্রজন্মের হাত ধরে যা, এখন ‘কাজল’ বা ‘রানি মুখোপাধ্যায়দের পুজো’ বলে লোকের মুখে মুখে ফেরে৷ এবার সেই পুজো ৬৯ বছর পড়ল৷ মুম্বইয়ের সান্তাত্রুজের ‘পোদার স্কুল’-এ বেশ কয়েক বছর এই পুজো হওয়ার পর গত আট বছর ধরে হচ্ছে জুহুর টিউলিপ স্টার হোটেলের পুল সাইডে৷ মোট প্রায় ২৮ হাজার বর্গফুট অঞ্চলে মূল প্রবেশদ্বার, লবি, মূল মণ্ডপ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জায়গা আর ফুডকোর্ট ও নানা বিপণনের স্টল থাকে প্রতিবছর এখানে৷ মুখোপাধ্যায় পরিবারের তৃতীয় প্রজন্ম সম্রাট মুখোপাধ্যায় ‘সংবাদ প্রতিদিন’-কে জানালেন, ‘মুম্বইয়ের পুজোর সংখ্যা আগে চেয়ে অনেক বেড়েছে৷ ভাল কথা৷ কর্পোরেট পুজোও অনেক পাবেন৷ কিন্তু আমাদের এই পুজোয় ফল কাটা, মায়ের মূর্তিতে অলংকার পরানো, ফুলের মালা পরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা সবাই সকাল থেকে মাঝরাত পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকি৷ এটা আমাদের ক্লাবের ঘরোয়া পুজো৷ এই পুজোতে আমরা কর্পোরেট জগতকে ঢুকতে দিই না৷ এটাই ঐতিহ্য৷ এটাই আমাদের সংস্কৃতি৷”
গত ৪২ বছর ধরে কলকাতার বিজয়গড় থেকে দশজনের টিম নিয়ে এখানে ঢাক বাজাতে আসেন সুজিত কুমার দাস৷ দশ হাজার বর্গফুটের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জায়গা সাজান পাপ্পুভাই৷ গত দু’বছর ধরে মূল মণ্ডপ আর প্রবেশদ্বার ও লবি সাজাচ্ছেন কিরণ ভাডেকর৷ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বাপি লাহিড়ি, অলকা ইয়াগনিক, শান, সাজিদ ওয়াজিদ, আলিশা চিনয়রা৷ সম্রাট বললেন, “প্রথমে বলে ফেলেছিলাম ৮ কোটি বাজেট৷ কিন্তু পুজোকে কোনও বাজেটে বাঁধা যায় না৷ টাকার অঙ্কটাও বড় কথা নয়৷ সারা বছরের আবেগ আর ঐতিহাসিক ঐতিহ্য আমাদের টেনে নিয়ে চলে সাগরের ঢেউয়ের মতো৷” উল্লেখ্য, সান্তাত্রুজের পূর্বে নর্থ বম্বে সর্বজনীন এবার ৬৯-এ পড়ল৷ প্রভাত কলোনির এই পূজো রঙ্গমৈত্রী সংসদ ক্লাবের অধীনে রেলওয়ে ইনস্টিটিশনের মাঠে হয়ে আসছে৷ উদ্বোধন করেছেন খারের রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ৷ ক্লাবের সভাপতি নির্যাস রায়চৌধুরি জানালেন, গত বছর থেকে অষ্টমীর সন্ধিপুজো দেখতে আসছেন মুম্বইয়ে আমেরিকার কনস্যুলেট৷ মুম্বই শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে কালামবোলির দুর্গা এবছর দ্বিতীয় বছরে পড়ল৷ পাঁচ বছরের প্রতিষ্ঠান শ্রীশ্রী কালিমাতা সংস্থার কর্ণধার অসীম সরকার বললেন, এই পুজোয় মেদিনীপুর থেকে পুরোহিত আসেন৷ অবাঙালিরাও মহারাষ্ট্রের নবরাত্রির মতোই দুর্গাপুজোকে আপন করে নিয়েছেন৷

সর্বশেষ খবর
-
অবশেষে গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা, সোনারপুরের কামালগাজি থেকে এনআইয়ের জালে
-
সমাজকে আদর্শের আয়না দেখায় ‘গোর্কির মা’, কেমন হল? পড়ুন রিভিউ
-
‘কলাকুশলীরা বেশি ভুগেছেন…’, স্বরূপের গ্রেপ্তারিতে কী বলছেন ‘বাজিগর’ অনির্বাণ?
-
তামিলনাড়ুতে বিজেপিতে মহাভাঙন! আন্নামলাই, নাগার্জুনের পর দল ছাড়লেন সুমতি
-
অস্তাচলে তৃণমূলের সূর্য! ২৮ বছর পর ‘ছুটি’ পেলেন মমতার ‘বক্সীদা’