BREAKING NEWS

৭ আশ্বিন  ১৪২৭  বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ 

Advertisement

সম্পর্কের টানাপোড়েনেই স্ত্রী-সন্তানকে খুন করে আত্মঘাতী যুবক

Published by: Sangbad Pratidin Digital |    Posted: August 17, 2016 1:53 pm|    Updated: August 17, 2016 1:53 pm

An Images

স্টাফ রিপোর্টার:  স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক জানতে পেরে সন্তান-সহ স্ত্রীকে পরিকল্পনা করেই খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন স্বামী৷ স্ত্রীকে এক সহকর্মীর সঙ্গে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখার পর থেকেই বিবাদ শুরু আর তার জেরেই এই ঘটনা৷ এমনই মনে করছেন মৃতের পরিবার ও তদন্তকারীরা৷ বারাসতের ন’পাড়ার একই পরিবারের তিন সদস্যের রহস্যমৃত্যুর পর এমনই কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে৷ মৃতের আত্মীয়দের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে স্ত্রী ঈশিতাকে নবদ্বীপে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার নাম করে দমদমের বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন সুরজিৎ৷ এর পর থেকে তাঁদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি৷ সোমবার বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার হয় তিনজনের পচাগলা দেহ৷ তাই সুরজিৎ খুন করার উদ্দেশ্যেই স্ত্রীকে বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে এসছিলেন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা৷

উত্তর ২৪ পরগনা বারাসতের ন’পাড়ার বাসিন্দা সুরজিৎ রায় তাঁর স্ত্রী ঈশিতা৷ তাঁদের দু’বছরের মেয়ে আরাধ্যাকে নিয়ে ন’পাড়ার কালীবাড়ি রোডের বাড়িতে থাকতেন৷ সুরজিৎ ক্যুরিয়ারের কাজ করতেন৷ সুরজিতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বছর চারেক আগে দু’জনের বিয়ে হয়৷ প্রায় দেড় এক বছর ধরে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে অস্থায়ী পদে চাকরি করছিলেন ঈশিতা৷ সেখানেই এক সহকর্মীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি৷ এমনটাই দাবি সুরজিতের পরিবারের সদস্যদের৷ সুরজিতের আত্মীয় সঞ্জীব সাহা জানান, ঘটনার আঁচ পেয়ে ঈশিতার পিছনে নিজেই গোয়েন্দারিরি শুরু করেন সুরজিৎ৷ মাস ছয়েক আগে কলকাতার একটি পার্কে ঈশিতাকে তারই এক সহকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় হাতে নাতে ধরে ফেলেন তিনি৷ সুরজিৎ ওই ঘটনার ছবি তুলে পরিবারের সদস্যদের দেখান বলে দাবি করেন সঞ্জীববাবু৷ শুরু হয় বিবাদ যা শেষ পর্যন্ত ডিভোর্সের মামলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়৷ তবে দুই পরিবারের মধ্যস্থতায় ডিভোর্স হয়নি৷ এর পর থেকে বাপের বাড়িতেই থাকতেন ঈশিতা৷ প্রতি সপ্তাহে শনিবার বারাসতের বাড়িতে আসতেন এবং সোমবার সকালে চলে যেতেন৷ সুরজিতের মা শেফালিদেবী জানান, প্রায় এক মাস ধরে আসা-যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন ঈশিতা৷

সুরজিৎ ও ঈশিতার পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ঈশিতার বাপের বাড়ি গিয়ে নবদ্বীপে ঘোরানোর নাম করে বাড়ি নিয়ে আসেন সুরজিৎ৷ সেই দিন রাতেই শেষ বার তাঁদের দেখেন প্রতিবেশীরা৷ শনিবার থেকে ঈশিতার বাপের বাড়ি থেকে তাঁকে ফোনে না পেয়ে সুরজিতের আত্মীদের ফোন করেন৷ সেখান থেকে জানতে পারেন যে তাঁরা নবদ্বীপে যাননি৷ সুরজিতের মাকে ফোন করা হলে তিনি সোমবার আগরপাড়ায় মেয়ের বাড়ি থেকে বারাসতে ফিরে আসেন৷ বাড়িতে এসে দরজা বন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীদের ডাকেন৷ পচা গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তাঁরাই৷ দেহ তিনটি উদ্ধার করে সোমবার রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়৷ সূত্রে খবর, ময়নাতদন্তে দেখা যায়, গলা টিপে খুন করা হয়েছে ঈশিতা ও তাঁর দু’বছরের বাচ্চাকে৷ তদন্তকারীদের ধারণা স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে খুন করে তার পর নিজে আত্মঘাতী হয়েছেন সুরজিৎ৷ উত্তর ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে৷ দরজা ভিতর থেকে বন্ধ করা ছিল৷ তা সত্ত্বেও সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ ফরেনসিক ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞদের দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন৷ সব রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্বন্ধ নিশ্চিত হওয়া যাবে৷”

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement