BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

গোপন থাকছে না ঘরের কথা!

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 18, 2016 11:44 am|    Updated: August 18, 2016 1:10 pm

An Images

বুদ্ধদেব সেনগুপ্ত: গোপন কথাটি আর গোপন থাকছে না৷ পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ শাসকদলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছে৷ তাই পার্টির অন্দরের খবর দ্রুত পৌঁছে যাচ্ছে শাসকদলের নেতৃত্বের কানে৷ নিচুতলার নেতা-কর্মীদের মধ্যেও এই প্রবণতা দাবানলের মতো ছড়াচ্ছে এবং তার জেরেই দলবদলের ঘটনা ঘটছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র৷ এইসব সদস্যের পার্টিতে থাকার প্রয়োজন নেই বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি৷

বুধবার থেকে শুরু হওয়া পার্টির দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকের প্রথম দিনই আগামী প্লেনামের সাংগঠনিক খসড়া রিপোর্ট পেশ করতে গিয়ে জেলা নেতৃত্বকে কার্যত তিরস্কার করেন সূর্যকান্ত৷ তবে পাল্টা জেলা নেতাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় সীতারাম ইয়েচুরি, প্রকাশ কারাত, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সূর্যকান্ত মিশ্র ও বিমান বসুদেরও৷ শীর্ষ নেতৃত্ব রাস্তায় না নেমে শুধুই বন্ধ ঘরে বৈঠক করে দায়িত্ব পালন করছে বলে পাল্টা তোপ দাগে জেলা নেতৃত্ব৷

দিন যতই গড়াচ্ছে ততই ভাঙছে ঘর৷ একের পর এক পুরসভা, পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিচ্ছে শাসকদল৷ জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দলত্যাগের হিড়িক পড়ে যাওয়ায় চিন্তার ভাঁজ ক্রমশই গভীর হচ্ছে আলিমুদ্দিনের কর্তাদের কপালে৷ জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে শৃঙ্খলার অভাবের জন্যই দলবদলের ঘটনা ঘটছে বলে খসড়া রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে৷

তবে অনেকক্ষেত্রেই আবার শাসকদলের প্রলোভনে পার্টির নেতৃত্ব পা দিচ্ছে বলেও রিপোর্টে জানিয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক৷ এই পরিস্থিতিতে পার্টি সংগঠনকে আরও সুসংহত করতে আগামী মাসের ৩১ তারিখ থেকে কলকাতায় শুরু হচ্ছে রাজ্য পার্টির সাংগঠনিক প্লেনাম৷ প্লেনামে আলোচনার জন্য বুধবারই রাজ্য কমিটির সদস্যদের হাতে খসড়া রিপোর্ট তুলে দেওয়া হয়৷ রিপোর্টে রাজ্য সম্পাদক সংগঠনে আগাপাশতলা রদবদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে আলিমুদ্দিন সূত্রের খবর৷ পার্টির অন্দরে থাকা নিষ্ক্রিয় নেতা-কর্মীদের এবার যে আর রেয়াত করা হবে না, রিপোর্টেই তা উল্লেখ করা হয়েছে৷ এ ক্ষেত্রে প্রবীণ বা নবীন কোনও সদস্যই ছাড় পাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সূর্যকান্ত মিশ্র৷

তবে এদিনের বৈঠকের শুরুতে রাজ্য সম্পাদক একতরফা আক্রমণ চালালেও পরে প্রত্যুত্তর পায় পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব৷ শিলিগুড়ির জীবেশ সরকার, প্রাক্তন সাংসদ শমীক লাহিড়ী, মানব মুখোপাধ্যায় বা নেপালদেব ভট্টাচার্যরা পাল্টা আক্রমণ শানান৷ তাঁদের অভিযোগ, নেতৃত্ব শুধু বৈঠকের পর বৈঠক করে চলেছেন৷ রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার কথা ভাবছেন না৷ এই অবস্থা চলতে থাকলে এখনও যাঁরা পার্টিতে রয়েছেন তাঁরাও থাকবেন না৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement