BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

রাষ্ট্রপতির কাছে সাংসদরা, দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রস্তুতি তৃণমূলের

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 24, 2016 10:43 am|    Updated: August 24, 2016 10:43 am

An Images

স্টাফ রিপোর্টার: তিনি সাংবিধানিক প্রধান৷ রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসে তাঁর পক্ষে সব কিছু বলা সম্ভব নয়৷ সে কারণেই রাজ্যের দাবি নিয়ে তৃণমূল সাংসদদের কোনও আশার বাণী শোনানোর দায়িত্ব তাঁর ছিল না৷ কিন্তু টানা পঁয়তাল্লিশ মিনিট রাজভবনের বৈঠকে কার্যত শিক্ষকের ভূমিকা নিলেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়৷ তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দশ সদস্যের প্রতিনিধিদল মন্ত্রমুগ্ধের মতো পাঠ নিলেন প্রণববাবুর৷ রাজ্যের দাবি কতটা যুক্তিপূর্ণ, বঞ্চনা কতটা বাস্তব, তা প্রণববাবুর চেয়ে ভাল কারও জানার কথা নয়৷ কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপতির চেয়ারে বসে তা নিয়ে মন্তব্য করবেন কী করে? তবে বোঝালেন অর্থনীতির কঠিন সংকটের কথা৷ সে জিএসটিই হোক, আর প্রকল্পের বরাদ্দ ছাঁটাই৷

দাবি জানাতে এসে রাষ্ট্রপতির ‘ক্লাসে’ উদ্বুদ্ধ তৃণমূল শিবির৷ তারা মনে করছে, আগামিদিনে গোটা দেশকে কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরু‌দ্ধে নেতৃত্ব দিতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেই লড়াই শুরু হতে পারে কলকাতা থেকেই৷ শুধু অর্থনৈতিক অবরোধের বিরু‌দ্ধে নয়, একনায়কতন্ত্রের বিরু‌দ্ধেও লড়াই৷ পরে সাংবাদিক বৈঠকে সুদীপবাবু অবশ্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তাঁদের কী কথা হল, সে প্রসঙ্গে যাননি৷ বরং নবান্নে্ দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে কথাগুলি তুলে ধরেছিলেন, সেগুলির প্রতিধ্বনি করে বলেন, আমরা সমস্ত কিছু তথ্য আকারে রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরলাম৷ উনি দেখবেন বলেছেন৷

সুদীপবাবু আরও বলেন, “কেন্দ্র সরকার সীমাহীন বঞ্চনা করছে৷ রাজ্যকে অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে৷ প্রতি পদে কেন্দ্রের বঞ্চনার শিকার হচ্ছে রাজ্য৷” একেবারে পরিসংখ্যান দিয়ে সুদীপবাবু জানান, জানানো হয়েছে ৬৬টি প্রকল্পের মধ্যে মাত্র দু’টি প্রকল্পে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে রাজ্য সরকার৷ কিন্তু আর্থিক সহায়তা মিলবে না৷ এমনকী, ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ টাকা রাজ্যকে দিতে হবে বলে নির্দেশিকাও দিয়ে দিচেছ কেন্দ্র৷ অথচ রাজ্যের ক্ষেত্রে কোনও ভূমিকা থাকছে না৷ ১০০ দিনের কাজ, আইসিডিএস প্রকল্পে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ হাইওয়ের অবস্থা খারাপ৷ ইতিমধ্যে প্ল্যানিং কমিশন তুলে দিয়ে নীতি আয়োগে বিজেপির মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ চৌহানকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে৷ ছোট ছোট রাজ্যগুলিকে তার সদস্য করা হয়েছে৷ অথচ সেখানে পশ্চিমবঙ্গ বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নাম নেই৷ অর্থ বরাদ্দ কমে গেলে তা নিয়ে প্ল্যানিং কমিশনে বলার সুযোগ থাকত৷ এক্ষেত্রে সে সুযোগ নেই৷ তা নিয়েও সরব হন সুদীপবাবু৷ একেবারে অভিযোগের সুরে সুদীপবাবু বলেছেন, “কেন্দ্র সরকার ও বিজেপি দল প্রতি পদে পদে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে শুধু নয়, তারা চক্রান্ত করছে৷ আমরা রাজ্যের মানুষের কাছে সমর্থন চাইছি৷ যারা আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী, তারা রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করে যাব৷” প্রকল্প ছাঁটাই নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে মমতার সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সবংয়ের বিধায়ক মানস ভুঁইয়াও৷ বলেছেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নাম বাদ দিয়ে প্রকল্পগুলিতে আরএসএস-বিজেপি নেতাদের নাম দেওয়া হচেছ৷ মুখ্যমন্ত্রী প্রতিবাদ করেছেন৷ আমিও প্রতিবাদ জানিয়েছি৷ রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁর অনুরোধ, “আপনি রাষ্ট্রের পিতা৷ আপনি হস্তক্ষেপ করুন৷”

অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব ভারত তথা উত্তরবঙ্গে নারায়ণী সেনাকে বিএসএফ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ তা নিয়েও সরব হয়েছে তৃণমূল৷ রাষ্ট্রপতির কাছেও বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে তারা৷ এদিন ছিলেন সুব্রত বক্সি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মুকুল রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুখেন্দুশেখর রায়, কাকলি ঘোষদস্তিদার প্রমুখ৷ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ফিরহাদ হাকিম৷

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement