BREAKING NEWS

৪ আশ্বিন  ১৪২৭  মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

‘কন্যাশ্রী’ স্রেফ বিজ্ঞাপন নয়, বিয়ে রুখে প্রমাণ দুই নাবালিকার

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 14, 2016 9:09 am|    Updated: August 14, 2016 9:09 am

An Images

বিপ্লব দত্ত: কন্যাশ্রী দিবস-এর আগের দিন দুই কন্যার প্রতিবাদের রূপ৷ বাবা-মায়ের বিয়ের চেষ্টার প্রতিবাদে দুই নাবালিকার গর্জে ওঠার দিন শনিবার৷ এই দিনেই ওরা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে প্রতিবাদের ভাষায় চিঠি দিয়ে জানাল স্বপ্নের কথা৷ কন্যাশ্রী-র সার্থকতাও যেন রূপ পেল দুই বঙ্গকন্যার কাজে৷ আজ, সংবর্ধনা পাবে দু’জনেই৷

দুই নাবালিকার অত্যন্ত মিল৷ সম্পর্কে দুই বোন৷ দু’জনেই একই স্কুলে পড়ে৷ প্রতিবাদের পথও দু’জনের এক৷

নদিয়ার ধানতলা থানার হাজরাপুর গ্রামের দুই মুখচোরা মেয়ে যে এমন প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারে, আন্দাজ করতে পারেনি গোটা গ্রাম৷ কিন্তু নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সংকল্প, পড়াশুনো করে সীমানা ছাড়ানোর স্বপ্ন ওদের মানসিকভাবে দৃঢ় করে তুলেছিল৷

দুই নাবালিকা কৃপা মণ্ডল ও মিতালি মণ্ডল৷ কৃপা ১২ বছরের এবং মিতালি এখনও ১৬ পেরোয়নি৷ কৃপা পড়ে সপ্তম শ্রেণিতে৷ তার কাকার মেয়ে মিতালি পড়ে নবম শ্রেণিতে৷ কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা হাতে পেয়েছে সে৷ হাজরাপুর স্কুলে ভর্তির পর স্কুল কামাই প্রায় করেইনি দু’জনে৷ চার বোনের মধ্যে ছোট কৃপা৷ এক দিদির বিয়ে হয়েছে বাঁকুড়াতে৷ বাবা শঙ্কর মণ্ডল কাঠুরিয়ার কাজ করেন৷ কৃপার বক্তব্য, “বাবা আমাকে বাঁকুড়ায় নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিতে চাইছে৷ আমি তা চাই না৷” মা জয়ন্তী মণ্ডল বলেছেন, “একজন দেখতে চেয়েছিল৷ ওর দিদির কাছেই পাঠাচিছলাম৷ তবে আমরা জানি, ও নাবালিকা, এখন বিয়ে দেওয়া ঠিক নয়৷” মিতালির বাবা পরিমল মণ্ডলও ইদানীং মেয়ের বিয়ে নিয়ে কেমন যেন উঠে পড়ে লেগেছিলেন৷ মিতালির ভাল লাগেনি৷ একদিন আগেই তাকে দেখতে আসে পাত্রপক্ষ৷ শনিবারই তাই কৃপা-মিতালি মিলে স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে উদ্দেশ করে চিঠি লেখে৷

আর, তারপরই প্রকাশ্যে আসে ওদের প্রতিবাদ৷ স্কুলের প্রধানশিক্ষক সুজিতকুমার হোতা ছুটিতে থাকায় এদিন দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক কমলেশ মজুমদার৷ তিনি বলেন, “কৃপা প্রথমে চিঠি দিয়ে জানায়৷ চিঠিতে লেখা রয়েছে, তার দিদির বিয়ে হয়েছে বাঁকুড়াতে৷ বাবা বাঁকুড়াতে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিয়ে দিতে চাইছে৷ তার আবেদন, বিয়ে বন্ধ করা হোক৷ এরপর মিতালিও চিঠি দিয়ে জানায়, বাবা বিয়ে দিয়ে দিতে চাইছেন৷” এরপরই রানাঘাট-২ নম্বর ব্লকের বিডিও শিল্পী সিংহকে স্কুলের তরফ থেকে বিষয়টি জানানো হয়৷ বিডিও-র বক্তব্য, “দু’জনের মধ্যে একজন কন্যাশ্রী প্রকল্পের আওতায় এসেছে৷ রবিবারই কন্যাশ্রী দিবসে দু’জনকে ডেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে৷” দু’জনেই আপাতত দত্তফুলিয়া চাইল্ড লাইনে রয়েছে৷ সেখান থেকেই তারা যাবে বিডিও অফিসে৷ তবে এবার আর মুখচোরা মেয়ে হিসাবে নয়, প্রতিবাদের অন্যতম প্রতীক হিসাবে৷ এবং কন্যাশ্রী-র সফল বিজ্ঞাপনের প্রতীক হয়ে৷

 

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement